তালিবানি শাসনে ক্রিকেটের স্বার্থে কাতর আর্জি আফগানিস্তান বোর্ডের প্রাক্তন প্রধানের
আফগানিস্তানে ক্রিকেটকে জীবিত রাখার জন্য তালিবানের কাছে আবেদন রাখলেন সে দেশের ক্রিকেট বোর্ডের প্রাক্তন প্রধান।
আফগানিস্তান ক্রিকেটে তৈরি হয়েছে এক অনিশ্চয়তা। তালিবানের আশ্বাসবাণী সত্ত্বেও সে দেশে আদৌ ক্রিকেট খেলার মতো পরিবেশ এবং পরিস্থিতি ফের তৈরি হবে কিনা, তা নিয়ে দ্বিধায় রয়েছে বিশ্ব। অস্থির রাজনৈতিক অবস্থার জেরে আগামী মাসে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে অনুষ্ঠেয় তিন ম্যাচের ওয়ান ডে সিরিজ স্থগিত হয়ে গিয়েছে। আগামী নভেম্বরে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে শুরু হচ্ছে টি২০ বিশ্বকাপ। সেই টুর্নামেন্টে আফগান ক্রিকেটারদের উপস্থিতি নিয়ে ধোঁয়াশা অব্যাহত রয়েছে। সেই আবহে এক কাতর আবেদন করে বসলেন আফগান ক্রিকেট বোর্ডের প্রাক্তন প্রধান শাফিক স্তানিকজাই।

কী বললন শফিক
১৮ বছর ধরে আফগানিস্তান ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন শফিক স্তানিকজাই। তালিবানি শাসনেই আফগান ক্রিকেটের উত্থান থেকে অনেক নামাওঠার সাক্ষী সে দেশের প্রাক্তন বোর্ড প্রধান বিশ্বাস করেন যে তালিবানিরা ক্রিকেটকে সম্মান করে, সব রকম সহযোগিতার চেষ্টা করে। নিজের অভিজ্ঞতা রোমন্থন করে শফিক বলেছেন, তালিবানিরা দেশে ক্রিকেটের শ্রীবৃদ্ধির পক্ষে। আগেও তারা একই ভূমিকা পালন করেছে বলেও জানিয়েছেন আফগান ক্রিকেট বোর্ডের প্রাক্তন প্রধান। ফলে তালিবানিরা রশিদ খান, মহম্মদ নবিদের জন্য খুব একটা সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াবে বলেও মনে করেন না শফিক স্তানিকজাই। তারই সূত্র টেনে আফগানিস্তানের নতুন প্রশাসকদের কাছে তাঁর কাতর আবেদন, সে দেশে ক্রিকেট যেন কোনওমতেই পরিত্যক্ত না হয়।

আফগানদের ক্রিকেট গর্ব
১৯৯০ সাল থেকে আফগানিস্তানে ক্রিকেটের চল শুরু হয়। পাকিস্তানের উদ্বাস্তু শিবির থেকে দেশে ফিরে আফগান ক্রিকেটাররা এই খেলাকে জনপ্রিয় করার কাজ শুরু করে। মাঝে কেটে যায় ১১ বছর। ২০০১ সালে আইসিসির আফিলিয়েট সদস্যপদ পেয়েছিল আফগানিস্তান। ঠিক তার এক বছর আগে সে দেশের ক্রীড়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছিল তালিবান। এরপর থেকে বিশ্ব ক্রিকেটের মানচিত্রে উত্থানই ঘটেছে আফগানদের। সাপুর জারদান, হামিদ হাসানদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে সে দেশের ক্রিকেটকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন রশিদ খান, মহম্মদ নবি, আসগর আফগানরা। ইতিমধ্যে আইসিসি-র নিয়মিত সদস্যপদ পেয়েছে আফগানিস্তান। ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কার মতো শক্তিশালী দলগুলির সঙ্গে চোখে চোখ রেখে কথা বলছেন রশিদ খান, দেখে গর্বে বুক ভরে যায় আফগান ক্রিকেট বোর্ডের প্রাক্তন প্রধান শফিক স্তানিকজাইয়ের। তাঁর কথায়, ক্রিকেট বিশ্বে আফগানদের মাথা উঁচু করেছে।

ক্রিকেট দিয়েই পরিচিতি
নিজের অভিজ্ঞতা রোমন্থন করে শফিক স্তানিকজাই বলেছেন, তিনি তাঁর জীবনে একাধিকবার বিদেশ সফর করেছেন। শুরুর দিকে তাঁকে অবহেলার স্বীকারও হতে হয়েছে। কিন্তু ক্রিকেট খেলিয়ে দেশ হিসেবে আফগানিস্তানের উত্থানের পর পরিস্থিতিতে আমুল পরিবর্তন এসেছে বলে জানিয়েছেন শফিক। তাঁর কথায়, রশিদ খান, মহম্মদ নবিদের জন্য বর্তমানে বিশ্বের যে কোনও প্রান্তে মাথা উঁচু করে চলতে পারেন আফগান নাগরিকরা। ক্রিকেটের মাধ্যমেই তাঁদের নিজস্ব এক পরিচয় তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রাক্তন প্রধান। এ ব্যাপারে ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে আফগান ক্রিকেটারদের অসাধারণ পারফরম্যান্সের কথা উল্লেখ করেছেন শফিক। সেই পারফরম্যান্স আফগান ক্রিকেটকে অন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে বলেও তিনি মনে করেন।

মহিলাদের ক্রিকেট
দুই দশক পর আফগানিস্তানে কব্জা করে ফের মহিলাদের ওপর বিধি নিষেধ আরোপ করতে শুরু করেছে তালিবান। এই পরিস্থিতিতে সেদেশের মহিলা ক্রিকেটের ভবিষ্যত নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু হয়েছে। সে আশঙ্কা যে অমলূক নয়, তা মেনে নিয়েছেন শফিক স্তানিকজাই। তাঁর কথায়, তালিবানি সমাজ যে মহিলাদের ক্রিকেট মেনে নেবে না, সে ধারণা সঠিক। তবু তারই মধ্যে দেশের কিছু কিছু প্রদেশে মহিলারা সাহস করে ক্রিকেট খেলছেন বলেও জানিয়েছেন আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রাক্তন প্রধান। এই সমস্যা সমাধানে সমাজ সংস্কারই যে একমাত্র পথ, তাও জানাতে ভোলেননি শফিক।












Click it and Unblock the Notifications