ICC World Cup 2023: ১৬ বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে 'টাইমড আউট' পরিস্থিতি! একই আম্পায়ার ভিন্ন ভূমিকায় কীভাবে?
ICC World Cup 2023: বিশ্বকাপে গুরুত্বহীন শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশ ম্য়াচে ফলাফলের চেয়ে বড় আকার নিয়েছে টাইমড আউট বিতর্ক। বাংলাদেশ অধিনায়ক শাকিব আল হাসান থেকে শুরু করে রিজার্ভ আম্পায়ার আদ্রিয়ান হোল্ডস্টকের দাবি, যা হয়েছে নিয়ম মেনে।
হেলমেট বিভ্রাটে যথাসময়ে স্ট্রাইক নিতে পারেননি অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজ। বাংলাদেশ অধিনায়কের আবেদনে সাড়া দিয়ে নিয়ম মেনেই ম্যাথিউজকে প্যাভিলিয়নে যেতে বলেন আম্পায়াররা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটি প্রথম টাইমড আউটের ঘটনা।

আইসিসি বিশ্বকাপের নিয়মাবলিতেও টাইমড আউটের কথা উল্লিখিত রয়েছে। ম্যাথিউজ গতকাল সাদিরা সমরবিক্রমা আউট হওয়ার পর মাঠে নেমেছিলেন। খেয়াল করেন হেলমেটের স্ট্র্যাপ ভাঙা। তখন বল করছিলেন শাকিব আল হাসান। হেলমেট ছাড়া প্রথম বল খেললে অসুবিধা ছিল না। কিন্তু হেলমেট বদলাতে গিয়েই বিপত্তি।
কোনও ব্যাটার আউট হলে নতুন ব্যাটারকে স্ট্রাইক নিতে হয় ২ মিনিটের মধ্যে। বিশ্বকাপে তেমনই নিয়ম। ফলে ম্যাথিউজ আউট হন নিয়মের মধ্যেই। যদিও শাকিব আল হাসানের ক্রিকেটীয় স্পিরিট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রাক্তনরা। শ্রীলঙ্কা শিবিরও ক্ষিপ্ত। ম্যাচের মেজাজও ওই ঘটনার পর চড়ে। শ্রীলঙ্কা দল বাংলাদেশের কারও সঙ্গে হাত মেলায়নি।
অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজ ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করেছেন তাঁর সঙ্গে যা হয়েছে তা অন্যায়। আম্পায়াররা ভুল করেছেন বলেও মারাত্মক অভিযোগ করেছেন শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার। ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের সঙ্গে যখন শ্রীলঙ্কার খেলা হবে, এই ঘটনার রেশ তাতে যে থাকবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা শাকিবকে নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়েছে একাধিক মিম। কেউ বলছেন, শাকিব এমন সিদ্ধান্ত না নিলেই পারতেন। কারও আবার দাবি, ওই ঘটনার পর সাংবাদিক বৈঠক অবধি শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটাররা যে আচরণ করেছেন তাতে নিয়মের বাইরে না গিয়ে শাকিব যা করেছেন তা সঠিক। তবে গতকাল মুম্বইয়ের স্টেডিয়ামে এমন একজন ছিলেন যিনি আগেও এমন পরিস্থিতি দেখেছেন।
২০০৭ সালের জানুয়ারিতে কেপ টাউন টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্টের চতুর্থ দিনে ভারত ২.২ ওভারে ৬ রানে ২ উইকেট হারিয়েছিল। দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলে ডেল স্টেইনের শিকার হন বীরেন্দ্র শেহওয়াগ, তৃতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলে ওয়াসিম জাফর আউট হন, তাঁর উইকেটটি নেন মাখায়া এনতিনি। এরপরই তৈরি হয় নাটকীয় পরিস্থিতি।
চারে সচিন তেন্ডুলকরের ব্য়াট করতে নামার কথা ছিল। কিন্তু ফিল্ডিংয়ের সময় অনেকক্ষণ মাঠের বাইরে থাকায় সচিনের ব্যাট করতে নামার জন্য যে সময়ের বিধিনিষেধ ছিল, তা শেষ হওয়ার মিনিট তিনেক আগেই জাফর সাজঘরে ফেরেন। ফলে সচিনও ব্যাট করতে নামতে পারছিলেন না। সচিনের পর নামার কথা ছিল ভিভিএস লক্ষ্মণের। তিনি তখন বাথরুমে স্নান করছেন।
ক্রিকেটার, আম্পায়ার থেকে ধারাভাষ্যকাররা বুঝতে পারছিলেন না কেন ভারতের কেউ নামছেন না। ধারাভাষ্যকারদের কথায় তখন উঠে আসে টাইমড আউটের নিয়মের কথা। মাঠে দাঁড়িয়ে তখন ড্রেসিংরুমের দিকে তাকিয়ে অধিনায়ক রাহুল দ্রাবিড়। অনেকক্ষণ পর সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে নামতে দেখা যায়। সৌরভ নেমেই পরের বলে চার মারেন।
প্রশ্ন হচ্ছে, কেন সেদিন সৌরভকে টাইমড আউট দেওয়া হয়নি। তার কারণ, দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক গ্রেম স্মিথ আম্পায়ারদের জানান, ব্যাট করতে দেরিতে নামার যদি সুনির্দিষ্ট কারণ থাকে তাহলে তাঁরা টাইমড আউটের আবেদন করবেন না। নিয়ম থাকলেও সেদিন খেলোয়াড়সুলভ মানসিকতার পরিচয় দিয়েছিল প্রোটিয়া-বাহিনী।
কিন্তু বিশ্বকাপের ম্যাচকে যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করে ক্রিকেটীয় স্পিরিটকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে টাইমড আউটের আবেদন করেন শাকিব। গতকাল তখন মাঠে আম্পায়ার হিসেবে ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার মারাইস এরাসমাস ও ইংল্যান্ডের রিচার্ড ইলিংওয়ার্থ। টিভি আম্পায়ার ছিলেন ভারতের নীতিন মেনন। চতুর্থ আম্পায়ার ছিলেন আদ্রিয়ান হোল্ডস্টক, ম্যাচ রেফারি রিচি রিচার্ডসন।
এই এরাসমাসই আবার ছিলেন কেপ টাউন টেস্টের আসরে। সেদিন তিনি ছিলেন টিভি আম্পায়ারের ভূমিকায়। অন-ফিল্ড আম্পায়ার ছিলেন পাকিস্তানের আসাদ রউফ ও অস্ট্রেলিয়ার ড্যারিল হার্পার। চতুর্থ আম্পায়ার ছিলেন মারে ব্রাউন, ম্যাচ রেফারি রোশন মহানামা। ফলে কেপ টাউনের নিউল্যান্ডস থেকে দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়াম। দুই জায়গাতেই টাইমড আউট পরিস্থিতিতে কমন একজনই, আম্পায়ার মারাইস এরাসমাস।












Click it and Unblock the Notifications