ICC CWC 2023: জুতো পছন্দ করেও দামের জন্য কিনতে পারেননি! মাকে দেওয়া কথা রেখে বুমরাহ কাঁপাচ্ছেন বিশ্বকাপ
ICC CWC 2023: জসপ্রীত বুমরাহ। ভারতের ১ নম্বর পেসার। তিন ফরম্যাটেই সমান কার্যকরী। চলতি বিশ্বকাপে ৯ ম্যাচে বুমরাহ তুলে নিয়েছেন ১৭টি উইকেট। ইকনমি ৩.৬৫, গড় ১৫.৬৪। সর্বাধিক উইকেটশিকারীদের তালিকায় আপাতত রয়েছেন পঞ্চম স্থানে।
বুমরাহ প্রথম পাওয়ারপ্লে থেকেই চাপে রাখছেন ব্য়াটারদের। ডেথ ওভারেও অনবদ্য। মাঝের ওভারগুলিতেও ভরসা দিচ্ছেন অধিনায়ককে। বুমরাহ যে লাইন-লেংথে বল করছেন তাতে চার-ছক্কা হাঁকানো কার্যত দুঃসাধ্য।

ভারতীয়দের মধ্যে এখনও অবধি এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি উইকেট দখল করেছেন। নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভারতের শক্তিশালী বোলিং লাইন-আপকে। চোট সারিয়ে মাঠে ফেরার পর থেকেই তিনি রয়েছেন দুরন্ত ছন্দে। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সে খেলার সৌজন্যে ওয়াংখেড়ে বুমরাহর কাছে ঘরের মাঠ। সেখানে তিনি জ্বলে ওঠার অপেক্ষায় বিগত দুই বিশ্বকাপের রানার-আপদের বিরুদ্ধে।
এবারের বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে ২ উইকেট নেন ৩৫ রান দিয়ে। আফগানিস্তান ম্যাচে ৩৯ রানের বিনিময়ে দখল করেন ৪ উইকেট। পাকিস্তান ও বাংলাদেশ ম্যাচে যথাক্রমে ১৯ ও ৪১ রান খরচ করে ২টি করে উইকেট নেন। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে একটি উইকেট নিয়েছিলেন ৪৫ রানের বিনিময়ে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৩২ রানে নেন তিন উইকেট।
শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ১টি মেডেন-সহ ৫ ওভারে ৮ রান দিয়ে ১টি উইকেট পেয়েছেন বুমরাহ। দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে উইকেট না পেলেও ৫ ওভারে ১৪ রান দেন। নেদারল্যান্ডস ম্যাচে ৩৩ রানের বিনিময়ে নেন ২টি উইকেট। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওডিআইয়ে বুমরাহ ১২ ম্যাচে ১৪ উইকেট পেয়েছেন। সেরা বোলিং ৩৫ রানে ৩ উইকেট। ইকনমি ৪.৬৯, গড় ৩৭.৪২।
৩০টি টেস্টে ১২৮টি উইকেট রয়েছে বুমরাহর। আর চারটি উইকেট পেলেই ওডিআইয়ে ১৫০ উইকেটের ক্লাবে নাম লেখাবেন। টি ২০ আন্তর্জাতিকে ৬২ ম্যাচে তাঁর উইকেট-সংখ্যা ৭৪। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ২২০টি, লিস্ট এ-তে ১৯৮ ও টি ২০-তে ২৬০টি উইকেট রয়েছে। তবে এই জায়গায় আসার পথে বুমরাহকে পার করতে হয়েছে অনেক প্রতিবন্ধকতা।
২০১৩ সালের মার্চে আমেদাবাদে গুজরাতের হয়ে মহারাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রথম সুযোগ পান ঘরোয়া টি ২০-তে। তবে তাঁর কেরিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট রঞ্জি অভিষেক। ২০১৩-র অক্টোবরেই নাগপুরে বিদর্ভের বিরুদ্ধে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রথম ম্যাচেই ৭ উইকেট নিয়ে নজর কাড়েন। এর কয়েক মাস পর ডাক পান মুম্বই ইন্ডিয়ান্সে।
বুমরাহর যখন পাঁচ বছর বয়স তখন প্রয়াত হন তাঁর বাবা যশবীর সিং। মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে তা ছিল বড় ধাক্কা। মা দলজিৎ বুমরাহ আমেদাবাদের স্কুলের শিক্ষিকা। তিনিই সন্তানকে বড় করেন, স্বপ্ন তাড়া করতে সহায়তা করেন। তবে পরিস্থিতি সহজ ছিল না। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সে কথা জানিয়েছিলেন দলজিৎ।
“Talent can come from anywhere and reach the pinnacle of success.”
