ICC CWC 2023: বিশ্বকাপের আসরে ইস্টবেঙ্গলকে নিয়ে নোংরামি! সিএবি তালিকা প্রকাশ করতেই ক্ষোভ সংবাদমাধ্যমগুলির
ICC CWC 2023: বিশ্বকাপের টিকিট পাচ্ছেন না সিএবির আজীবন সদস্যরা। ক্ষোভের আগুনের আঁচের ভয়ে সিএবি কর্তারা ঘরের সামনে বসাতে বাধ্য হয়েছেন বেসরকারি সংস্থার নিরাপত্তারক্ষীদের।
বাড়াতে হয়েছে ইডেনের নিরাপত্তা। স্টেডিয়ামের দর্শকাসন জল ঢেলে পরিষ্কার করা হলেও একাংশ কর্তা ও কর্মচারীদের জন্য সিএবির গায়ে যে কালির ছাপ লাগছে তা জল ঢেলে, সাবানে ধুলেও যাবে না।

বিশ্বকাপের ম্যাচ কভারের জন্য কলকাতার প্রথিতযশা সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক ও চিত্র সাংবাদিকরা আবেদন করলেও তাঁদের আবেদন নাকচ হয়ে গিয়েছে। যদিও কী কারণে আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে তা না জানিয়েছে আইসিসি, না জানিয়েছে বিসিসিআই, না সদুত্তর দিতে পারছে সিএবি। সিএবিতে জোড়া মিডিয়া ম্যানেজার থাকলেও তাঁরা বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছেন।
আজ একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে সিএবির তরফে বানানো হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে। বিশ্বকাপের অ্যাক্রিডিটেশন পাওয়া প্রচুর সাংবাদিক ও চিত্র সাংবাদিকের নাম সেই তালিকায় নেই। অনেক বেনো জলের আবেদনের কথা প্রকাশিত হয়েছিল ওয়ানইন্ডিয়া বাংলার প্রতিবেদনে। সেই প্রতিবেদনকে হাতিয়ার করে সিএবির জনৈক মিডিয়া ম্যানেজার ক্ষোভ প্রশমনে নেমেছেন।

