কার্যত কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াইয়ে নামছে ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড, তাকিয়ে পাকিস্তান
চেস্টার লি স্ট্রিটের মাঠে বুধবার মহা সংগ্রামে নামতে চলেছে ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড। এই ম্যাচ কেই কার্যত কোয়ার্টার ফাইনালের তকমা দিয়েছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা।
চেস্টার লি স্ট্রিটের মাঠে বুধবার মহা সংগ্রামে নামতে চলেছে ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড। এই ম্যাচ কেই কার্যত কোয়ার্টার ফাইনালের তকমা দিয়েছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। নিউজিল্যান্ড ১১ পয়েন্ট পেয়ে নক আউটের দৌড়ে কিছুটা এগিয়ে রয়েছে। তবে এই ম্যাচে ইংল্যান্ডকে সরাসরি হারালেই কিউয়িরা চলে যাবে সেমিফাইনালে।

এদিকে এই ম্যাচের ওপরে নির্ভর করছে পাকিস্তানের ভাগ্যও। যদিও নিউজিল্যান্ড ইংল্যান্ডকে হারিয়ে দিতে পারে, আর পাকিস্তান পরের ম্যাচে বাংলাদেশকে হারাতে পারে, তাহলে চতুর্থ দল হিসেবে পাকিস্তানের সেমিফাইনালে যাওয়া নিশ্চিত হতে পারে।
তবে এক্ষেত্রেও ডারহ্যামের মাঠে কোন ফলাফল হয় সেদিকে পাকিস্তানকে তাকিয়ে থাকতে হবে। নিউজিল্যান্ড এই মুহূর্তে লিগ তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে। আট ম্যাচ খেলে ৫ টি জয় ও ২টি পরাজয়ের সৌজন্যে ১১ পয়েন্ট পেয়েছে কেন উইলিয়ামসনের দল। একটি ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে যাওয়ায় পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয়েছে।
অন্যদিকে এই টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট দল ইংল্যান্ড শুরুটা ভালো করলেও শেষ তিনটি ম্যাচের মধ্যে দুটিতে হেরে কিছুটা ব্যাকফুটে রয়েছে। ৮ ম্যাচে তাদের সংগ্রহ ১০ পয়েন্ট। ৫ ম্যাচ জিতলেও তিনটিতে ম্যাচ হারতে হয়েছে ইয়ন মর্গ্যানের দলকে।
নিউজিল্যান্ড প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে অভিযান শুরু করে। এরপরে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে জয় পায়। তবে চতুর্থ ম্যাচে ভারতের বিরুদ্ধে বৃষ্টি হওয়ায় পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয়। এরপরও নিউজিল্যান্ড পরপর হারিয়ে দেয় দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। তবে এরপরই ছন্দপতন। পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার কাছে বড় ব্যবধানে হারতে হয়েছে কিউয়িদের। যার ফলে ইংল্যান্ডে বিরুদ্ধে ম্যাচটি এখন মরণ-বাঁচন পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। এই ম্যাচে জয় না পেলে সেমিফাইনাল অনিশ্চিত হয়ে যাবে কেন উইলিয়ামসনের দলের।
অন্যদিকে এই টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট দল হিসেবে খেলতে নামা ইংল্যান্ড প্রথম ম্যাচেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে। তবে দ্বিতীয় ম্যাচেই হারতে হয়েছে পাকিস্তানের কাছে। এরপরে পরপর তিনটি ম্যাচ জেতে ইংল্যান্ড। হারিয়ে দেয় বাংলাদেশ, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আফগানিস্তানকে। তবে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ছোট রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে হেরে বসে ইংরেজরা। এরপর অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বড় ব্যবধানে হারে ইয়ন মর্গ্যানের দল।
গত রবিবার ভারতের বিরুদ্ধে ৩১ রানে জিতে কিছুটা আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে ইংরেজরা। এই অবস্থায় নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে বুধবারের ম্যাচ কার্যত কোয়ার্টার ফাইনাল। এই ম্যাচে ইংল্যান্ড না জিতলে সেমিফাইনালের দরজা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। কারণ ৮ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলছে পাকিস্তান। বাংলাদেশকে পাকিস্তান যদি হারিয়ে দেয়, এদিকে নিউজিল্যান্ডের কাছে যদি ইংল্যান্ড হেরে যায়, তাহলে চতুর্থ দল হিসেবে সেমিফাইনালে পৌঁছবে পাকিস্তান।
ইংল্যান্ড নিউজিল্যান্ডের কাছে হারলেও বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তান যদি হেরে যায়, তাহলে ইংল্যান্ড সম্ভবত চতুর্থ দল হিসেবে সেমিফাইনালে যাবে। মাঝখানে রয়েছে শ্রীলঙ্কা। তবে পরের ম্যাচ জিতলেও নেটে রান রেটের তফাতে শ্রীলঙ্কার পক্ষে শেষ চারে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
ফলে নিউজিল্যান্ড-ইংল্যান্ড ম্যাচের দিকে তাকিয়ে গোটা ক্রিকেট বিশ্ব। চতুর্থ দল হিসেবে কারা সেমিফাইনালের পথে পা বাড়াবে, পাকিস্তান নাকি ইংল্যান্ড নাকি নিউজিল্যান্ড। এই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বড় হয়ে উঠেছে ক্রিকেট প্রেমীদের মনে।
এই টুর্নামেন্টের অন্যতম ধারাবাহিক দল নিউজিল্যান্ডের বোলিং অত্যন্ত শক্তিশালী। ট্রেন্ট বোল্ট, টিম সাউদি, ম্যাট হেনরি, লকি ফার্গুসন, জিমি নিশমরা শুরু থেকেই দারুণ বোলিং করছেন। অন্যদিকে অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন, মার্টিন গাপটিল, ব্যাটিংয়ে ভরসা যোগাচ্ছেন।
ইংল্যান্ডের ব্যাটিং ও বোলিং দুটিই বেশ শক্তিশালী। ৯ নম্বর পর্যন্ত ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যান রয়েছে। অন্যদিকে বোলিংয়েও অনেক বৈচিত্র্য। আদিল রশিদ, মঈন আলিরা বোলিংয়ে বৈচিত্র্য এনে দিয়েছেন। এছাড়াও জোফ্রা আর্চার ও লিয়াম প্লাঙ্কেট অথবা মার্ক উডরা বিপক্ষ দলের নিয়মিত উইকেট তুলে নিয়ে চাপ বাড়ানোর কাজ করেছেন। এই অবস্থায় চেস্টার-লি-স্ট্রিটের মাঠে ব্যাট বলের এক উপভোগ্য লড়াই হবে তা নিশ্চিতভাবে আশা করা যায়।












Click it and Unblock the Notifications