CWC Exclusive: বিশ্বকাপে নেট বোলার হওয়ার হাতছানিতেই প্রতারণার ফাঁদ! নাম জড়ানো নিয়ে অন্ধকারে সিএবি, তদন্ত দাবি
ICC World Cup 2023: বিশ্বকাপ শুরু হতে এক মাসও বাকি নেই। তার জেরে টিকিট ব্ল্যাকাররা যেমন প্রতারণার ফাঁদ পেতে অপেক্ষায়, তেমনই উদীয়মান ক্রিকেটারদের প্রতারণার নয়া কৌশল ধরা পড়ল ওয়ানইন্ডিয়া বাংলার অন্তর্তদন্তে।
সিএবি-র লোগো ব্যবহার করে একটি ফেসবুক গ্রুপ খোলা হয়েছে। সেখানেই শিবমকুমার গুপ্তার পোস্ট শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল ফ্রেন্ডস নামে একটি ফেসবুক গ্রুপ রয়েছে। ফ্রেন্ডসের f স্মল লেটারে। কিন্তু ফ্রেন্ডস শব্দ বাদে বাকি লেখাটা দেখলে সিএবির অফিসিয়াল ফেসবুক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে অবিকল মিল। সিএবির অফিসিয়াল ফেসবুক অ্যাকাউন্টে অবশ্য ব্লু টিক রয়েছে। কিন্তু সিএবির লোগো ব্যবহার করে ফেসবুকে গ্রুপ চলছে সেটা নজরে এলো না কারও!
সিএবির লোগো অবৈধভাবে ব্যবহার করে যে ফেসবুক গ্রুপ চলছে তাতেই আজ একটি পোস্ট আসে জনৈক শিবমকুমার গুপ্তার। যদিও ছত্রে ছত্রে সেখানে বানান ভুল। সেখানে লেখা ৫০ জন নেট বোলার দরকার। তার ট্রায়াল হবে। যদিও ট্রায়াল বানানটিও ভুল। Trial না লিখে লেখা Trail। যার মিল পাওয়া যাচ্ছে 'Money Trail'-এর সঙ্গে।
বিশ্বকাপ, আইপিএল, বিসিসিআইয়ের ঘরোয়া টুর্নামেন্ট, রঞ্জি ট্রফি, সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফির মতো নানা টুর্নামেন্টে নেট বোলারদের জন্য ট্রায়াল ক্যাম্পে যোগদানের আহ্বান। সৈয়দ মুস্তাক আলির মুস্তাক বানানটিও ভুল লেখা। ফলে বুঝে নিতে অসুবিধা হবে না এটা প্রতারণারই ফাঁদ। রেজিস্ট্রেশনের জন্য একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর দেওয়া হয়েছে।
ওই ফেসবুক বার্তায় এমন লেখা নভদীপ সাইনি, সুযশ শর্মারাও নেট বোলার হিসেবে উঠে এসেছেন। তবে আইপিএলে আরসিবিতে খেলা বিজয় কুমার বৈশক লিখতে গিয়ে বৈশক বিশাল কুমার লিখে ফেলেছে প্রতারক! দ্রুত নেট বোলার প্রয়োজন বলে হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

এরপরই ওয়ানইন্ডিয়া বাংলা ওই নম্বরে ফোন করলে ফোন বেজে যায়। তারপর হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলে আইডিসিটি নামের বিজনেস অ্যাকাউন্ট থেকে জানানো হয়, ৫ হাজার টাকা ইউপিআইতে জমা দেওয়া হলে তবে গ্রুপে অ্যাড করা হবে। সেই সঙ্গে লখনউ সুপার জায়ান্টসের ট্রায়াল ক্যাম্পের ভিডিও পাঠানো হয়েছে।
উদীয়মান ক্রিকেটাররা নেট বোলার হতে চান। তাও বিশ্বকাপে সেই সুযোগের হাতছানি! ফলে অনেকেই এই প্রতারণার ফাঁদে পা দিতে পারেন। শিবমকুমার গুপ্তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লেখা ধানবাদের ছেলে হলেও এখন দুর্গাপুরের বাসিন্দা। এমনকী ট্রুকলারেও আইডিসিটি দুর্গাপুর বলেই দেখাচ্ছে। ইতিমধ্যেই কেউ এই প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়েছেন কিনা সন্দেহ।
সিএবি-র লোগো ব্যবহার করা ফেসবুক গ্রুপে এমন প্রতারণার ফাঁদের বিষয়টি নজরে আনা হয়েছে সিএবির মিডিয়া ম্যানেজারের। তিনি কলকাতার বাইরে আছেন। বাংলার ক্রিকেট মহলের অনেকেই মনে করছেন, নেট বোলার বাছাইয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে অবিলম্বে আইনগত পদক্ষেপ করা উচিত সিএবির। রাজ্য ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থার সঙ্গে যুক্ত কেউ কোনওভাবে এই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে যুক্ত কিনা তার তদন্তের দাবি উঠেছে।
নেট বোলার বানিয়ে দেওয়ার জন্য অবৈধ লেনদেন চলে কিনা তাও সিএবি ও পুলিশের খতিয়ে দেখা উচিত বলে মনে করছেন অনেকেই। সর্বোপরি সিএবির লোগো ব্যবহার করে কীভাবে এমন ফেসবুক গ্রুপ চলতে পারে, সিএবি-র কারও বিষয়টি কেন নজরেই এলো না সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। বিষয়টি অবিলম্বে নজরে আনা হচ্ছে সিএবি সভাপতি স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়ের।












Click it and Unblock the Notifications