ICC CWC 2023: ইডেন নিয়ে আবেগাপ্লুত সৌরভ! রাজ-মহারাজের যুগলবন্দিতে বিশ্বকাপে কীভাবে বাকিদের টেক্কা দিল সিএবি?

ICC CWC 2023: বিশ্বকাপে কোন ম্যাচটি সেরা তা নিয়ে চর্চা চলছে। তবে মাঠের নিরিখে কোনটি সেরা? নিশ্চিতভাবেই বলা যায় ইডেন গার্ডেন্স। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রশাসনিক দক্ষতা যেখানে বড় ফ্যাক্টর। অক্লান্ত পরিশ্রম ও টিম স্পিরিটে সিএবি সভাপতি স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়ও লেটার মার্কস পাচ্ছেন।

সিএবি সভাপতি হওয়ার পর সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় যেভাবে ২০১৬ সালের টি ২০ বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ, জোড়া ফাইনাল-সহ ম্যাচ আয়োজনে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন, সেই প্রক্রিয়ার ধারা এবার এবার সিএবিকে নিয়ে গেল উন্নততর জায়গায়।

ICC CWC 2023: ইডেন নিয়ে আবেগাপ্লুত সৌরভ!

ইডেন ঠিক করে দিয়েছে আমেদাবাদে ভারত-অস্ট্রেলিয়া ফাইনাল হবে। দক্ষিণ আফ্রিকা পরাস্ত। অনেকেই খেয়াল করেননি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ইডেনের মাঠে ঢুকলেন। প্রণাম করলেন। ২০০৩ সালে সৌরভের ভারত বিশ্বকাপ জয়ের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। তবে ফাইনালে শেষরক্ষা হয়নি।
অস্ট্রেলিয়ার কাছে সেবার হারতে হয়।

এবার সৌরভ ইডেন থেকেই রোহিতদের কাপ জয়ের প্রার্থনাও করলেন। অধিনায়ক হিসেবে যেটা করতেন এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। যেদিনই নানা ব্যস্ততা সামলে ইডেনে গিয়েছেন, দেখেছেন ইডেনের উইকেট। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের গাইডেন্সেই কিউরেটর সুজন মুখোপাধ্যায় ইডেনের পিচ ও আউটফিল্ডকে দেশের কাছে দৃষ্টান্ত করে তুলেছেন।

আইসিসির পিচ পরামর্শদাতা অ্যান্ডি অ্যাটকিনসন ইডেনের উইকেট ও আউটফিল্ডের ভোলবদলে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। তবে তিনিও জানেন, আইপিএলে একাধিকবার ইডেন সেরা মাঠের স্বীকৃতি পেয়েছে। অ্যাটকিনসনকে সুজন মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এটা সম্ভব হয়েছে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্যই। বিশ্বকাপে যেখানে পিচ বিতর্ক, ইডেন কিন্তু তা থেকে অনেক দূরে।

ম্যাচের শেষে সৌরভকে পাশে নিয়ে স্নেহাশিস সিএবির স্টাফ, কমিটির সদস্যদের নিয়ে দুটি কেক কেটে উদযাপন করেছেন সফলভাবে বিশ্বকাপ আয়োজনের। উৎসাহিত করেছেন কিউরেটরদের। সিএবি সভাপতি হওয়ার পর বিশ্বকাপই স্নেহাশিসের কাছে ছিল অগ্নিপরীক্ষা। সৌরভের দাদা যেভাবে দিন-রাত এক করে বিশ্বকাপ আয়োজনে নিজেকে কাজের মধ্যে ডুবিয়ে রেখেছেন, সেটাই দৃষ্টান্ত।

এমনও দিন গিয়েছে বিগত মাস চারেক ধরে যে, সকাল ৮টায় সিএবিতে এসে রাত ২টোয় বাড়ি ফিরেছেন স্নেহাশিস। বাড়ি ফিরেও বিশ্বকাপ সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ সারতে ভোর হয়ে গিয়েছে। তারই মধ্যে সংবাদমাধ্যমের নানা প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। ধৈর্য্য ধরে, ক্রিজে আঁকড়ে থেকে যেভাবে প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে ম্যাচ বের করতে হয়, তার পরিচয় রেখেছেন ময়দানের প্রিয় 'রাজ'।

ইডেনে অস্ট্রেলিয়া-দক্ষিণ আফ্রিকা সেমিফাইনাল দেখতে এসেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার কনসাল জেনারেল। তিনিও ইডেনের সৌন্দর্য, আতিথেয়তায় মুগ্ধ। মুগ্ধ মহারাজের ক্রেজে। সে কথা এক্স হ্যান্ডলে দুটি ছবি পোস্ট করে জানিয়েও দিয়েছেন। দেশ-বিদেশের যে অতিথিরা ইডেনে এসেছেন, ম্যাচ দেখার বন্দোবস্ত, খাওয়া-দাওয়া সব কিছুতেই খুশি।

