ICC World Cup 2023: ইডেনে বিশ্বকাপে ব্রাত্য সাংবাদিকদের একাংশ, উদাসীন বর্তমান কর্তারা
বিশ্বকাপের জন্য সেজে উঠছে ইডেন গার্ডেন্স। শারদীয়ার পর্ব মিটলেই ক্রিকেট উৎসবে মেতে উঠবে কলকাতা। কিন্ত প্রদীপের নীচেই অন্ধকার। ইডেনে বিশ্বকাপে ব্রাত্য সাংবাদিকদের একাংশ। উপযুক্ত নথি সহকারে অ্যাক্রেডিটেশন কার্ডের জন্য আবেদন করা হলেও, অজানা কারণেই বাতিল হয়েছে একাধিক সংবাদমাধ্যমের আবেদন। কিন্তু নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই অনেক নামগোত্রহীন মিডিয়া হাউসকে অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড দেওয়া হয়েছে।
অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড নিয়ে সমস্যা নতুন কোনও বিষয় নয়। অতীতেও বিশ্বকাপেও এই ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে সাংবাদিকদের একাংশকে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে বর্তমান সিএবি কর্তাদের ভূমিকা নিয়ে। তাঁরা বিষয়টি নিয়ে একেবারেই উদাসীন। তাঁদের থেকে কোনওরকমই সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি বর্তমান সিএবি কর্তারা ঘনিষ্ঠ সাংবাদিকদের নিয়েই কাজ করতে বেশি পছন্দ করেন।

আইসিসির পক্ষ থেকে একদিনের বিশ্বকাপের জন্য একাধিক সংবাদমাধ্যমের আবেদনকে বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাতিলের কারণ জানানো হয়নি। এমনকি সিএবি মিডিয়ার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরাও এই বিষয়ে সন্দিহান। তাঁদের কাছেও নেই সঠিক জবাব। অথচ অতীতে কিন্তু এমন ঘটনা হয়নি। এর আগেও বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজন করেছে সিএবি। সেখানে সাংবাদিকরা সমস্যায় পড়লেই পাশে থাকতেন কর্তারা।
২০১৬ সালে টি২০ বিশ্বকাপের কথাই ধরা যাক। এক সাংবাদিক কার্ড নিয়ে সমস্যায় পড়েন। তৎকালীন সিএবির এক শীর্ষকর্তা ব্যক্তিগতভাবে উদ্যেগ নিয়ে সেই সাংবাদিকের কার্ড করিয়ে দেন। কিন্তু বর্তমান কর্তাদের কাছ থেকে এমন ব্যবহার আশা করা কল্পনার অতীত।

সিএবির প্রাক্তন সচিব সুবীর গঙ্গোপাধ্যায় এই বিষয়ে জানিয়েছেন, 'আমরা সময় বেশি দিতাম। আমরা দিন রাত এক করে কাজ করতাম। তাই মাঠের মানুষদের দুঃখ বেদনা এই গুলো বেশি করে বুঝতে পারতাম। কিন্তু এক এক জনের কাজের ধরন এক এক রকম। আমরা এক রকমভাবে কাজ করতাম।বর্তমানে যাঁরা দায়িত্বে আছেন তাঁরা নিজেদের মতো করে কাজ করেন।'
বিশ্বকাপ শুধু মাঠের খেলা নয়। গ্যালারিতে বসে খেলা দেখার সৌভাগ্য কতজন ক্রিকেট প্রেমীর হয়? বাকিদের কাছে খেলার তথ্য ও খবর পৌঁছে দেন সাংবাদমাধ্যমই। কিন্তু এবার ইডেনে ব্রাত্য থাকতে হচ্ছে একাধিক প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যমেকই। যারা দীর্ঘদিন ধরেই এই পেশার সঙ্গে যুক্ত।

অতীতে সিএবির মতোই সাংবাদিকদেরও অনেক সমস্যার মুশকিল আসান ছিলেন বিশ্বরূপ দে। তিনি এই বিষয়ে জানিয়েছেন, 'বর্তমানে কী হচ্ছে সেটা আমার জানা নেই। আমরা যখন ক্ষমতায় ছিলাম তখন কলকাতা ক্রীড়া সাংবাদিক ক্লাবের সঙ্গে সহযোগিতা বজায় রেখেই কাজ করতাম।এই টুকু বলতে পারি সাংবাদিকদের সঙ্গে কাজ করতে আমাদের কখনও সমস্যা হয়নি।'
বর্তমান কর্তারা, যদি একটু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতেন, তাহলে সারা বছর ক্রীড়া সাংবাদিকতা করে বিশ্বকাপে ব্রাত্য থাকতে হত না একাধিক সাংবাদিককেই।












Click it and Unblock the Notifications