আইপিএল-এর সবচেয়ে বড় বিচ্ছেদ, তবে কি ভেঙে গেল কিং আর গতি-র রাজকীয় জুটি

কেকেআর-এর এহেন কিং-গতি-র জুটি এবার সম্ভবত ভাঙতে চলেছে। কারণ, আইপিএল-এর রিটেনশন-এ গৌতম গম্ভীরকে রাখা হয়নি। ২০১৭-র আইপিএল-এর পর থেকেই একটা হালকা গুঞ্জন চলছিল।

নিজে দিল্লিওয়ালা। তাই গৌতম গম্ভীরের সঙ্গে কিং খান-এর রসায়নটাও ছিল জমাটি। দুই দিল্লিওয়ালা মিলে ভিন একটা শহরে ডেরা বেঁধে তাঁদের দলকে করে ছিলেন আইপিএল সেরা। শাহরুখ খান এবং গৌতম গম্ভীর-এর জুটি-তে মোট দু'বার আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয় কলকাতা নাইট রাইডার্স। এছাড়াও ২০১১, ২০১৬ ও ১৭-তে কেকেআর পৌঁছেছিলো আইপিএল-এর প্লে-অফ-এ।

আইপিএল-এর সবচেয়ে বড় বিচ্ছেদ, তবে কি ভেঙে গেল কিং আর গতি-র রাজকীয় জুটি

কেকেআর-এর এহেন কিং-গতি-র জুটি এবার সম্ভবত ভাঙতে চলেছে। কারণ, আইপিএল-এর রিটেনশন-এ গৌতম গম্ভীরকে রাখা হয়নি। ২০১৭-র আইপিএল-এর পর থেকেই একটা হালকা গুঞ্জন চলছিল। শোনা যাচ্ছিল কেকেআর আর অধিনায়ক গম্ভীরকে ধরে রাখতে আগ্রহী নন। আবার গম্ভীর ক্যাম্পেরও দাবি ছিল, দীর্ঘদিন ধরে পরিবারকে ছেড়ে অন্য একটি শহরে ডেরা বেঁধে থাকা তাঁর পক্ষেও সম্ভব হচ্ছে না। ঘনিষ্ট এই মহলের দাবি ছিল, গম্ভীর এবার নিজের শহর দিল্লি-তে ফিরতে চান। তাই সেক্ষেত্রে দিল্লি ডেয়ার ডেভিলস-এ চলে যেতে পারেন তিনি। আইপিএল ১১-তে অকশন এবং রিটেনশন পদ্ধতি লাগু হবে। গম্ভীর নাকি এই পদ্ধতিকে নিজেকে অকশনে তুলতে চাইছেন বলেও দাবি করা হচ্ছিল।

আইপিএল-এ প্রথম তিনটি সিজন দিল্লি ডেয়ার ডেভিলস-এ খেলেছিলেন গৌতম গম্ভীর। ২০১১ সালে তিনি কলকাতা নাইট রাইডার্স-এ খেলতে আসেন। কেকেআর-এ প্রথম মরসুমে ১৫টি ম্যাচে ৩৭৮ রান করেছিলেন। সর্বোচ্চ ছিল অপরাজিত ৭৫রান। গড় ৩৪.৩৬। স্ট্রাইক রেট ছিল ১১৯.২৪। ২০১২ সালের আইপিএল-এ আরও দুরন্ত হয়ে উঠেছিলেন গৌতম গম্ভীর। সে বছর ১৭টি ম্যাচে ৫৯০ রান করেছিলেন। সর্বোচ্চ রান ছিল ৯৩। গড় ৩৯.৩৩। স্ট্রাইক রেট ১৪৩.৫৫। ২০১২-তে আইপিএল চ্যাম্পিয়নও হয়েছিল কেকেআর। ২০১৭ সালের আইপিএল-এ ১৬ ম্যাচে মোট ৪৯৮ রান করেন গৌতম গম্ভীর। সর্বোচ্চ রান ছিল অপরাজিত ৭৬। গড় ৪১.৫০। স্ট্রাইক রেট ১২৮.০২।

