তৃতীয় টেস্টের প্রথম দিনে চালকের আসনে ইংল্যান্ড, বিরাটকে সচিনের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ সানির
লিডসের হেডিংলিতে তৃতীয় টেস্টের প্রথম দিনেই চালকের আসনে ইংল্যান্ড। মিরাকল বা খারাপ আবহাওয়া ছাড়া এই টেস্টে পরাজয় থেকে ভারতের পরিত্রাণ পাওয়া কঠিন। এবারের ইংল্যান্ড সফরে সবচেয়ে খারাপ ব্যাটিং পারফরম্যান্স ভারতের। বিরাট কোহলিরা ৭৮ রানে অল আউট হওয়ার পর দিনের শেষে ইংল্যান্ড বিনা উইকেটে ১২০ রান তুলে ফেলেছে।

চালকের আসনে ইংল্যান্ড
লিডসের উইকেটে যে জুজু ছিল না তা বিরাট কোহলিদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন ইংল্যান্ডের দুই ওপেনার। জেমস অ্যান্ডারসন, ক্রেগ ওভার্টন, অলি রবিনসনরা সকালে যে অব্যর্থ লাইন ও লেংথে বল করে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের মাথা তুলতে দেননি, ভারতীয় বোলাররা সেই পারফরম্যান্সের কাছাকাছিই যেতে ব্যর্থ। লর্ডসে যে বোলিং আক্রমণ বিপজ্জনক হয়ে উঠে আগ্রাসী থেকে জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল সেই একই বোলিং আক্রমণকে এদিন কার্যত নির্বিষ দেখিয়েছে। বোঝাই গিয়েছে, ইংল্যান্ড কতটা হোমওয়ার্ক করে খেলতে নেমেছে। ইংল্যান্ড প্রথম সারির দল নিয়ে এই সিরিজ খেলছে না। তাও লর্ডস টেস্টে জিতে ভারতের যে লম্ফঝম্প দেখা গিয়েছিল তা এদিন চুরমার। এদিনও সমর্থকরা নানা কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছেন গ্যালারি থেকে। কাজের কাজ করতে না পারলে তা হজমও তো করতেই হবে! ভারত ৪০.৪ ওভারে ৭৮ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল। প্রথম দিনের শেষে ইংল্যান্ড ৪২ ওভারে বিনা উইকেটে ১২০। ররি বার্নস ৫২ ও হাসিব হামিদ ৬০ রানে ক্রিজে রয়েছেন। গত পাঁচ বছরে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার ইংল্যান্ডের ওপেনিং জুটিতে ঘরের মাঠে ১০০-র বেশি রান উঠল। গত বছর ম্যাঞ্চেস্টারে বার্নল ও ডম সিবলি ১১৪ রান যোগ করেছিলেন। ২০০১ সালে পাকিস্তান ১০৪ রানে অল আউট হওয়ার পর নিউজিল্যান্ড দিনের শেষে বিনা উইকেটে ১৬০ করেছিল। ২০১০ সালে অস্ট্রেলিয়া মেলবোর্নে ৯৮ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর ইংল্যান্ড দিনের শেষে ১৫৭ তুলেছিল কোনও উইকেট না হারিয়ে। তারপর রইল ইংল্যান্ডের এদিনের ইনিংস।

বিরাট পরামর্শ
এরই মধ্যে ভারতীয় দলের চিন্তা বাড়াচ্ছে বিরাট কোহলির অফ ফর্ম। চলতি বছরে ৮ টেস্টে ১২ ইনিংসে ভারত অধিনায়কের রান ২৯৮। সর্বাধিক ৭২। গড় ২৪.৮৩। দুটি অর্ধশতরান, তিনটি ডাক। সুনীল গাভাসকর আগেও বলেছেন, আগ্রাসী হয়ে ব্যাট করার দরকার নেই। বাইরের বল ছেড়ে থিতু হয়ে খেললেই বিরাট কোহলি বড় ইনিংস খেলতে পারবেন। ফের এদিন বিরাটকে ড্রাইভ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন সুনীল গাভাসকর। সচিন তেন্ডুলকর থেকে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় সকলেই সানির পরামর্শে উপকৃত। অথচ নাক উঁচু বিরাট যে সানির কথাকে গুরুত্ব দেন না তা ফের প্রমাণ হল হেডিংলির ব্যর্থতায়। সুনীল গাভাসকর এদিন বিরাটের আউট হওয়ার ধরন দেখে বিরক্ত হয়ে বলেন, বিরাটের উচিত এখনই সচিন তেন্ডুলকরকে ফোন করে জিজ্ঞাসা করা কীভাবে ব্যাটিং করতে হবে। সচিন সিডনিতে যা করেছিলেন, বিরাটের এখন সেটাই দরকার। নিজেকে বিরাট বারবার বলুক কভার ড্রাইভ আমি খেলব না।

সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি
বিরাটের আগ্রাসন নিয়েও গাভাসকর বলেন, সব সময় নিজের হাবেভাবে, চোখেমুখে আগ্রাসী ভাব দেখাতে হবে তেমনটা নয়। প্যাশন থাকতেই পারে। তবে আবেগের বহিঃপ্রকাশে প্রতিটি উইকেট পড়ার পরই চিৎকার করার দরকার পড়ে না। রান পাননি চেতেশ্বর পূজারা, অজিঙ্ক রাহানেও। এরই মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি উঠতে শুরু করেছে ফর্মই যদি বিচার করা হয় তাহলে ভারতীয় দল থেকে বাদ দেওয়া হোক বিরাট-পূজারা-রাহানেকে। রোহিত শর্মা নেতৃত্ব দিন। খেলানো হোক ময়াঙ্ক আগরওয়াল, সূর্যকুমার যাদব ও হনুমা বিহারীকে। সবমিলিয়ে যা পরিস্থিতি তাতে পূজারাই সবচেয়ে চাপে। টেস্ট কেরিয়ার বাঁচাতে তাঁক হাতে আর একটা ইনিংস।












Click it and Unblock the Notifications