প্রয়াত কিংবদন্তি ফুটবলার সুরজিৎ সেনগুপ্ত
প্রয়াত কিংবদন্তি ফুটবলার সুরজিৎ সেনগুপ্ত
থমকে গেল সমস্ত লড়াই। অবশেষে হার মানতে হল মৃত্যুর কাছে। ভারতীয় ফুটবলকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন ময়দানের আরও এক কিংবদন্তি সুরজিৎ সেনগুপ্ত। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ৫৪ মিনিটে প্রয়াত হন দিকপাল এই ফুটবলার। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তাঁর প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন সুরজিৎ সেনগুপ্ত। ভর্তি ছিলেন বাইপাস সংলগ্ন এক বেসরকারি হাসপাতালে। সেখানেই বৃহস্পতিবার দুপুর ১:৫৪ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন ভারতীয় ফুটবলের অন্যতম কৃতী তারকা।
কোভিড-১৯ কেড়ে নিল সুরজিতের প্রাণ। জানুয়ারি মাসের ২৩ তারিখ মৃদু উপসর্গ নিয়ে তিনি ভর্তি হন বাইপাস সংলগ্ন বেসরকারি হাসপাতালটিতে। দিন দু'য়েক পর শরীরী অবস্থার উন্নতি হলেও তা ফের খারাপের দিকে যায় আরও দুই বা তিন দিন পর। পরিস্থিতি এতটাই খারাপের দিকে ছিল যে ২৯ জানুয়ারি থেকে তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখা শুরু হয়।
১৯৫১ সালের ৩০ অগস্ট জন্ম সুরজিৎ সেনগুপ্তর। এই তারকা ফুটবলারের কেরিয়ারে প্রথম ক্লাব ছিল খিদিরপুর। খিলিরপুর ক্লাবে তাঁর খেলা নজর টানে মোহনবাগান রিক্রুটারদের। লিগে ক্রমাগত ভাল পারফরম্যান্সের ফসল তিনি পান ১৯৭২ সালে। তাঁকে সই করিয়ে নেয় সবুজ-মেরুন। কেরিয়ারে প্রথম বড় ক্লাবে দুই বছর প্রতিভার বিচ্ছূরণ ঘটিয়েছিলেন তরুণ সুরজিৎ। এই উইঙ্গার-ফরোয়ার্ডের দক্ষতা নজর এড়ায়নি ইস্টবেঙ্গলের। ১৯৭৪ সালে তাঁকে নিজেদের জার্সিতে মাঠে নামাতে সমর্থ হয়েছিল ইস্টবেঙ্গল ক্লাব। ১৯৭৪ থেকে ১৯৮০ টানা ছয় বছর লাল-হলুদ জার্সিতে খেলেছিলেন সুরজিৎ সেনগুপ্ত। ১৯৭৮ সালে লাল-হলুদের অধিনায়ক ছিলেন এই দিকপাল ফুটবলার।
১৯৮০ সালে তিনি যোগ দেন মহমেডান ক্লাবে। সাদা-কালো জার্সি গায়ে চাপিয়ে ওই এক মরসুমই খেলেছিলেন সুরজিৎ। ১৯৮১ সালে তিনি ফিরে আসেন ময়দানে নিজের প্রথম বড় ক্লাবে। ১৯৮১ থেকে ১৯৮৩ পর্যন্ত মোহনবাগানের হয়ে খেলে ফুটবল থেকে অবসর গ্রহণ করেন সুরজিৎ সেনগুপ্ত। এর মধ্যে ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৯ পর্যন্ত ভারতীয় দলের জার্সিতে চুটিয়ে খেলেছিলেন সুরজিৎ সেনগুপ্ত।
২৯ জানুয়ারি তাঁকেল ভেন্টিলেশনে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে তাঁর শরীরী অবস্থার কোনও উন্নতিই হচ্ছিল না। করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর কোমর্বিডিটির কারণেই তাঁর অবস্থা খারাপ হতে থাকে। গত সপ্তাহে শুক্রবার (১১ ফেব্রুয়ারি) তাঁকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার জন্য এসএসকেএম থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদেরও। স্নায়ুর জটিল রোগ পার্কিনসনেও আক্রান্ত ছিলেন এই মহান ফুটবলার।












Click it and Unblock the Notifications