ICC World Cup 2023: প্রোটিয়া ভূমির কুঁড়ি ফুল ফোটাচ্ছেন কিউয়ি দেশে, রাচিনের মতোই কনওয়েও ভিনদেশী তারা
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে নিউজিল্যান্ডের জয়ের অন্যতম নায়ক ডেভন কনওয়ে এবং রাচিন রবীন্দ্র। বিশ্বকাপেও প্রথম ম্যাচে জোড়া শতরান করলেন দুই কিইয়ি ব্যাটসম্যান। শুধু শতরানের দিক থেকে নয়, আরও একটি দিক থেকে এই দুই ব্যাটসম্যানের দারুণ মিল রয়েছে। ডেভন বা রাচিন কেউই জন্মগতভাবে নিউজিল্যান্ডের নন।
রাচিন রবীন্দ্র বংশ পরিচয় ইতিমধ্যেই খবরের শিরোনামে এসেছে। কিন্তু ডেভন কনওয়েও নিউজিল্যান্ডের ভূমিপুত্র নন। তবে তিনি এশিয়া বা ইউরোপের কোনও দেশে জন্মগ্রহণ করেননি। আফ্রিকা মহাদেশ থেকে ক্রিকেটের টানে পাড়ি দিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ডে। তাও ছোটবেলায় নয়, মাত্র কয়েক বছর আগে।

১৯৯১ সালের জুলাই মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহনেসবার্গে জন্মগ্রহণ করেন ডেভন কনওয়ে। প্রোটিয়া ভূমিতেই শুরু করেন ক্রিকেট কেরিয়ার। দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেট লিগেও খেলেছেন ২০১৫ সালে। কিন্তু নিজের দেশে ক্রিকেটে ঠিক মতো অগ্রগতি না হাওয়ায় ২০১৭ সালে ২৬ বছর বয়সে কিউয়ি দেশে চলে যান ডেভন। সেখানেই শুরু করেন ক্রিকেট কেরিয়ারের দ্বিতীয় পর্ব।
তিন বছর নিউজিল্যান্ডে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলার পর ২০২০ সালে আইসিসি তাঁকে নিউজিল্যান্ডের জাতীয় দলের হয়ে খেলার ছাড়পত্র দেন। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি কনওয়েকে। ভিনদেশের জার্সিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন আন্তর্জাতিক মঞ্চে। অর্থ্যাত দক্ষিণ আফ্রিকান কুঁড়ি ফুল ফোটাচ্ছেল নিউজিল্যান্ডে।

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই কনওয়ে এবং রবীন্দ্র জুটি একাদিক রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে জোড়া শতরানের নজির ছিল ভারতের। ২০১১ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ হয়েছিল বাংলাদেশের মীরপুরে। সেই ম্যাচে শেহওয়াগ ওপেন করতে নেমে ১৭৫ রান করেছিলেন। কোহলি চারে নেমে অপরাজিত ছিলেন ১০০ রানে। প্রথম ম্যাচে ৩৭০ রান তোলে ভারত। সেই রেকর্ড ভেঙে দিলেন দুই কিউয়ি ব্যাটসম্যান।
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে কনওয়ে ১২১ বলে ১৫২ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। তাঁর ইনিংস ১৯ টি চার ও ৩ টি ছক্কা দিয়ে সাজানো ছিল। তরুণ রবীন্দ্র ৯৬ বলে ১২৩ রানে অপরাজিত ছিলেন। তিনি মারেন ১১টি চার ও ৫ছক্কা।

ম্যাচ শেষে ডেভন বলেছেন, 'আমরা অত্যন্ত ভাগ্যবান যে দারুণ পরিবেশে ব্যাট করার সুযোগ পেয়েছিলাম। সন্ধ্যাবেলায় লাইটে খেলাটা তাঁদের বাড়তি সুবিধা করে দেয়। প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভালো পারফরম্যান্স করায় আগামীদিনে তাদের গুরুত্ব অন্য দলগুলির কাছে অনেকটাই বৃদ্ধি পেল।'
সতীর্থ রবীন্দ্রের ইনিংস প্রসঙ্গে কনওয়ে বলেন, 'আমরা শুধু সতীর্থ নয়, খুব ভালো বন্ধুও। ক্রিজের বিপরীত দিকে দাঁড়িয়ে এমন দুরন্ত ইনিংস উপভোগ করাটা আমার কাছে সৌভাগ্যের।'












Click it and Unblock the Notifications