বিরাটকে বলির পাঁঠা করায় আপত্তি আজহারের, ভারতের কোন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সরব গাভাসকর-মদন লাল?
টি ২০ বিশ্বকাপে প্রস্তুতি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল ভারত। কিন্তু বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভে পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের কাছে মুখ থুবড়ে পড়েছে বিরাট কোহলির দল। শুরু হয়েছে ব্যর্থতার ময়নাতদন্ত। তবে খারাপ সময়ে ভারতীয় ক্রিকেটারদের পাশে থাকারই আহ্বান জানিয়েছেন দেশ-বিদেশের প্রাক্তনরা। বিরাট কোহলিকে ব্যর্থতার জন্য দায়ী করে বলির পাঁঠা বানানোয় আপত্তি জানিয়েছেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক মহম্মদ আজহারউদ্দিন। ভারতের বড় ভুল নিয়ে সরব হয়েছেন সুনীল গাভাসকর ও মদন লাল।

রোহিত শর্মাকে ওপেনিং থেকে সরিয়ে তিনে নামানো, ঈশান কিষাণকে লোকেশ রাহুলের সঙ্গে ওপেন করতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত মানতে পারছেন না সুনীল গাভাসকর, মদন লাল থেকে ইরফান পাঠানের মতো প্রাক্তনরা। গাভাসকর সাফ বলেছেন, ব্যর্থতার ভয় থেকেই কিনা জানি না, তবে ভারত ব্যাটিং অর্ডারে যে রদবদল করেছে তা কাজে লাগেনি। রোহিত শর্মার মতো গ্রেট ব্যাটসম্যানকে তিনে পাঠানো হল! কোহলিও তিনে নেমে প্রচুর রান করেছেন, অথচ তিনিও রোহিতকে তিনে নামিয়ে নিজেও চারে ব্যাট করতে নামলেন! ঈশান কিষাণের মতো তরুণ ক্রিকেটারকে ওপেন করতে পাঠানো হল। ঈশান কিষাণ হিট অর মিস প্লেয়ার! তাঁর মতো ব্যাটারকে চার কিংবা পাঁচে নামানো যেত। তিনি তখন পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলতে পারতেন। কিন্তু যেটা হল, সেটা রোহিত শর্মাকে বলা হল যে ট্রেন্ট বোল্টের মতো বাঁহাতি বোলারদের সামলাতে তোমার উপর ভরসা রাখা যাচ্ছে না! একজন ক্রিকেটার যিনি একই পজিশনে দীর্ঘদিন খেলে সফল হয়েছেন, তাঁকে যদি এমনটা বলা হয় তখন তিনিও ভাবতে বাধ্য হবেন তাহলে কি আমার সত্যিই বোল্টকে সামলানোর দক্ষতা নেই! ঈশান কিষাণ ৭০-এর কাছাকাছি রান করে দিলে সকলেই বাহবা দিতেন। কিন্তু যখন এই পদক্ষেপ কাজে লাগেনি, তখন সমালোচিত তো হতেই হবে।

তিরাশির বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য মদন লাল বলেছেন, বিরাটের চারে নামা বা রোহিত শর্মাকে ওপেন করতে না পাঠানো ভারত অধিনায়কের একার সিদ্ধান্ত হতে পারেই না। অন্তত যেখানে টিম ম্যানেজমেন্টে রবি শাস্ত্রী, মহেন্দ্র সিংরা রয়েছেন। রোহিত শর্মাকে তিনে নামানো সত্যিই ভুল হয়েছে। ওপেনিংয়ে রোহিত সফল, কিন্তু হঠাৎই ভারতের ব্যাটিং অর্ডারে বড় বদল আনা হল! একই সুরে সুর মিলিয়ে ইরফান পাঠান বলেছেন, বড় টুর্নামেন্টে হঠাৎ একটা ম্যাচে প্রথম একাদশে বড় রদবদল করা উচিত নয়, সেটা হলে কাঙ্ক্ষিত ফল না আসাই স্বাভাবিক। ক্রিকেটারদের স্থিতাবস্থা দরকার হয়। অথচ বড় বড় নামেরাই এমন সিদ্ধান্ত যেভাবে নিচ্ছেন তা অবাক করার মতোই।
বিরাট কোহলির পাশে দাঁড়িয়ে প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক মহম্মদ আজহারউদ্দিন টুইটে লিখেছেন, বিরাটকে সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে। কিন্তু গোটা দল এবং কোচেরাই ব্যর্থ, শুধু একজনকে দায়ী করা ঠিক নয়। ভারতীয় সমর্থকদের কাছে হ্যালোইনের ভীতির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ভারতীয় দলে দক্ষতার অভাব না থাকলেও মানসিক দৃঢ়তার সমস্যাকে ব্যর্থতার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন গৌতম গম্ভীর। তবে খারাপ সময়ে ক্রিকেটারদের এভাবে সমালোচনা করা উচিত নয় বলে সওয়াল করেছেন কেভিন পিটারসেন, মহম্মদ আমিররা।

পিটারসেন টুইটে লিখেছেন, খেলায় একটা দল জিতবে, একটা হারবে। কোনও ক্রিকেটারই হারার জন্য মাঠে নামেন না। দেশকে প্রতিনিধিত্ব করা অত্যন্ত গৌরবের বিষয়। এটা বোঝার চেষ্টা করুন যে, ক্রিকেটাররা রোবট নন। তাঁদের সব সময় সমর্থন করাই উচিত। প্রাক্তন পাক পেসার মহম্মদ আমির টুইটে লিখেছেন, আমি এখনও বিশ্বাস করি ভারতই সেরা দল। ভালো সময় যেমন থাকে তেমন খারাপ সময়ও থাকে। খারাপ সময় ক্রিকেটারদের বিদ্রুপ করা বা তাঁদের পরিবারকে আক্রমণ করা অত্যন্ত লজ্জাজনক ব্যাপার। দিনের শেষে এটা মনে রাখা উচিত, ক্রিকেট একটা খেলা মাত্র। হরভজন সিং টুইটে লিখেছেন, ক্রিকেটারদের নিয়ে কঠোর হবেন না। আমরা জানি তাঁরা ভালো খেলতে সক্ষম। এমন ফলাফলে সবচেয়ে আঘাত পান সেই ক্রিকেটাররাই। নিউজিল্যান্ড সব বিভাগে ভালো খেলে যোগ্য দল হিসেবেই জিতেছে। ভারতের বিরুদ্ধে যেমন একপেশে ম্যাচ খেলে তাঁরা জিতবেন সেটা ভাবনার বাইরে ছিল বলে জানিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের স্পিনার তথা ম্যাচের সেরা ইশ সোধি।












Click it and Unblock the Notifications