এ তো গেল গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কথা। ৫০ ওভারের ম্যাচে অন্তত ৮ ঘণ্টা মাঠে কাটাতে হয় দর্শকদের। সিএবি বিশ্বকাপের গাইডলাইন মেনে পানীয় জল বিনামূল্যে প্রদানের বন্দোবস্ত করেছিল। উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা গিয়েছে শৌচাগারগুলিতেও। আধ ঘণ্টা অন্তর অন্তর সব টয়লেট পরিষ্কার ছিল। এতটুকু দুর্গন্ধের অভিযোগ আসেনি সোশ্যাল মিডিয়ার যুগেও।

দর্শক স্বাচ্ছন্দ্যকে যেভাবে ইডেন এবার অগ্রাধিকার দিয়েছে তা প্রশংসনীয়। সৌরভ নিজে ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছেন, টিভিতে খেলা দেখার সময় ইডেনকেই সবচেয়ে বেশি সুন্দর মনে হয়। কথাটা ১১০ শতাংশ খাঁটি। সে কারণেই প্রচুর মানুষ মাঠে এসেছেন। ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ তো হাউসফুল ছিল। নন-ইন্ডিয়া ম্যাচগুলিতেও দর্শকসংখ্যা ৫০ হাজারের গণ্ডি পেরিয়েছে।

চলতি বিশ্বকাপে দেখা গিয়েছে ভারতের ম্যাচেও অনেক স্টেডিয়ামেই গ্যালারি ফাঁকা। সেখানে ইডেনে সেমিফাইনাল-সহ একাধিক নন-ইন্ডিয়া ম্যাচে ৫০ হাজার দর্শকের উপস্থিতিই প্রমাণ করে দেয় বাকিদের কীভাবে টেক্কা দিয়েছে ইডেন। ইংল্যান্ড-পাকিস্তান, পাকিস্তান-বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে গ্যালারিতে মেক্সিকান ওয়েভ উঠছে, ইডেন ছাড়া কোথাও ভাবাই যায় না।

ইডেনের দর্শকরা ভালো খেলাকে যেভাবে অভিবাদন জানান, তা বিদেশিদের কাছেও খুব প্রিয়। সুনীল গাভাসকরের মতো অনেকেই সে কথা বারবার বলেন। সংস্কারের ফলে ইডেনে এখন ১ লক্ষ দর্শকাসন নেই। দর্শকাসনের থেকে দুই-তিনগুণ মানুষ ম্যাচ দেখতে চেয়েছেন, ফলে টিকিটের হাহাকার তৈরি হয়েছিল। যা স্বাভাবিক।

বিশ্বকাপের বিশেষ নিয়মের জাঁতাকলে পড়ে সব লাইফ, অ্যানুয়াল-সহ বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যদের সিএবি কমপ্লিমেন্টারি টিকিট দিতে পারেনি। ফলে বিক্ষোভ হয়েছে ইডেনের বাইরে। কিন্তু তারপরও সিএবি নানাভাবে টিকিট বণ্টন করেছে কুশলীভাবেই। টিম স্নেহাশিসকে মূল্যবান পরামর্শ দিয়েছেন দেশের অন্যতম সেরা অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়।

ম্যাচ কভার করা নিয়ে সাংবাদিকরাও কিছু বিষয় নিয়ে অভিযোগ তুলেছিলেন। স্নেহাশিস, সৌরভ মিলে সেই সমস্যাগুলিও দ্রুত নিরসন করে সাংবাদিকদের ম্যাচ কভারের পথ মসৃণ করেছেন। সবমিলিয়ে যদি সব বক্সে টিক দিতে হয়, তাহলে সবেতেই সেই টিক দিতে হচ্ছে। ১০টি স্টেডিয়ামের মধ্যে ইডেনই এগিয়ে থাকল বাকিদের চেয়ে। হ্যাঁ, বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিকেট স্টেডিয়ামের চেয়েও এগিয়ে প্রাণবন্ত ইডেন।

ইডেনে বিশ্বকাপের খেলা শেষ হতেই মাঠে ঢুকে সৌরভ বুকে জড়িয়ে ধরেছেন দাদাকে। বাংলা তথা ভারতীয় ক্রিকেটে সেই মুহূর্ত ঐতিহাসিক হয়ে রইল। সেমিফাইনাল-সহ বিশ্বকাপের ৫ ম্যাচ ফের ইডেনে ভবিষ্যতে হবে কিনা তা বলবে সময়। তবে বিশ্বকাপ সফলভাবে আয়োজনে বাংলার সম্মান যেখানে জড়িয়ে, সেখানেই জয়ধ্বজা ওড়াল স্নেহাশিসের নেতৃত্বাধীন টিম সিএবি। এককাট্টা হয়ে অক্লান্ত পরিশ্রম করলে সাফল্য যে আসে তা আরও একবার প্রমাণিত। তবুও এবারের সামান্য যা কিছু খামতি, আগামী দিনে তা মেটানোর প্রত্যয় নিয়ে আরও উন্নততর পারফরম্যান্সের জন্য প্রস্তুত হবে সিএবি, ক্রিকেটের নন্দনকাননও।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+