আজ ইডেনে যখন বাংলাদেশ অনুশীলন করছে তখন নিজেকে কলঙ্কমুক্ত রাখতে মরিয়া হয়ে, ওই মিডিয়া ম্যানেজার নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা ধুলোয় মিশিয়েছেন। তাঁর ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে সংবাদমাধ্যমের। মিডিয়া ম্যানেজারের কাজ হলো, সাংবাদিকদের সঙ্গে সহযোগিতা করা। কিন্তু এখানে পুরো উল্টোটাই হচ্ছে বলে অভিযোগ। ফলে তাঁর ভাবমূর্তিও কলঙ্কিতই হচ্ছে।
সরকারিভাবে কোনও বিবৃতি নয়। কিন্তু হাওয়ায় ভাসিয়ে দেওয়া হচ্ছে, ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমকে ম্যাচ কভারের অনুমোদন দিচ্ছে না আইসিসি। ভালো কথা, কিন্তু সেটা সরকারিভাবে কেন উল্লেখ করা হচ্ছে না? অভিযোগ, ডিজিটাল মিডিয়ায় চাকরিরত অন্তত দুই সাংবাদিক ভুয়ো তথ্য দিয়ে অ্যাক্রিডিটেশন পেয়েছেন, নাম তুলে নিয়েছেন চূড়ান্ত লিস্টে।
একটি ডিজিটাল মিডিয়ার সাংবাদিক আবেদনের সময় ইলেকট্রনিক মিডিয়া লিখেছেন। অথচ তাঁরই এক সহকর্মী ডিজিটাল সিলেক্ট করে প্রত্যাখ্য়াত হয়েছেন। মজার ব্য়াপার হলো, ওই সংবাদমাধ্যমের চ্যানেল ও ডিজিটাল মিডিয়া অনুমোদন পেয়েছে। এখন দেখার দুজনেই ম্যাচ কভারের ছাড়পত্র পান কিনা। সেটা হলে পরবর্তী পদক্ষেপের পথে হাঁটবেন বঞ্চিত সাংবাদিকরা।
একজনের কার্ড হয়েছে ডিজিটাল মিডিয়ার নামে। তাঁর দাবি, তিনি নাকি তাঁদেরই সংস্থার তেলুগু সংবাদপত্রের হয়ে কভার করবেন। ভালো কথা। কিন্তু প্রশ্ন একটাই ওই সংবাদপত্র বা চ্যানেলের হয়ে আবেদন না করে তিনি কেন ডিজিটাল মিডিয়ার নামে আবেদন করলেন? সদুত্তর দিতে পারেনি সিএবি, সিএসজেসিও। অনেক মিডিয়ার অস্তিত্বের কথাও জানা নেই প্রথিতযশা সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের।
কিছুদিন আগে সিএবির তরফে জানানো হয়েছিল, সিএসজেসি বা কলকাতা ক্রীড়া সাংবাদিক ক্লাবের সঙ্গে কথা বলেই মিডিয়া লিস্ট তৈরি করা হচ্ছে। যদিও সিএসজেসি সভাপতি সুভেন রাহা বলেছিলেন, আমরা সিএবিকে বলেছি আইসিসি গাইডলাইন মেনে চলতে। আজও যখন চূড়ান্ত তালিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, সিএবির মতো তিনিও আইসিসির কোর্টে বল ঠেলছেন!
আজকের তালিকায় যে সংবাদমাধ্যমগুলির নাম রয়েছে তার কয়েকটিকে নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই। যেমন- খেলা ম্যাগাজিন মাসিক পত্রিকা। ইস্টবেঙ্গল ক্লাব থেকে প্রকাশিত ইস্টবেঙ্গল সমাচারও মাসিক পত্রিকা। খেলা আইসিসি বিশ্বকাপ কভারের অনুমোদন পেলেও ইস্টবেঙ্গল সমাচারের নাম নেই। কার্ড বণ্টনের সময়ও অন্যায়ের শিকার হয়েছিল ইস্টবেঙ্গল সমাচার।
প্রথমে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব থেকে প্রকাশিত ওই পত্রিকার সাংবাদিককে আরএনআই দেখাতে বলা হয়। কিন্তু আরএনআই ছাড়া অনেকেই কার্ড আগেই পেয়ে যাওয়ায় শেষ মুহূর্তে ইস্টবেঙ্গল সমাচারকে কার্ড দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু চূড়ান্ত তালিকা থেকে কেন ছাঁটা হলো? সদুত্তর নেই। যদি আরএনআই-ই মূল কারণ হয়, তাহলে সব পত্রিকার ক্ষেত্রে সেই নিয়ম মানা হয়েছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
তথ্য জানার অধিকার আইনেই এই লিস্ট কেলেঙ্কারি তথ্য সামনে আসবে। আবার খেলা নামক পত্রিকা দীর্ঘকাল বন্ধ থাকার পর চালু হয়েছে এবং বিশ্বকাপ কভারেজের অনুমোদন পেয়েছে। কিন্তু মাসিক খেলার পত্রিকা স্পোর্টস টাইম বাদ পড়েছে!
সংবাদমাধ্যমের একাংশের ক্ষোভ বাড়ছে কলকাতা ক্রীড়া সাংবাদিক ক্লাবের ভূমিকাতেও। বিশ্বকাপের বোধন কলকাতায় হতে যখন ৪৮ ঘণ্টাও বাকি নেই, তখন সিএবির ঢাল হয়ে দাঁড়াতে দেখা যাচ্ছে সিএসজেসিকে। কীসের স্বার্থে স্বার্থান্বেষী, অভিযুক্তদের বাঁচানোর এই প্রয়াস তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ফিফা বিশ্বকাপ, অলিম্পিক্স, এমনকী আইসিসি ইভেন্ট কভার করা সাংবাদিকরা নিজেদের শহরে বিশ্বকাপ কভার করতে না পেরে সিএবি ও সিএসজেসির ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। বাংলার ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থার কিছু অপদার্থ কর্তার সঙ্গে যোগসাজশেই কি কলঙ্কের কালি লাগছে ক্রীড়া সাংবাদিকদের ক্লাবে? দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি, দুটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান আজ ধিক্কারের মুখে পড়েছে।












Click it and Unblock the Notifications