হার্দিক পাণ্ডিয়া কি বিশ্বকাপের দল থেকে বাদ পড়ছেন? আইপিএলের মধ্যেই জল্পনা তুঙ্গে
আসন্ন টি ২০ বিশ্বকাপে হার্দিক পাণ্ডিয়াকে কীভাবে পাওয়া যাবে তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। আইপিএলের পরপর দুই মরশুমে হার্দিককে বোলিং করতে দেখা যায়নি। ব্যাট হাতেও ফর্ম বলার মতো নয়। তবুও তাঁকে অলরাউন্ডার হিসেবে পুরো ফিট বলে দাবি করে বিশ্বকাপের দলে রেখেছেন নির্বাচকরা। যদিও আইপিএলের দ্বিতীয়ার্ধে হার্দিককে দেখে সংশয় থাকছেই।

মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হেড কোচ মাহেলা জয়বর্ধনে জানিয়েছিলেন, হার্দিককে বোলার হিসেবে ব্যবহার করতে তাড়াহুড়ো করা হবে না। তাঁর ওয়ার্কলোডের কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত। হার্দিক নিজেও বলেছেন, খুব শীঘ্রই বোলিং করবেন। হার্দিক নেটে বোলিং করলেও ম্যাচে বল করছেন না। এই অবস্থায় বিশ্বকাপে তিনি ব্যাটসম্যান না অলরাউন্ডার কোন ভূমিকায় থাকবেন তা স্পষ্ট নয়। আইপিএলে নামার আগে শ্রীলঙ্কা সফরে গিয়েও উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স করতে পারেননি হার্দিক। ব্যাটে রান ছিল না। বল হাতেও হতাশই করেছেন তিনটি একদিনের আন্তর্জাতিক ও একটি টি ২০-তে। কোনওটিতেই কোটার পুরো ওভার তিনি বল করেননি।

অলরাউন্ডার হিসেবে হার্দিককে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো পারফরম্যান্স দেখা গিয়েছে শার্দুল ঠাকুর ও দীপক চাহারের কাছ থেকে। কিন্তু কোনও এক অজ্ঞাত কারণে তাঁদের হার্দিকের বিকল্প ভাবতে পারছেন না নির্বাচকরা। আইপিএলের দ্বিতীয়ার্ধে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে তিনটি ম্যাচ খেলেছেন হার্দিক। আরসিবির বিরুদ্ধে তিন রানে আউট হন। পাঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে ৪০ রানে অপরাজিত ছিলেন। দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে আউট হন ১৭ রানে। টি ২০ বিশ্বকাপের দলে ১০ অক্টোবর অবধি পরিবর্তন আনা যাবে। রাজস্থান রয়্যালসের শিবম দুবেও অলরাউন্ডার হিসেবে সুনীল গাভাসকর-সহ অনেকেরই প্রশংসা আদায় করে নিয়েছেন। কিন্তু বিসিসিআই সূত্রে খবর, হার্দিককে বিশ্বকাপের দল থেকে বাদ দেওয়া হবে না। পরবর্তীকালে হার্দিকের বিকল্প খুঁজে বের করা হবে। কিন্তু এখনই দীপক বা শার্দুলে পুরোপুরি ভরসা নেই নির্বাচকদের। তাই পরিকল্পনা এটাই, ব্যাটসম্যান হিসেবেই দলে থাকুন হার্দিক। খুব প্রয়োজন হলে তাঁকে দিয়ে ২-৩ ওভার করানো হবে।

যেহেতু আগামী বছর ফের টি ২০ বিশ্বকাপ রয়েছে তাই এই বছরের টি ২০ বিশ্বকাপের পরই নতুন অধিনায়কের সঙ্গে ভারতের টি ২০ দলে অনেক নতুন মুখ দেখা যেতেই পারে। তাঁদের বেশিরভাগই যাঁরা আইপিএলে নজর কেড়েছেন। আইপিএলের দ্বিতীয়ার্ধে যাঁরা নজর কেড়েছেন অথচ টি ২০ বিশ্বকাপের দলে নেই তাঁরা হলেন শ্রেয়স আইয়ার, ঋতুরাজ গায়কোয়াড়, হর্ষল প্যাটেল, আবেশ খান ও যুজবেন্দ্র চাহাল। ১২ ম্যাচে ৫২৮ রান করেছেন চেন্নাই সুপার কিংসের ওপেনার ঋতুরাজ, একটি সেঞ্চুরি ও ২টি হাফ সেঞ্চুরি রয়েছে তাঁর। ১২ ম্যাচে ৫২৮ রান করা পাঞ্জাব কিংস অধিনায়ক লোকেশ রাহুলের পরেই রয়েছেন তিনি। শ্রেয়স আইয়ারও চোট সারিয়ে কামব্যাক করে দারুণ ছন্দে রয়েছেন। সূর্যকুমার যাদব রানে ফিরলেও ঈশান কিষাণের জায়গায় শ্রেয়সকে রাখা উচিত ছিল বলেই মত অনেকের। কেন না, ঋষভ পন্থ ছাড়াও দলের সঙ্গে লোকেশ রাহুল রয়েছেন, যিনি পাঞ্জাব কিংসের অধিনায়কত্বের পাশাপাশি উইকেটকিপিং করছেন। সেখানে শ্রেয়সই ঈশানের চেয়ে বেশি যোগ্য ছিলেন বলে দাবি অনেক বিশেষজ্ঞের। ১২ ম্যাচে ২৬ উইকেট নিয়ে আইপিএলের সর্বাধিক উইকেটশিকারী আরসিবি পেসার হর্ষল প্যাটেলও বিশ্বকাপের দলে নেই। পাঞ্জাব কিংসের আবেশ খানের ঝুলিতে ২১টি উইকেট। ১২ ম্যাচে ১৪টি উইকেট পেয়ে আরসিবির জয়ে অবদান রাখা যুজবেন্দ্র চাহালকে বাদ দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications