Oneindia Impact: ইডেনের মাঠকর্মীদের খাবারের সমস্যা মেটালেন স্নেহাশিস, সিএবি কর্মীদের একাংশে বেতন-অসন্তোষ
বিশ্বকাপের আগে আজ ইডেন গার্ডেন্স পরিদর্শনে এসেছিল আইসিসি-র প্রতিনিধিদল। ছিলেন বিসিসিআই ও সম্প্রচারকারী সংস্থার প্রতিনিধিরা। ইডেনের প্রস্তুতি দেখে তাঁরা সন্তুষ্ট। চিফ কিউরেটর সুজন মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে যেভাবে মাঠ তৈরির কাজ চলছে তাতেও সকলেই সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
রোদে পুড়ে, জলে ভিজে যে মাঠকর্মীরা জীবন বিপন্ন করে ভালো মাঠ, ভালো পিচ তৈরি করেন তাঁদের খাবারের গুণমান নিয়ে সমস্যার কথা তুলে ধরেছিল ওয়ানইন্ডিয়া বাংলা। সেই সমস্যা মিটেছে। কিন্তু ঘটনাপ্রবাহ দেখে মনে হচ্ছে, মাঠকর্মী বা নিরাপত্তারক্ষীদের কেউ কেউ আজও দেখছেন দুয়োরানির মতো।

আইসিসির ইডেন পরিদর্শনের দিন ওয়ানইন্ডিয়া বাংলা খোঁজ নিয়ে জেনেছে এখন ভালো মানের খাবার পাচ্ছেন মাঠকর্মীরা। সিএবি পর্যাপ্ত পরিমাণ অর্থ ব্যয় করলেও রাজ্য ক্রিকেট সংস্থার অণু-পরমাণুদের স্বার্থসিদ্ধির জন্যই প্রতিদিন নিম্নমানের খাবার আসতো মাঠকর্মীদের জন্য। ওয়ানইন্ডিয়া বাংলা সমস্যার কথা জনসমক্ষে আনতেই নড়েচড়ে বসে সিএবি।
সিএবি সভাপতি স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়ের কথায়, এত বড় ক্রিকেট প্রশাসন চালাতে গেলে কিছু ত্রুটি বা সমস্যা থাকতেই পারে। বড় কথা হলো, সেটা আমরা শুধরেছি কিনা। খাবার নিয়ে যে সমস্যার কথা সামনে এসেছিল সেই সমস্যা দূর করা হয়েছে। সিএবির চিফ কিউরেটর সুজন মুখোপাধ্যায়ও জানিয়েছেন, আমি নিশ্চিতভাবেই বলতে পারি এখন ভালো মানের খাবার আসছে।
দীর্ঘদিন সিএবির বিভিন্ন পদাধিকারীকে জানানো হলেও সমস্যার সুরাহা হচ্ছিল না। অবশেষে বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যম সরব হয়, তারপরই সদর্থক পদক্ষেপ। যে কারণে টিম স্নেহাশিসকে সাধুবাদ জানাতেই হয়। কিন্তু এরপরেও রয়েছে আরেকটি সমস্যা।

বিশ্বকাপে মাঠের পরিকাঠামো ও নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সূত্রের খবর, মাঠকর্মী ও নিরাপত্তারক্ষীদের মধ্যে কিছুটা ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে অ্যাপেক্স কাউন্সিলের বৈঠকের পর। কাজ হারানোর ভয়ে কেউ ক্যামেরার সামনে মুখ খুলছেন না। সিএবি সরাসরি কিছু জানায়নি। তবে সূত্রের খবর, ওই বৈঠকে সিএবি-র স্টাফ বা কর্মীদের বেতন ৯ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ইতিমধ্যে অনেক কর্মীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বর্ধিত হারে বেতন ঢুকেছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, ঠান্ডা ঘরে বলে কাজ করা কর্মীদের জন্যই কেন এই বেতন-বৃদ্ধি? অ্যাপেক্স কাউন্সিলের একাধিক সদস্যকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হয়েছে। কেউই সঠিকভাবে কিছু বলতে পারছেন না। বৈঠকে থাকেন, কিন্তু সিদ্ধান্তের কথা সঠিকভাবে জানাতে পারেন না, এমন ব্যক্তিদের অ্যাপেক্স কাউন্সিলে থাকা নিয়েও তো প্রশ্ন উঠতে পারে।
সিএবির একাধিক কর্মী বা অ্যাপেক্স কাউন্সিলের সদস্যদের সঙ্গে বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে ওয়ানইন্ডিয়ার প্রতিনিধিরা বিস্তারিত তথ্য চেয়েছেন। যদিও তাঁরা মুখে কুলুপ এঁটেছেন। জানা যাচ্ছে, সিএবির অফিসের এসি ঘরে বসে যাঁরা কাজ করেন তাঁরাও যেমন কর্মী, তেমনই মাঠকর্মী, নিরাপত্তারক্ষীরাও সিএবি-র স্টাফ। সিএবি-র স্টাফদের জন্য বেতন বাড়লে কেন তাতে নেই মাঠকর্মী ও নিরাপত্তারক্ষীরা?

যে ইডেন বারবার সেরা মাঠের পুরস্কার পাচ্ছে, তার মাঠকর্মীদের প্রতিই কেন বঞ্চনার ছবি সামনে আসছে বারবার? অভিষেক ডালমিয়া সিএবি সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার আগে মাঠকর্মী, নিরাপত্তারক্ষীদের বেতন ১০ শতাংশ হারে বেড়েছিল। স্নেহাশিস সভাপতি হওয়ার পর আর বেতন বাড়েনি। এবার যে একাংশ কর্মীদের বেতন বেড়েছে তা সিএবি জানিয়ে দিলে কর্মীদের মধ্যে ধোঁয়াশা কাটে, ক্ষোভ দূর হয়।
হতেই তো পারে এই ধোঁয়াশার কারণেই ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হচ্ছে, থাকছে অসন্তোষ। যা বিশ্বকাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টের আগে মোটেই ভালো নয়। কোন স্টাফদের বেতন কেন বাড়ল, মাঠকর্মী ও নিরাপত্তারক্ষীদের নিয়ে সিএবির কী পরিকল্পনা, এ সব বিষয় সংশ্লিষ্টদের ডেকে স্পষ্ট করে দেওয়াই যায়। সব মিডিয়ায় জানানোর দরকারও নেই। সকলেই চান, সকলের কর্মোদ্যমে সফলভাবেই হোক ইডেনে বিশ্বকাপ আয়োজন।
আজ স্নেহাশিস বলেন, বেতন বাড়ানোর বিষয়টি অ্যাপেক্স কাউন্সিলে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। মাঠকর্মী, নিরাপত্তারক্ষীদের বেতন বাড়ানো নিয়ে আমরা ভাবনাচিন্তা করছি। স্নেহাশিস একজন প্রথিতযশা ক্রিকেটার। তিনি মাঠকর্মীদের গুরুত্ব বোঝেন। সিএবি সভাপতি হিসেবে স্নেহাশিস সকলের কথা শোনার জন্য দরজা খুলেও রাখেন।
এই পরিস্থিতিতে মাঠকর্মী, নিরাপত্তারক্ষীরা আশায়, যেভাবে খাবারের গুণমানের সমস্যা নজরে আসতেই সেই সমস্যার সমাধান স্নেহাশিস করেছেন, তেমনই বেতনবৃদ্ধির ক্ষেত্রে বৈষম্য ঘোচাতে, ধোঁয়াশা দূর করতে তিনিই সদর্থক পদক্ষেপ করবেন।
সভাপতি স্নেহাশিস, সচিব নরেশ ওঝা, যুগ্ম সচিব দেবব্রত দাসদের থেকে তিনি বিশ্বকাপের জন্য ইডেনকে প্রস্তুত করতে সর্বতোভাবে সহযোগিতা পাচ্ছেন বলে তাঁদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন চিফ কিউরেটর সুজন মুখোপাধ্যায়। এদিকে, সূত্রের খবর, সিএবির চিফ কিউরেটর আজ আইসিসির প্রতিনিধিদের দারুণ এক প্রস্তাব দিয়েছেন।
তিনি আইসিসির প্রতিনিধিদলকে বলেছেন, যেহেতু বিশ্বকাপে সেরা মাঠের পুরস্কার নেই, সেক্ষেত্রে যে মাঠগুলিতে খেলা হবে সেখানকার ভালো মাঠকর্মীদের চিহ্নিত করে ইনসেনটিভের বন্দোবস্ত করতে। মাঠকর্মীদের পাশে থেকে সুজনের এই প্রস্তাব গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন আইসিসির প্রতিনিধিরা।












Click it and Unblock the Notifications