মহিলাদের প্রিমিয়ার লিগে হরমনপ্রীতের মুম্বইয়ের কাছে পরাস্ত মুনির গুজরাত, বাংলার সাইকার চার উইকেট
হরমনপ্রীত কৌরের মুম্বই ইন্ডিয়ান্স মহিলাদের প্রিমিয়ার লিগের প্রথম ম্যাচে ১৪৩ রানে হারাল গুজরাত জায়ান্টসকে। সাইকা ইশাক পেলেন ৪ উইকেট।
মহিলাদের প্রিমিয়ার লিগে প্রথম ম্যাচ জিতে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখাল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। নভি মুম্বইয়ের ডিওয়াই পাতিল স্টেডিয়ামে ১৪৩ রানে হারাল গুজরাত জায়ান্টসকে। স্ট্র্যাটেজির লড়াইয়ে মিতালি রাজকে টেক্কা দিলেন ঝুলন গোস্বামী। ম্যাচে একমাত্র অর্ধশতরানটি করলেন মুম্বই ইন্ডিয়ান্স অধিনায়ক হরমনপ্রীত। বল হাতে নজর কাড়লেন বাংলার সাইকা ইশাক।

প্রথম চার ও প্রথম ছয় হেইলির
উইমেন্স প্রিমিয়ার লিগের প্রথম ম্যাচে টস জিতে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে ব্যাট করতে পাঠায় গুজরাত জায়ান্টস। ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন আম্পায়ার নীতীন পণ্ডিত ও বৃন্দা রাঠি। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২০৭ রান তোলে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। ডব্লুপিএলের ইতিহাসে প্রথম আউট হলেন যস্তিকা ভাটিয়া। তিনি ১৫ রান করেন। মহিলাদের প্রিমিয়ার লিগে প্রথম চার ও ছক্কা মারার রেকর্ডটি নিজের দখলে নিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওপেনার হেইলি ম্যাথিউজ। তিনি মাত্র তিন রানের জন্য অর্ধশতরান হাতছাড়া করেন। তিনটি চার ও চারটি ছয়ের সাহায্যে ম্যাথিউজ করেন ৪৭ রান। ১৮ বলে ২৩ রান করেন ন্যাট সিভার-ব্রান্ট।

হরমনপ্রীতের অর্ধশতরান
মহিলাদের প্রিমিয়ার লিগের প্রথম অর্ধশতরানটি আসে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌরের ব্যাট থেকে। তিনি ২২ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন। ১৫তম ওভারে মনিকা প্যাটেলের তৃতীয় থেকে শেষ বল অবধি চারটি চার মেরে ৪৭ রানে পৌঁছে যান। এরপর অ্যাশ গার্ডনারের বলে চার মেরে হাফ সেঞ্চুরিতে পৌঁছে যান। ১৫.২ ওভারে টানা পঞ্চম চারটি মারার পর গার্ডনারের পরের দুটি ডেলিভারিতেও বাউন্ডারি হাঁকান হরমনপ্রীত। এভাবে টানা সাতটি চার মারেন তিনি। ১৪টি চারের সাহায্যে ৩০ বলে ৬৫ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন হরমনপ্রীত। ৬টি চার ও ১টি ছয়ের সাহায্যে ২৪ বলে অপরাজিত ৪৫ রানের ইনিংস খেলেন অ্যামেলিয়া কার। পূজা বস্ত্রকার করেন ৮ বলে ১৫।

গুজরাতের হতাশাজনক পারফরম্যান্স
ডব্লুপিএল (WPL)-এ প্রথম উইকেটটি দখল করেন তনুজা কানওয়ার। তিনি ২ ওভার বল করে ১২ রান দিয়ে ১টি উইকেটই পেয়েছেন। স্নেহ রানা নেন ২টি উইকেট, তবে ৪ ওভারে দেন ৪৩ রান। ৮ জন বোলারকে ব্যবহার করেন গুজরাত জায়ান্টস অধিনায়ক বেথ মুনি। জর্জিয়া ওয়েরহ্যাম ও অ্যাশ গার্ডনার একটি করে উইকেট দখল করেন।
|
মুনির চোটের পরই ব্যাটিং বিপর্যয়
২০৮ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে গুজরাত জায়ান্টস। প্রথম ওভারেই রান নিতে গিয়ে পায়ে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন টি ২০ বিশ্বকাপ ফাইনালে সেরার পুরস্কার পাওয়া বেথ মুনি। ৭.৩ ওভারে ২৩ রানে পড়ে যায় সপ্তম উইকেট। এরই মধ্যে জানা যায় এই ম্যাচে বেথ মুনি আর ব্যাট করতে নামতে পারবেন না। হারলীন দেওল, অ্যাশ গার্ডনার ও তনুজা কানওয়ার শূন্য রানে আউট হন। চোট পেয়ে মাঠ ছাড়ার আগে মুনিও রান করতে পারেননি। অ্যানাবেল সাদারল্যান্ড ৬, জর্জিয়া ওয়েরহ্যাম ৮, স্নেহ রানা ১ রানের বেশি করতে পারেননি।
|
মুম্বইয়ের জয়ে বাংলার অবদান
মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের মেন্টর ঝুলন গোস্বামী জানান, শুরু থেকেই সঠিক জায়গায় বল রেখে উইকেট তুলে নেওয়া লক্ষ্য ছিল। প্রথম ম্যাচে দলের পারফরম্যান্সে তিনি সন্তুষ্ট। তবে অনেক পথ চলা বাকি। নিলামে বিদেশি অলরাউন্ডার ও ভালো মানের বিদেশি নেওয়াই তাঁদের লক্ষ্য ছিল বলে জানান ঝুলন। এবারের মহিলাদের প্রিমিয়ার লিগে অসমের পেসার জিন্টিমণি কলিতা ভালো পারফর্ম করবেন বলেও আশাবাদী মুম্বইয়ের মেন্টর। ১২.৪ ওভারে ৪৯ রানে অষ্টম উইকেট হারায় গুজরাত জায়ান্টস। বাংলার সাইকা ইশাক তৃতীয় উইকেট তুলে নেন মানসী যোশী (১৯ বলে ৬)-কে ফিরিয়ে। ১৫.১ ওভারে সাইকা ইশাক মনিকা প্যাটেল (৯ বলে ১০)-কে বোল্ড করতেই নবম উইকেট হারায় গুজরাত, এখানেই তাদের ইনিংসে যবনিকা পতনও হয়। দয়ালান হেমলতা ২৩ বলে ২৯ বলে অপরাজিত থাকেন। সাইকা ৩.১ ওভারে ১টি মেডেন-সহ ১১ রানে চার উইকেট নেন। ব্রান্ট ও কার ২টি করে এবং ইসি ওয়ং একটি উইকেট পেয়েছেন। হরমনপ্রীতের বোলিং পরিবর্তন ও ফিল্ড প্লেসিং-সহ অধিনায়কত্বের প্রশংসা করেছেন বিশেষজ্ঞরা।












Click it and Unblock the Notifications