Anshuman Gaekwad: কর্কট রোগের সঙ্গে লড়াইয়ে হার মানলেন, জীবনের ২২ গজ থেকে বিদায় নিলেন অংশুমান
জীবনের ২২ গজে লড়াই থেমে গেল অংশুমান গায়কোয়াড়ের। ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন দীর্ঘদিন ধরেই। বুধবার রাতে প্রয়াত হলেন ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার । মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। বেশ কয়েক বছর ধরেই ক্যানসারে ভুগছিলেন তিনি। বুধবার রাতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন ভারতীয় দলের এই প্রাক্তন ক্রিকেটার। তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া ভারতীয় ক্রিকেটে।
দুর্ধর্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ইডেনে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল ১৯৭৪ সালের ২৭ ডিসেম্বর। টেস্টে প্রথম ইনিংসে ৩৬ রান করেছিলেন ৬ নম্বরে নেমে দুরন্ত ক্যারিবিয়ান বোলার অ্যান্ডি রবার্টসদের সামলে। অংশুমানের অভিষেক টেস্টে ভারত তখন ৯৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছে। সেই সময় নবাগত অংশুমান গায়কোয়াড় পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন গুন্ডাপ্পা বিশ্বনাথের সঙ্গে। ভারত সেই ম্যাচ ইডেনে ৮৫ রানে জিতেওছিল।

প্রসঙ্গত সেই ম্যাচে অংশুমানের সঙ্গে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল পেসার কারসন ঘাউড়িরও। সেটি ছিল ৭৫০ তম আন্তর্জাতিক টেস্ট ম্যাচ। ৪০টি টেস্ট খেলে করেছেন ১৯৮৫ রান করেছেন। গড় ৩০.০৭। শতরান করেছেন দু'টি, অর্ধশতরান করেছেন ১০টি। সর্বোচ্চ রান ২০১। মোট ১৫টি এক দিনের ম্যাচও খেলেছেন তিনি। ২০.৬৯ গড়ে ২৬৯ রান করেছেন।
ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো পারফরম্যান্স করেছেন তিনি। ঘরোয়া ক্রিকেটে বরোদার হয়ে মাঠে নামতেন অংশুমান। ২০৬টি ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচে ১২১৩৬ রান রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। ১৪৩টি উইকেটও নিয়েছেন তিনি।
তিনি ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন।লন্ডনের কিংস কলেজ হাসপাতালে রয়েছেন গায়কোয়াড়। সেখানে তাঁকে দেখতে যান সন্দীপ পাটিল ও দিলীপ বেঙ্গসরকার। চিকিৎসার জন্য লন্ডনে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল গায়কোয়াড়কে। মাস খানেক আগেই তিনি ইংল্যান্ড থেকে বরোদায় ফেরেন। সেখানেই তাঁর চিকিৎসা জারি ছিল। তবে বুধবার জীবনযুদ্ধে হার মানেন তারকা ক্রিকেটার।
একটা সময় ভারতীয় দলের কোচও ছিলেন তিনি। অংশুমানের কোচিংয়ে ভারত ২০০০ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে রানার্স-আপ হয়েছিল। তাঁর কোচিংয়েই শারজায় অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল টিম ইন্ডিয়া। কঠিন সময় তাঁদের পাশে ছিল বিসিসিআই। কিন্তু শেষরক্ষা হল না।
বিসিসিআই সচিব জয় শাহ ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার অংশুমান গায়কোয়াড়ের জন্য ১ কোটি টাকা সাহায্যের ঘোষণা করেছিলেন কয়েক সপ্তাহ আগেই। ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একসময়ের সতীর্থের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন মহিন্দর অমরনাথ, সুনীল গাওস্কর, সন্দীপ পাটিল, দিলীপ বেঙ্গসরকার, মদন লাল, রবি শাস্ত্রী ও কীর্তি আজাদরা। গায়কোয়াড়ের চিকিত্সার জন্য় নিজের পেনশনের টাকা খরচ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কপিল দেবও। চিকিৎসার জন্য নিজের পেনশনের অর্থ দিতেও তৈরি ছিলেন কপিল দেব।
কিন্তু সব চেষ্টা বৃথা করে না ফেরার দেশে চলে গেলেন অংশুমান। বর্তমান থেকে অতীতের ভিড়ে মিশে গেলেন আরও এক তারকা।












Click it and Unblock the Notifications