ক্রিস কেয়ার্নসের ক্যানসার! নিউজিল্যান্ডের প্রাক্তনী নিজেই জানালেন নতুন লড়াই শুরুর কথা
ক্রিস কেয়ার্নস আবারও নতুন লড়াইয়ের সামনে। এবারের লড়াইটাও নিঃসন্দেহে কঠিন, যা নিয়ে জীবন-সংশয়ও থাকছে। সে কথা নিজেই ইনস্টাগ্রাম পোস্টে জানিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের প্রাক্তন অলরাউন্ডার। স্পাইনাল স্ট্রোকে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন। কোমরের নীচ থেকে পুরোটাই অবশ হয়ে যায়। রিহ্যাব চলার ফাঁকেই গতকাল ফের দুঃসংবাদ পেয়েছেন কেয়ার্নস। এবার তিনি অন্ত্রের ক্যানসার (bowel cancer)-এ আক্রান্ত।

ক্রিস কেয়ার্নস ইনস্টাগ্রামে জানিয়েছেন, গতকালই আমি ক্যানসারে আক্রান্ত বলে জানতে পেরেছি। এটা অবশ্যই একটা বড় ধাক্কা। রুটিন চেক আপ করাতে গিয়েছিলাম। কিন্তু ক্যানসারে যে আক্রান্ত হয়েছি সেটা একেবারেই অপ্রত্যাশিত। আবার সার্জেন ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আমাকে আলোচনায় বসতে হবে। আমার জীবনে সব কিছুই ঘটছে। তবে এই সপ্তাহটি খারাপ কাটালাম না। বাচ্চাদের খেলাধুলোয় উপস্থিত থাকতে পেরেছি। বাড়িতে নোয়ার জন্মদিন উদযাপনও হয়েছে। সামনে আরেকটা লড়াই অপেক্ষা করছে। ক্যানসারের এই নয়া চ্যালেঞ্জ প্রথম রাউন্ডেই আপার কাট মেরে ওড়াতে বদ্ধপরিকর কেয়ার্নস। তাঁর পোস্টের শেষ লাইন দেখে একটা ইঙ্গিত মিলছে যে, ক্যানসার হয়তো রয়েছে প্রাথমিক পর্যায়েই।
আর্টারি ছিঁড়ে রক্তক্ষরণের জেরে গত অগাস্টেই জীবন সংশয় দেখা দিয়েছিল ক্রিস কেয়ার্নসের। হার্টে জরুরি অস্ত্রোপচারও হয়। এরপর স্পাইনাল স্ট্রোকের কারণে কেয়ার্নসের কোমরের নীচ থেকে পুরোটা অসাড় হয়ে যায়। ১৪১ দিন চিকিৎসার পর গত সপ্তাহে তিনি ইউনিভার্সিটি অব ক্যানবেরা হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান। গতকালই তাঁকে রুটিন চেক-আপের জন্য যেতে বলা হয়েছিল। তারপরই জানলেন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার কথা। রিহ্যাব চলাকালীন নিজের বিভিন্ন ছবি পোস্ট করেন কেয়ার্নস। শিশুদের সঙ্গে হুইলচেয়ারে বসে ক্রিকেট খেলতেও দেখা গিয়েছে। এবার ক্যানসারকে বোল্ড আউট করার পালা।
ক্রিস কেয়ার্নসের পিতা ল্যান্স কেয়ার্নসও নিউজিল্যান্ডের হয়ে খেলেছেন। ক্রিস কেয়ার্নস দেশের হয়ে খেলেছেন ৬২টি টেস্ট, ২১৫টি একদিনের আন্তর্জাতিক ও দুটি টি ২০ আন্তর্জাতিক। ৫১ বছরের কেয়ার্নস এখন স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে থাকেন ক্যানবেরায়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর ২০০৮ সালে কেয়ার্নস আইসিএলে চণ্ডীগড় লায়ন্সের অধিনায়ক হন। এরপর ম্যাচ গড়াপেটার অভিযোগ ওঠে। যদিও নিজেকে নির্দোষ বলেই দাবি করতে থাকেন। ২০১২ সালে ললিত মোদীর বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে জয়লাভও করেন। ব্রিটেনের ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসের দ্বারা অভিযুক্ত হয়ে মানহানির মামলা থেকেও তিনি অব্যাহতি পান ২০১৫ সালে। যদিও তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানা গিয়েছিল, কয়েক বছর ধরে আইনি লড়াই চালানো কেয়ার্নসের মানসিক ও শারীরিক পরিস্থিতিতেও প্রভাব ফেলে। বর্তমানে তাঁর আরোগ্য কামনা করছে ক্রিকেটবিশ্ব।












Click it and Unblock the Notifications