গত আইপিএল-এ অধিনায়কত্ব করার সময় বারবার মেজাজ হারিয়েছেন গম্ভীর। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও তিনি দলকে জিতিয়ে আনতে পারছিলেন না। স্বাভাবিকভাবেই গম্ভীরকে নিয়ে কেকেআর টিম ম্যানেজমেন্টের মধ্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। স্বয়ং দলের অন্যতম কর্ণধার শাহরুখ খানও মনে করছিলেন, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে একই টিম ধরে রাখায় তা পারফরম্যান্স-কে ঠিক করে বুস্ট-আপ করতে পারছে না। তারমধ্যে দলের অধিকাংশ প্লেয়ারেরই বয়স ত্রিশ পার করেছে। দলে ইয়ং ব্লাড আনার জন্য সওয়ালও শুরু করেছিলেন শাহরুখ। তবে, গম্ভীরকে সরানোতে তিনি খুব একটা রাজি ছিলেন না বলেই কেকেআর সূত্রে দাবি। কিন্তু গম্ভীর যে ভাবে নিজের শহর দিল্লিতে ফিরে যাওয়ার জন্য প্রকাশ্যে বিবৃতি দিচ্ছিলেন তাতে ক্ষুব্ধ হয়েছিল কেকেআর টিম ম্যানেজমেন্ট। তাহলে সেই কারণ কি শেষ মুহূর্তে রিটেনশন-এ রাখা হল না গম্ভীরকে? এই নিয়েও প্রশ্ন ঘুরছে। আবার কিছু ক্রিকেট বিশেষজ্ঞর মতে, নিলামে তুলে গম্ভীরকে ফের দলে টেনে নিতে পারে কেকেআর। কারণ রিটেনশনে থাকতে গম্ভীর যে দর চাইছিলেন তা দিতে নাকি রাজি ছিল না কেকেআর। নিলামে উঠলে গম্ভীরের এই দর কিছুটা কমবে। আর সেই সুযোগে ঝোপ বুঝে কোপ মারতে পারে শাহরুখের দল। কেকেআর-এর একটা সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, অধিনায়ক গম্ভীরের বদলি এখনও হাতে আসেনি। তাই অধিনায়ক গম্ভীরকে এখনও তাঁদের দরকার।

যদিও, গম্ভীররে রিটেনশন-এ না রাখা নিয়ে ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় উঠেছে। অনেকেই এটাকে অপমান বলে গম্ভীরকে দিল্লি ডেয়ার ডেভিলস-এ খেলার পক্ষে সওয়াল করছে।

কেকেআর অবশ্য রিটেনশনে রেখেছে আন্দ্রে রাসেল ও সুনীল নারিনকে। রাসেলকে ৭ কোটি এবং নারিনকে ৮.৫কোটি টাকা তারা রিটেনশনে রেখেছে।

ইউসুফ পাঠান এবং ক্রিস লিন-সহ সমস্ত প্লেয়ারকেই ছেড়ে দিয়েছে কেকেআর। এই মুহূর্তে আইপিএল-এ হার্ড-হিটার ইউসুফ পাঠান-এর বহু বদলি ভালো প্লেয়ার আছে বলেই মনে করছে কেকেআর ম্যানেজমেন্ট। ইউসুফ-এর হয় ছক্কা না হয় অক্কা-য় আর ভরসা রাখতে রাজি নয় তারা। এতে দলের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে। ক্রিস লিন গত আইপিএল-এ ভালোই শুরু করেছিলেন। কিন্তু তাঁর চোট প্রবণতায় চিন্তায় কেকেআর। তার মধ্যে ক্রিস লিন-এরও বয়স ৩০-এর উপরে। সেই কারণে তাঁকে রিলিজ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় নাইটরা।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+