— Mumbai Indians (@mipaltan) October 9, 2019
📹 Watch the transformational journey of @Jaspritbumrah93 from a rookie to a world-beater 🏆#OneFamily #CricketMeriJaan #LeaderInSport #LeadersWeek #NitaAmbani @ril_foundation pic.twitter.com/hFUqvQnHSv
মা যখন বিশ্রাম নিতেন তখনও বোলিং প্র্য়াকটিসে খামতি ছিল না জসপ্রীতের। তবে এমন সময়ও গিয়েছে যখন ক্রিকেট খেলার জন্য একজোড়া জুতো কিংবা টি শার্ট কেনার পয়সা ছিল না। খেলে ফিরে সেই জামাকাপড় ধুয়ে আবার তা পরেই মাঠে নামতেন। মায়ের সঙ্গে গিয়েছিলেন নাইকির দোকানে। জুতো পছন্দ করেন। কিন্তু তা ছিল অনেক দামি!
ওই জুতো আমি একদিন কিনবই। মাকে সেদিনই কথা দিয়েছিলেন বুমরাহ। এখন তাঁর কাছে অনেক জুতো, ক্রিকেটীয় সরঞ্জাম। কিন্তু কঠিন পরিস্থিতিই বুমরাহকে পরিণত করেছিল। প্রত্যয়ী করে তোলে স্বপ্নকে তাড়া করতে। বোলিং অ্যাকশনেও বাকিদের চেয়ে অনেকটাই আলাদা। তাঁর অস্ত্র স্যুইং এবং অবশ্যই ইয়র্কার।
ব্লকহোলে বল ফেলা রপ্ত করেছেন মুম্বই ইন্ডিয়ান্সে থাকাকালীন। বিষাক্ত ইয়র্কারে কীভাবে প্রতিপক্ষ ব্যাটারের উইকেট ছিটকে দেওয়া যায় তা শিখেছেন লাসিথ মালিঙ্গার থেকে, সমৃদ্ধ করেছেন নিজেকে। ২০১৪ সালে হাঁটুর চোট কয়েক মাসের জন্য মাঠের বাইরে ছিটকে দিয়েছিল।
এরপর ঘরোয়া ক্রিকেটে ফের নিজেকে মেলে ধরেন। ২০১৫-১৬ মরশুমে রঞ্জিতে গুজরাতের দ্বিতীয় সর্বাধিক উইকেটশিকারী হন। বিজয় হাজারে ট্রফিতে হন সর্বাধিক উইকেটশিকারী। ফাইনালে পাঁচ উইকেট নিয়ে গুজরাতকে খেতাব জেতান। এরপর মহম্মদ শামির চোট অস্ট্রেলিয়া সফরে যাওয়ার সুযোগ এনে দেয়। টি ২০ সিরিজে সর্বাধিক উইকেটশিকারী হন। ধোনি তাঁকে সফরের আবিষ্কার বলে উল্লেখ করেন। মেলে টি ২০ বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ। এবার দেশের মাটিতে ভারতকে বিশ্বকাপ জেতানোর লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছেন বুমরাহ। কাপ আর দুই ধাপ দূরে।












Click it and Unblock the Notifications