চাহালকে ছন্দে ফিরতে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ গম্ভীরের, ভারতীয় স্পিনারের কোন বিষয়টি মনে ধরেনি ধোনির?
দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে প্রথম টি ২০ আন্তর্জাতিকে যুজবেন্দ্র চাহালকে ২ ওভার ব্যবহারের পর একেবারে শেষ ওভারে বল করতে ডেকেছিলেন ঋষভ পন্থ। এ বছরের আইপিএলে বেগুনি টুপির মালিককে অবলীলায় সামলেছিলেন প্রোটিয়া ব্য়াটাররা। তা দেখে চাহালের পুরো কোটা ব্যবহার করতে ভারত অধিনায়ককে পরামর্শ দেন অনেকে। কিন্তু গতকালও হতাশ করেছেন চাহাল।
চাহালকে নিয়ে চিন্তা
স্বাভাবিকভাবেই গৌতম গম্ভীরও খুশি নন চাহালের পারফরম্যান্সে। দিল্লি ম্যাচে ২.১ ওভারে ২৬ রান দেওয়ার পর গতকাল কটকে চাহাল ৪ ওভারে ৪৯ রান দিয়ে একটি উইকেট পান। মাত্র ৭টি ডট বল, তাঁর ওভারগুলিতে মোট তিনটি চার ও চারটি ছয় হাঁকিয়েছেন প্রোটিয়া ব্যাটাররা। চাহাল টি ২০ আন্তর্জাতিকে ভারতের সর্বাধিক উইকেটশিকারীই নন, এই সিরিজ খেলতে আসার আগে আইপিএলে সর্বাধিক ২৭টি উইকেট দখল করে বেগুনি টুপি পেয়েছেন। গতকালের ম্যাচে চাহালকে পাওয়ারপ্লে শেষ হতেই আক্রমণে এনেছিলেন পন্থ। সপ্তম ওভারে বল করতে এসে চাহাল দেন ৪ রান। কিন্তু নিজের দ্বিতীয় তথা দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসের নবম ওভারেই দিয়ে বসেন ১৩। সেই সময় অবধি এটাই সর্বোচ্চ, এরপরই ঝোড়োগতিতে রান তুলতে থাকে প্রোটিয়ারা। এরপর ত্রয়োদশ ওভারে ফের বল করতে আসেন চাহাল। দ্বিতীয় বলে বাভুমাকে ফেরালেও ৯ রান দেন। ১৬ত ওভারে চাহাল দেন ২৩ রান। তার মধ্যে দুটি ছক্কা হেনরিক ক্লাসেনের, একটি ডেভিড মিলারের।

আক্রমণাত্মক হতে হবে
ভারতের টি ২০ দলে চাহাল যখন এক নম্বর স্পিনার হওয়ার পথে, সেখানে এমন পারফরম্যান্স উদ্বেগজনক। গম্ভীরের মতে, চাহালকে আক্রমণাত্মক হতে হবে, রক্ষণাত্মক মানসিকতা চলবে না। গম্ভীর স্টার স্পোর্টসে বলেন, পেসের তারতম্য ঘটানো গুরুত্বপূর্ণ। টাইট লাইনে বল করে উইকেট দখলের মানসিকতা থাকলে সেটা কিন্তু বাঁহাতি স্পিনারের কাজ। ডিফেন্সিং বোলিং বাঁহাতি স্পিনার বা ফিঙ্গার স্পিনারের কাজ। রিস্ট স্পিনারকে সব সময় অ্যাটাকিং হতে হবে। মানসিকতাতেও সেই আগ্রাসীভাব দেখাতে হবে। চার ওভারে পঞ্চাশ রান দিয়ে তিন উইকেট তুলে নিয়ে দলকে জেতালে ঠিক আছে। কিন্তু ৪ ওভারে ৪০-৫০ রান দিলে একটা উইকেট পেলেই সমস্যা।

কমাতে হবে বলের গতি
চাহালের বোলিং বিশ্লেষণ করতে গিয়ে গম্ভীর আরও বলেন, কোনও স্পিনার বল হাওয়ায় ভাসাতে গিয়ে যদি ব্যাটার ছক্কা মারেন তাহলে কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু গতকালের ম্যাচে দেখা গিয়েছে, চাহালের বলে বড় শট খেলতে ব্যাটারদের স্টেপ আউট করতে হয়নি বা ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে আসতে হয়নি। নিজেদের জায়গায় দাঁড়িয়ে থেকেই লেগ স্পিনারের বিরুদ্ধে শট খেলেছেন। ফলে বোঝাই যাচ্ছে চাহাল জোরে বল করতে চেয়েছেন। কিন্তু এটা অক্ষর করতে পারেন, চাহাল নন। চাহালের উচিত স্লো বল করে ব্যাটারদের প্রলুব্ধ করা। তাতে কয়েকটি ছক্কা হজম করতে হলেও অসুবিধা নেই।
কী নামে ডেকে?
এরই মধ্যে ভাইরাল হয়েছে চাহালের একটি সাক্ষাৎকার। যেখানে তিনি মহেন্দ্র সিং ধোনির সঙ্গে নিজের প্রথম সাক্ষাতের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। ২০১৬ সালের জুনে জিম্বাবোয়ে সফরে একদিনের আন্তর্জাতিকে অভিষেকের আগে ধোনির হাত থেকেই ভারতীয় দলের টুপি পেয়েছিলেন চাহাল। চাহাল একটি ইউটিউব শো-তে বলেছেন, কিংবদন্তি ধোনিকে সেবারই প্রথম সামনাসামনি দেখি। তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে কথাই বলতে পারছিলাম না। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে ধোনিই। আমি তাঁকে মাহি স্যর বলেছিলাম। তখন ধোনি বলেন, আমাকে মাহি, ধোনি, মহেন্দ্র সিং ধোনি বা ভাই, যে কোনও কিছু বলে ডাকা যেতেই পারে। কিন্তু স্যর বলার দরকার নেই।












Click it and Unblock the Notifications