ICC CWC 2023: সিএবি ইলিশ উৎসবে আমরা-ওরায় ব্রাত্য মাঠকর্মীরাই! ইডেন পরিদর্শনে আসছেন আইসিসির কিউরেটর প্রধান
ICC CWC 2023: ইডেন রাজকীয় সাজে সেজে তৈরি হচ্ছে বিশ্বকাপ আয়োজনে। যদিও প্রদীপের নীচেই অন্ধকার। রবিবাসরীয় দুপুরে ক্রিকেটের নন্দনকাননে হয়ে গেল ইলিশ উৎসব। সেখানে ব্রাত্য রইলেন মাঠকর্মীরাই!
এরই মধ্যে শুক্রবার ইডেন পরিদর্শনে আসছেন আইসিসির পিচ পরামর্শদাতা তথা প্রধান কিউরেটর অ্যান্ডি অ্যাটকিনসন। তার আগে বঞ্চনার জেরে মন খারাপ হলেও কাজ হারানোর ভয়ে মুখে কুলুপ মাঠকর্মীদের।

স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায় সিএবি সভাপতি হওয়ার পর আর বাড়েনি মাঠকর্মীদের বেতন। তারই মধ্যে সিএবি কর্মীদের একাংশের বেতন বৃদ্ধিতে অসন্তোষ পুঞ্জীভূত হচ্ছিল। স্নেহাশিস অবশ্য আশ্বাস দিয়েছেন, অ্যাপেক্স কাউন্সিলে এ নিয়ে আলোচনার পর যথোপযুক্ত পদক্ষেপ করা হবে। ওয়ানইন্ডিয়া বাংলার খবরের জেরে স্নেহাশিস নিজে উদ্যোগী হয়ে মাঠকর্মীদের খাবারের মানোন্নয়নের বন্দোবস্ত করেন।
সভাপতির পক্ষে ছোটখাটো সব কিছু দেখা সম্ভব নয়। তাঁর টিম থাকে। টিমগেমেই কোনও সংস্থা সঠিকভাবে চলে। কিন্তু টিম মেম্বাররা যদি পদক আঁকড়ে থাকার সমীকরণে নিজেদের কর্তব্যে অবিচল না থাকেন তাহলেই দেখা দেয় নানা সমস্যা। সিএবির ইলিশ উৎসবে এক কর্তা যেমন দাবি করেছেন ৮ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। বাকিরা তা মানতে চাননি। ইলিশ যে তাঁদের মিলমিশ করাতে পারেনি সেটাও স্পষ্ট।

এই ইলিশ উৎসবেই ব্রাত্য রাখা হয়েছে মাঠকর্মীদের। সিএবি সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলার ক্রিকেট সংস্থার নিত্যদিনের কাজকর্মে যুক্ত সমস্ত স্তরের কর্মীদের ওই উৎসবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এমনকী ইডেনে যে ক্যান্টিন রয়েছে সেখানকার কর্মীরাও আমন্ত্রিত ছিলেন। কিন্তু যেখানে তারকাখচিত ওই অনুষ্ঠানটি হয়েছে তার ঢিলছোড়া দূরত্বে থাকা কোয়ার্টারে থাকা মাঠকর্মীরাই ছিলেন অনাহূত।
ইডেন আইপিএলে একাধিকবার সেরা মাঠের পুরস্কার পেয়েছে। তাতে অবদান রয়েছে মাঠকর্মীদেরই। রোদে পুড়ে, জলে ভিজে তাঁরা প্রধান কিউরেটরের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে মেনে পিচ, আউটফিল্ড তৈরি করেন। বৃষ্টি বা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিতে তাঁরা জীবন বিপন্ন করে কভারের উপর বসে বা দাঁড়িয়ে থাকেন, যাতে জলে মাঠ বা পিচ না ভেজে। সে কারণে বৃষ্টি থামলেই কিছুক্ষণের মধ্যেই খেলা শুরু করা যায়।
আগে সিএবি কর্তারা নিজেরা চাঁদা তুলে ইলিশ উৎসব করতেন। কয়েক বছর বন্ধ থাকার পর এবার ইলিশ উৎসব হলো সিএবির ফান্ড দিয়েই। বিশ্বকাপের আগে পারস্পরিক মেলবন্ধনের সাধু উদ্যোগ। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে যেখানে কয়েক লক্ষ টাকা খরচ হলো, সেখানে আর কয়েকটা মিল বেশি হলে কতই বা ক্ষতি হতো? আমরা-ওরার বিষয় ঘুচতো, ইলিশ তৃপ্তির হাসি ফোটাতো মাঠকর্মীদের মুখে।
সিএবি সূত্রে খবর, সিএবির প্রধান কিউরেটর সুজন মুখোপাধ্যায় আমন্ত্রিত ছিলেন। তিনি একাধারে প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা সিএবি প্রশাসনের প্রাক্তন পদাধিকারীও। কিন্তু সুজনের সহযোগী হিসেবে যাঁরা ইডেন-সহ বিভিন্ন মাঠ তদারকিতে নিযুক্ত তাঁদেরও ইলিশ উৎসবের আমন্ত্রণ মেলেনি। সবচেয়ে অবাক করার মতো বিষয়, যাঁরা ইলিশ চেটেপুটে খেলেন তাঁদের চোখ কি গেল না মাঠকর্মীদের কোয়ার্টারের দিকে?

অন্তত কয়েকটা প্যাকেটে খাবার রেখে সেগুলিও তো পৌঁছে দেওয়া যেত ওইদিন মাঠকর্মীদের মেনু হিসেবে। বিষয়টি মনে না থাকা বা ইচ্ছে থাকলেও ভুলের জন্য এমনটা হয়েছে, এই যুক্তি খাটবে না। কারণ, এই নিয়ে এখনও কারও হেলদোল নেই। অনেকেই বলছেন, বিষয়টি স্নেহাশিস বা সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নজরে কেউ আনলে তাঁরাই বন্দোবস্ত করতেন। কারণ তাঁরা টিমগেমে বিশ্বাসী।
বিশ্বকাপ আসছে। এই মাঠকর্মীদের তৈরি পিচেই ব্যাটে-বলে জমাটি দ্বৈরথ হবে। তাই সহানুভূতিশীল মহলের আর্জি, মাঠকর্মীদের প্রতি বঞ্চনা এবার ঘোচানো হোক। সকলে মিলে সফলভাবে আয়োজিত হোক বিশ্বকাপ। শুক্রবার সকালেই আইসিসির প্রধান কিউরেটর এসে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়ে যাবেন। মুম্বইয়ের বৈঠকে পারিবারিক কারণে হাজির থাকতে পারেননি সিএবির প্রধান কিউরেটর সুজন মুখোপাধ্যায়।
আইসিসির প্রধান কিউরেটরের সঙ্গে বিসিসিআইয়ের প্রধান কিউরেটরও আসতে পারেন। তাঁদের গাইডলাইন মেনেই প্রস্তুত থাকবে ইডেনের ২২ গজ। যা সুন্দরভাবে তৈরির কাজ নিপুণভাবে করবেন সিএবির একাংশ কর্তাদের দ্বারা বারেবারে বঞ্চিত মাঠকর্মীরাই।
(ছবি- পিটিআই ও সিএবি অফিসিয়াল ফেসবুক)












Click it and Unblock the Notifications