Mohammed Shami: সৌরভ বদলে দেন শামির কেরিয়ার-গ্রাফ, অবদান মোনায়েমেরও, পরিবার নেয় বিরাট সিদ্ধান্ত
ICC CWC 2023 Final: সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় বিসিসিআই সভাপতি থাকাকালীন হেড কোচ হিসেবে রাহুল দ্রাবিড় ও অধিনায়ক হিসেবে রোহিত শর্মাকে বেছে নেন। ভারত কাল খেলবে বিশ্বকাপ ফাইনাল।
চলতি বিশ্বকাপে মহম্মদ শামি আপাতত সর্বাধিক উইকেটশিকারী। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি উইকেট দখলে নেওয়া বোলার। সৌরভ ওয়ানইন্ডিয়া বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আগেই বলেছেন, তাঁর সবচেয়ে ভালো লেগেছে মহম্মদ শামির খেলা।

সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নজরে পড়াতেই বদলে যায় মহম্মদ শামির কেরিয়ার-গ্রাফ। একবার নেটে সৌরভের বিরুদ্ধে বল করার সুযোগ পেয়েছিলেন শামি। তাঁর স্যুইং, বাউন্স মুগ্ধ করে সৌরভকে। শামির দিকে এগিয়ে গিয়ে সৌরভ জানতে চেয়েছিলেন, তিনি কোন ক্লাবের হয়ে খেলেন। তারপর কোনও একজনকে ফোন করেন। এরপরই শামির জন্য খুলে যায় বাংলা দলের দরজা।
শামি ডালহৌসি ক্লাবে খেলে ম্যাচপিছু ৫০০ টাকা করে পেতেন। ডালহৌসির হয়ে খেলার সময় তিনি নজরে পড়েন টাউন ক্লাবের দেবব্রত দাসের। মরশুমের জন্য ৭০ হাজার টাকা ও প্রতিদিন খাবারের জন্য বরাদ্দ ১০০ টাকা। কলকাতায় আসার পর এটাই শামির প্রথম পেশাদার চুক্তি। টাউনের হয়ে দারুণ পারফর্ম করেন শামি, সুযোগ পান বাংলার অনূর্ধ্ব ২২ দলে।
রণদেব বোস, অশোক দিন্দা, শিবশঙ্কর পাল, সৌরভ সরকারদের তখন দাপট। ফলে শামির সামনে বাংলার সিনিয়র দলে সুযোগ পাওয়া কঠিন ছিল। দেবব্রত দাসের পরামর্শে টাউন বনাম পোর্ট ট্রাস্টের মধ্যে চলা লিগের ম্যাচ দেখতে গিয়েছিলেন সম্বরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। হাওয়ার বিপরীতে শামির বোলিং যাচাই করেছিলেন। পরে শামি বাংলা দলে সুযোগ পান।
তবে শামির বাংলা দলে সুযোগ ত্বরান্বিত হয় মোহনবাগানে যাওয়ায়। ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগানের মতো বড় ক্লাবে নজরে পড়তে সুবিধা হয়। কিন্তু শামি কিছুতেই টাউন ক্লাব ছাড়তে চাইছিলেন না। মোহনবাগানও শামিকে নিতে ঝাঁপিয়েছে। মোহনবাগানের কোচিং করানো আবদুল মোনায়েম সেবার ভবানীপুরের কোচ। তাঁর কথাতেও রাজি হননি শামি।
দেবব্রত দাসের টাউন তাঁকে চিনিয়েছে। তাই শামি টাউনের হয়ে খেলতে বদ্ধপরিকর ছিলেন। এরপর মোনায়েম তাঁর বন্ধু তথা শামির কোচ বদরুদ্দিনকে গোটা বিষয় বোঝান। অবশেষে শামি কোচের কথা শুনে মোহনবাগানে যোগ দেন। ২০১০ সালে অসমের বিরুদ্ধে রঞ্জি অভিষেক হয় শামির। তার আগে থেকেই সকলে বুঝছিলেন, এই ছেলে একদিন ইন্ডিয়া খেলবে!
কেরিয়ারের প্রথম রঞ্জি ম্যাচে শামি তিন উইকেট নিয়েছিলেন। শামির সাফল্যে তাই গর্বিত মোনায়েম। নিজের ফেসবুকে শামিকে ফাইনালের আগে শুভেচ্ছাবার্তা দিয়েছেন। আজ শামির গ্রামে মিনি স্টেডিয়াম, জিম করছে জেলা প্রশাসন। সাংসদও ক্রিকেট পরিকাঠানমো উন্নয়ন করছে। কিন্তু শামির পরিবার কলকাতাকেই আপন মনে করে।
শামির টেস্ট অভিষেকও ইডেনে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে। প্রথম ইনিংসে চারটি ও দ্বিতীয় ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন। শামিকে উত্তরপ্রদেশের হয়ে খেলার প্রস্তাব তাঁর বাবার কাছে রেখেছিলেন রাজীব শুক্লা ও জ্যোতি বাজপেয়ী। কানপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ওডিআই চলাকালীন। শামির বাবা তৌসিফ সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রস্তাব নাকচ করেন। শামির বাবা বলেছিলেন, আমার ছেলেকে চিনিয়েছে কলকাতা। ও সেখানেই খেলবে। আপনারা বুঝতে পারছেন, কেন শামিকে নিজের রাজ্য ছেড়ে কলকাতায় যেতে হয়েছে।
(ছবি- আবদুল মোনায়েম ফেসবুক)












Click it and Unblock the Notifications