ICC World Cup 2023: বাংলাদেশের অনুশীলনের আগে ভাঙল ইডেনের গেট! মিডিয়া গ্রুপে ক্লাবের মালির উপস্থিতিতে বিতর্ক
ICC World Cup 2023: সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় সিএবি সভাপতি হিসেবে স্বল্প সময়ের মধ্যে টি ২০ বিশ্বকাপ ইডেনে যেভাবে আয়োজন করেছিলেন তা ছিল চমকপ্রদ। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচও স্মরণীয় হয়ে রয়েছে।
কিন্তু সাত বছর পর ইডেনে বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজন হতে যখন ৪৮ ঘণ্টাও বাকি নেই, তখন ল্যাজেগোবরে দশা সিএবি কর্তাদের। আজীবন সদস্য থেকে সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠছে।

নরেন্দ্র মোদী-সহ বিজেপি নেতারা ডাবল ইঞ্জিন সরকারের হয়ে ব্যাট ধরেন। ডাবল ইঞ্জিন সরকারের নেগেটিভ দিকগুলি নিয়ে সরব হন বিরোধীরা। অনেকেই জানেন না, ইডেনে মিডিয়া ম্যানেজারের ক্ষেত্রে ডাবল ইঞ্জিনের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু সংবাদমাধ্যমকে সহযোগিতা দূরের কথা, তাঁদের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ উঠছে।
বিশ্বকাপ ম্যাচের পরিকল্পনার সঙ্গে অনেক আগে থেকেই যুক্ত বেতনভুক মিডিয়া ম্যানেজার। পরে তাঁর সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে যাঁকে, তিনি আগে স্বেচ্ছায় মিডিয়া ম্যানেজারের দায়িত্ব সামলাতেন। কিন্তু সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেই তিনি বলছেন, আমি পরে এসেছি। যা হওয়ার আগেই হয়েছে।
ফলে সংবাদমাধ্যমের অ্যাক্রিডিটেশন সংক্রান্ত ভুরি ভুরি যেসব অভিযোগ উঠেছে তার দায় এক মিডিয়া ম্যানেজার আরেকজনের উপর ঠেলতে চাইছেন। অপরজন কখনও বল পাঠাচ্ছেন কলকাতা ক্রীড়া সাংবাদিক ক্লাবের দিকে। কখনও বা বল পাঠানো হচ্ছে আইসিসি কিংবা বিসিসিআইয়ের কাছে।
বিসিসিআই সূত্রের মাধ্যমে যে কথা জানা যাচ্ছে তা অস্বস্তি বাড়াচ্ছে সিএবিরই। এমনকী কলকাতা ক্রীড়া সাংবাদিক ক্লাবেরও। বিসিসিআইয়ের মিডিয়া দেখভালের দায়িত্বে থাকা এক কর্তা সাফ জানিয়েছেন, রাজ্য ক্রিকেট সংস্থার পাঠানো তালিকা দেখেই অনুমোদন দিচ্ছে আইসিসি। ফলে দায়ভার বর্তাচ্ছে সিএবির উপরেই।
আইসিসি ফেসবুক বা ইউটিউবে নিষেধাজ্ঞার কথা জানালেও সরকারিভাবে বলেনি, ডিজিটাল মিডিয়াকে কার্ড দেওয়া হবে না। বিশ্বকাপ মাঝামাঝি অবস্থায় চলে এলেও সিএবি বা বিসিসিআইও সরকারিভাবে বিবৃতি জারি করে এমন কিছু জানায়নি। অভিযোগ, সিএবির এক মিডিয়া ম্যানেজার পছন্দের সাংবাদিকদের কার্ডের বন্দোবস্ত করে দিচ্ছেন। তাঁরা আবার তাঁকে ধন্যবাদও জানাচ্ছেন।
গোটা প্রক্রিয়া নিয়ে তুঙ্গে বিতর্ক। মিডিয়া ম্যানেজারের জন্যই বদনাম হচ্ছে স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে চলা সিএবির। এই বিতর্কের আবহেই এক অন্য বিতর্ক দেখা গেল। CWC2023 Kolkaka Accredited Media বলে এক গ্রুপ খুলেছেন সিএবির মিডিয়া দেখভালের দায়িত্বে থাকা অরিত্র চৌধুরী। যিনি চলেন মূলত মিডিয়া ম্যানেজারের অরিন্দম বসুর কথায়।
মিডিয়া গ্রুপে কোনও সংবাদমাধ্যম বা বিশ্বকাপ কভারেজের অনুমতি পাওয়া সাংবাদিক বা চিত্র সাংবাদিকদের উপস্থিতিই বাঞ্ছনীয়। কিন্তু সেই গ্রুপে রাখা হয়েছে কলকাতা ক্রীড়া সাংবাদিকের এক মালিকে। যা নিয়ে তুঙ্গে বিতর্ক। যাঁর নাম এই গ্রুপে রয়েছে তিনি সাংবাদিক নন। উল্টে ইডেনে খেলা হলে নানা অভিযোগ আগে উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
সাংবাদিকদের গ্রুপে এই মালির উপস্থিতির কারণ নিয়ে সদুত্তর মেলেনি। সাংবাদিকদের অ্যাক্রিডিটেশন পাওয়া বা না নিয়ে যে বিতর্ক তাতে সিএবির সঙ্গে সিএসজেসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে আগেই। এবার সিএবির মিডিয়া গ্রুপে মালির উপস্থিতি যেন মনে করাচ্ছে আইপিএলের সময় টিকিট নিয়ে একটি সংবাদমাধ্যমের ড্রাইভারের প্রেস বক্সে ঢুকে পড়ার ঘটনাকে।

এরই মধ্যে বিশ্বকাপের আগে ভাঙল ইডেনের গেট। বাংলাদেশ বনাম নেদারল্যান্ডস ম্যাচের ৪৮ ঘন্টা আগেই ৩ নম্বর গেট দিয়ে গাড়ি ঢুকতে গিয়ে সেই গেটের পাঁচিল ও দেওয়াল ভেঙে যায়। তড়িঘড়ি সিএবির লোকজন পরিস্থিতি সামাল দিয়ে পাঁচিল মেরামতির কাজ শুরু করেন। তবে ম্যাচের আগে সেটি স্বাভাবিক অবস্থায় আনা যাবে কিনা তা নিয়ে সংশয় থাকছে। এদিন ফের ইডেনের বাইরে মেম্বাররা টিকিট না পেয়ে বিক্ষোভ দেখান।












Click it and Unblock the Notifications