অনিশ্চয়তা থেকে রঞ্জি তালিকার শীর্ষে জম্মু ও কাশ্মীর, কেমন সেই যাত্রা
অনিশ্চয়তা থেকে রঞ্জি তালিকার শীর্ষে জম্মু ও কাশ্মীর, কেমন ছিল যাত্রা
ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল নিয়ে যখন উত্তাল দেশ, তখন অস্থির হয়ে উঠেছিল জম্মু ও কাশ্মীর। ক্রিকেট তো দূর, ভূস্বর্গে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল স্বাভাবিক জীবনযাপন। বলা বাহুল্য যে সেই পরিস্থিতি থেকে ফের আগেরই মতো ঘুরে দাঁড়িয়েছে জম্মু ও কাশ্মীর। শূণ্য থেকে শুরু করে অটল সংকল্পে পৌঁছে গিয়েছে রঞ্জি ট্রফির লিগ শীর্ষে। কেমন ছিল এই যাত্রা, এক নজরে দেখে নেওয়া যাক।

বিশেষ মর্যাদা থেকে বাদ ভূস্বর্গ
১) সংসদে জম্মু ও কাশ্মীরে এতদিন ধরে বহাল থাকা ভারতীয় সংবিধান বর্ণিত ৩৭০ ধারা তুলে নেওয়ার কথা ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। জম্মু এবং কাশ্মীরকে পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
২) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরকারের এই সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি দেশের কিছু মহল। ভারতীয় সংবিধানে বর্ণিত ৩৭০ ধারা বাতিলের প্রতিবাদে অশান্তি শুরু হয় কাশ্মীরেও। ভূস্বর্গকে আরও অস্থির করার ইন্ধন জোগাতে থাকে পাকিস্তানও।
৩) পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে জম্মু ও কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা ও অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের গৃহবন্দি করে রাখে প্রশাসন। ভূস্বর্গে কার্ফু জারি থাকে প্রায় তিন মাস। বন্ধ থাকে ইন্টারনেট, মোবাইল পরিষেবা সহ জ্ঞাপনের সব মাধ্যম।

বন্ধ হয়ে যায় ক্রিকেট
ভারতীয় সংবিধানে বর্ণিত ৩৭০ ধারা বাতিলের পর শুরু হওয়া অস্থিরতার জেরে জম্মু ও কাশ্মীরে ক্রিকেট খেলা ও অনুশীলন বন্ধ করে দেওয়া হয়। ভূস্বর্গের রঞ্জি দলের কোচ তথা টিম ইন্ডিয়ার প্রাক্তন অল-রাউন্ডার ইরফান পাঠানকে কাশ্মীর ছাড়ার নির্দেশ দেয় প্রশাসন। রঞ্জি ট্রফির নতুন মরশুম শুরু হওয়ার ঠিক আগে ছড়িয়ে ছিটিয়ে যান রাজ্যের ক্রিকেটাররা।

স্বাগত ক্রিকেট, তবে খেলোয়াড় অমিল
প্রশাসনের তৎপরতায় অল্প কিছুদিনের মধ্যে শান্ত হয় জম্মু ও কাশ্মীর। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে শুরু করে উপত্যকা। ভূস্বর্গে ফের ক্রিকেট শুরু করার নির্দেশ দেয় প্রশাসন। রঞ্জি ট্রফির মুখে জম্মু ও কাশ্মীর দলের ক্রিকেটারদের অনুশীলনে ফেরাতে শ্রীনগরে পৌঁছে যান কোচ ইরফান পাঠানও। কিন্তু ক্রিকেটারদের খুঁজে বের করতে সমস্যায় পড়ে সে রাজ্যের ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন। কারণ সতর্কতা অবলম্বনের স্বার্থে তখনও কাশ্মীরের প্রত্যন্ত গ্রামগুলি চালু হয়নি ইন্টারনেট, মোবাইল পরিষেবা। টিভি এবং রেডিওতে বিজ্ঞাপন দিয়েও ক্রিকেটারদের খোঁজ পাওয়া যায়নি দীর্ঘদিন। শেষে প্রশাসনের হস্তক্ষেপেই জম্মু ও কাশ্মীর দলের প্রায় সব ক্রিকেটারদেরই একত্র করা সম্ভব হয়।

খুব কম অনুশীলন
চূড়ান্ত প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে ক্রিকেটে ফেরা তরুণদের মানসিক ভাবে চাঙা করাই ছিল দলের কোচ ও সাপোর্ট স্টাফদের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই অনুশীলন শুরুর আগে ক্রিকেটারদের কাউন্সেলিং হয়। সেসব করতে গিয়ে জম্মু ও কাশ্মীর ক্রিকেট দলের অনুশীলনেই অনেক ফাঁক থেকে যায়।

রসুলের কৃতিত্ব
ভারতীয় দলের প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা আইপিএল খেলা পারভেজ রসুল, মেন্টর হিসেবে জম্মু ও কাশ্মীরের ক্রিকেটারদের মানসিকভাবে শক্ত করতে বড় ভূমিকা পালন করেন বলা জানা যাচ্ছে। কার্যত তাঁর হাতেই তৈরি এই দল এখন ভারতীয় ক্রিকেটকে নতুন করে দিশা দেখাচ্ছে বলা চলে। ৩০ বছরের পারভেজ রসুল জম্মু ও কাশ্মীর দলের অধিনায়কত্ব নিজের হাতেই রেখেছেন। কার্যত তাঁর একক প্রচেষ্টাতেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে ভূস্বর্গের ক্রিকেট। যেখানে কেবল গুলি-বোমা নয়, ব্যাট-উইকেট-বলেও বেঁচে থাকে স্বপ্ন।

রঞ্জিতে দুর্দান্ত জম্মু ও কাশ্মীর
চলতি রঞ্জি ট্রফির এলিট গ্রুপ সি-তে খেলছে জম্মু ও কাশ্মীর। যে গ্রুপে রয়েছে মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, সার্ভিসেস, ওড়িশার মতো ক্রিকেট দল। সেই সব দলকে টপকে ওই গ্রুপের শীর্ষ স্থান এখনও ধরে রেখেছে ভূস্বর্গের দল। ৮ ম্যাচ খেলে ৩৯ পয়েন্টে অবস্থান করছেন পারভেজ রসুলরা। টুর্নামেন্টে এখনও পর্যন্ত ৬টি ম্যাচ জিতেছেন তাঁরা। দুটি ম্যাচ থেকে তিন পয়েন্ট হাসিল করেছে জম্মু ও কাশ্মীর।

অদম্য ইচ্ছাশক্তি
জম্মু ও কাশ্মীর দলের অধিনায়ক তথা মেন্টর পারভেজ রসুল জানিয়েছেন, অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা থেকেই রঞ্জি ট্রফিতে নিজের সেরাটা দিতে সক্ষম হচ্ছেন ক্রিকেটাররা। টুর্নামেন্টে আরও ভালো খেলে যাওয়াই তাঁদের লক্ষ্য বলে জানালেন রসুল। তাঁর কথায়, ভূস্বর্গে প্রতিভার অভাব নেই। নিজেদের বিকশিত করার একটা সুযোগ খুঁজছেন তাঁরা। সেই সব ক্রিকেটারদের কাছে রঞ্জি ট্রফিই সেরা মঞ্চ বলে মনে করেন পারভেজ রসুল। এ লড়াইয়ে ভারতের প্রাক্তন অল-রাউন্ডার ইরফান পাঠানকে পাশে পেয়ে তাঁদের শক্তি আরও বেড়েছে বলে দাবি রসুলের।












Click it and Unblock the Notifications