World Cup 2023: বিশ্বকাপের ট্রফি নিয়ে ইডেন ফ্লপ শো-র অপেক্ষায়, সিএবি বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী নিয়েও ক্ষোভ
World Cup 2023: বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত ইডেন গার্ডেন্স। চোখধাঁধানো ক্লাব হাউস, কর্পোরেট বক্স থেকে গ্যালারিতে নতুন আরামদায়ক চেয়ার, সবই হয়েছে। কিন্তু বিশ্বকাপের মতো ইভেন্টের জন্য কর্তারা কতটা প্রস্তুত তা নিয়ে থাকছে প্রশ্ন।
আজ এবং কাল দুটি বড় ইভেন্ট রয়েছে সিএবির। কিন্তু তা যে ফ্লপ শো হতে চলেছে তা আগাম বলে দেওয়াই যায়। প্রথা ভেঙে সিএবির বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অন্য চমক দেওয়ার চেষ্টা হলেও তা ব্যুমেরাং হচ্ছে। বাড়ছে ক্ষোভের আগুন।

ইডেনে বিশ্বকাপ-সহ অনেক বড় ইভেন্ট হয়েছে। কিন্তু এবার তার তুলনায় প্রস্তুতির হাল তথৈবচ। কর্তাদের মধ্যে যে মেলবন্ধন নেই তা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। ছন্নছাড়া দশা বললেও যাকে কম বলা হয়। সিএবির অন্দরে তাই এখনই কথা উঠতে শুরু করেছে বিশ্বকাপ সফল করতে শেষ অবধি আসরে নামতেই হবে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ও অভিষেক ডালমিয়াকে।
একজন অধিনায়ক ততটাই ভালো যতটা ভালো তাঁর দল। স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়ের আশেপাশে যাঁরা রয়েছেন তাঁদের যোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে। এক শীর্ষকর্তা তো বলেই দিলেন, আমি অ্যাসোসিয়েশনে না থাকলেও ক্রিকেট মাঠে থাকব আজীবন। কিন্তু অ্যাসোসিয়েশনে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত ক্রিকেটকে। সেটা হচ্ছে না। এভাবে কাজ হয়?
ভুল কিছু বলেননি ওই কর্তা। ওঝা-গজা থেকে অনু-পরমাণুদের সৌজন্যে সিএবির গরিমাও যে ধাক্কা খাচ্ছে! আজ বিশ্বকাপের ট্রফি আসছে ইডেনে। আগে হলে অনুষ্ঠানের যাবতীয় প্ল্যান সংবাদমাধ্যমকে জানাত সিএবি। চেষ্টা করা হতো ক্রিকেটপ্রেমীদের সামিল করে উৎসবের আবহ তৈরি করতে। কোথায় কী? রেগুলার মাঠ করা সাংবাদিকরাও যে ব্রাত্য থাকছেন। শেষে দয়ার দান দেখানোর অপচেষ্টা চাপের মুখে।
সে প্রসঙ্গ অন্য প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে বিস্তারিতভাবে। মিডিয়া ম্যানেজার সংবাদমাধ্যমকে সহযোগিতা না করে একরোখা, নাক উঁচু মনোভাব নিয়ে সাংবাদিকদের নিজের পোষ্য ভাবছেন কোন কোন কর্তার ঘনিষ্ঠতা দেখিয়ে, সে তথ্য প্রমাণ ও যুক্তি-সহ তুলে ধরা হবে। যতই সিএবি গঠনমূলক সমালোচনাকে পাত্তা না দিক। সংবাদমাধ্যম দায়িত্বশীলতাই দেখাবে।

বিশ্বকাপ ইডেনে আসছে। আগে থেকেই সিএবি সূত্রে খবর পাওয়া গিয়েছিল, হরভজন সিং, বীরেন্দ্র শেহওয়াগরা থাকবেন। দিন যত এগিয়ে এল দেখা গেল সব ভোকাট্টা। শহরে শোভাযাত্রাও হচ্ছে না। সাকুল্যে মিনিট ৪৫-এর অনুষ্ঠান। তাতে তারকা আকর্ষণ তেমন থাকছে না। রাজ্যের কয়েকজন মন্ত্রীর থাকার কথা। আতসবাজির প্রদর্শনী তো পাড়ার ক্লাবেও হয়!
সিএবি সভাপতি স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায় বলেছেন, অর্জুন পুরস্কার প্রাপ্ত সব ক্রীড়াক্ষেত্রের তারকাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছি। সুনীল ছেত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও আমার সঙ্গে কথা হয়নি। লিয়েন্ডার পেজ আসবেন বলে জানিয়েছেন। প্রশ্ন উঠছে, বিশ্বকাপ খেলা একজন ক্রিকেটারকেও আনা গেল না আজ? ঝুলন গোস্বামী তো সিএবির সব অনুষ্ঠানেই থাকেন।
বিশ্বকাপ নিয়ে ল্যাজেগোবরে দশা। তার মধ্যেই বিতর্ক সিএবি-র বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান নিয়ে। এই প্রথম সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকছেন না ভারতের প্রাক্তন কোনও ক্রিকেটার। গত বছর ঝুলন ছিলেন প্রধান অতিথি। সর্বোপরি ছিলেন সৌরভ। যিনি আপাতত লন্ডনে রয়েছেন। তিনি যে এবার সিএবি বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে থাকবেন না তা জানা গিয়েছে আগেই।
সিএবি সূত্রে জানা গিয়েছিল, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসবেন। কিন্তু তিনিও আজ দিল্লি চলে যাচ্ছেন। রাষ্ট্রপতি সিভি আনন্দ বোসের কথাও হাওয়ায় ঘুরছিল, তিনিও রাজধানীতে থাকবেন শনিবার। স্নেহাশিসের কথায়, ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস থাকবেন। আর থাকছে নচিকেতা চক্রবর্তীর গান। তাঁর সঙ্গে ইন্ডিয়ান আইডলে ভালো গান গাওয়া মেয়েটি। নামটা মনে করে বলতে পারলেন না স্নেহাশিস।
সিএবির এক প্রাক্তন কর্তা বললেন, বরাবর সিএবিতে দেশের প্রাক্তন ক্রিকেটারদের আনা হতো পুরস্কার প্রাপকদের উৎসাহিত করতে। কখনও মুখ্যমন্ত্রী এসেছেন, কখনও রাজ্যপাল। কিন্তু এবার যা হচ্ছে তা কোনও দিন হয়নি। ক্রিকেটের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে তফাত কি বোঝেন এখনকার পদাধিকারীরা।
বিশ্বকাপের আগে এখনও পর্যাপ্ত সময় রয়েছে। ইডেন সংস্কারের পর যেভাবে সেজে উঠেছে তেমনভাবেই বিশ্বকাপের জন্য কর্তাদের সাজগোজ বা প্রস্তুতি দেখে বিভিন্ন মহলে শঙ্কা তৈরি হচ্ছে। তবে সকলেই চাইছেন, স্নেহাশিসের নেতৃত্বে সফলভাবেই আয়োজিত হোক বিশ্বকাপ। কিন্তু বিশ্বকাপের আগে দুটি বড় ইভেন্টের দৈন্যদশা, কঙ্কালসার চেহারা নিয়ে ক্ষোভের আগুন ধিকধিক করে বাড়ছে।
(ছবি- সিএবি অফিসিয়াল ফেসবুক)












Click it and Unblock the Notifications