রাহুল দ্রাবিড়ের উদ্যোগে ভারতীয় দলে প্যাডি আপটন, টি ২০ বিশ্বকাপে মানসিক দৃঢ়তা বাড়াতে বিরাট পদক্ষেপ
ওয়েস্ট ইন্ডিজে ভারতীয় দলের সঙ্গে যোগ দিলেন প্যাডি আপটন। ২০০৮ সাল থেকে ২০১১ সাল অবধি ভারতীয় দলের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন। এগারোর বিশ্বকাপ জয়ের নেপথ্যেও সাপোর্ট স্টাফ হিসেবে তাঁর ভালোই অবদান ছিল। টি ২০ বিশ্বকাপে ভারতীয় ক্রিকেটারদের মনোবল চাঙ্গা রাখার যাবতীয় পরিকল্পনা ও কাজ সারবেন মেন্টাল কন্ডিশনিং বিশেষজ্ঞ আপটন। কাল ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ তৃতীয় একদিনের আন্তর্জাতিক থেকেই ভারতীয় ক্রিকেটে নিজের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করছেন আপটন।

আপটনের আগমন
ওয়েস্ট ইন্ডিজে ইতিমধ্যেই একদিনের সিরিজ জিতে নিয়েছে ভারত। কাল শিখর ধাওয়ানের নেতৃত্বাধীন দল নামবে হোয়াইটওয়াশের লক্ষ্যে। তারপর ২৯ জুলাই থেকে শুরু পাঁচ ম্যাচের টি ২০ সিরিজ। টি ২০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে এই সিরিজকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে যথেষ্টই। প্রথম একাদশের দুই-তিনটি জায়গা ভরাটে কারা যোগ্য, সেটা এই সিরিজে কার্যত নিশ্চিত হয়ে যাবে। সেই সঙ্গে শক্তিশালী সাপোর্ট স্টাফের টিম গড়তেও চাইছেন হেড কোচ রাহুল দ্রাবিড়। গত টি ২০ বিশ্বকাপে টানা ক্রীড়াসূচি ও দীর্ঘ সময় নিভৃতবাসে কাটানোর জেরে মানসিক ক্লান্তি ভারতের ব্যর্থতার অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছিল। মানসিকভাবে যাতে গোটা দল এবার চাঙ্গা থাকতে পারে সে কারণেই অভিজ্ঞ মনোবিদ আপটনকে ফেরানো হলো টিম ইন্ডিয়ার ড্রেসিংরুমে।
অভিনব উপায়ে মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখেন
২০১১ সালে গ্যারি কার্স্টেনের কোচিংয়ে মহেন্দ্র সিং ধোনির ভারত ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ জিতেছিল। সেই দলে কার্স্টেনের সহকারী হিসেবে ছিলেন আপটন। ২০১৩ সালে কার্স্টেনের কোচিংয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বের ১ নম্বর টেস্ট দল হয়েছিল। সেই সময়ও কার্স্টেনের সঙ্গেই প্রোটিয়াদের ড্রেসিংরুমে ছিল মনোবিদ আপটনের উপস্থিতি। আপটন কোচ হিসেবে অনেক অভিনব উপায়ের অবলম্বন নেন ক্রিকেটারদের মানসিক গঠন শক্ত রাখতে। পর্বতারোহণ, ক্যানোয়িং, ইমপ্রোভাইজেশন থিয়েটার, শ্বাস ধরে রাখার টেকনিক তিনি শেখান। এইসব বিষয়ের তুলনায় ক্রিকেট মাঠে খেলা যে সহজ, ক্রিকেটারদের চাপমুক্ত রাখতে সেই বার্তাও দেন। স্ট্রেস যাতে বাধা না হয় সে কারণেই তিনি অভিনব সব পন্থা নেন। ইএসপিএন ক্রিকইনফোর দাবি, রাহুল দ্রাবিড়ই এবার কথা বলে আপটনের সম্মতি নেন। তার আগে সায় দিয়েছিলেন ভারতের অধিনায়ক রোহিত শর্মাও। তিনিও ত্রিনিদাদে পৌঁছে গিয়েছেন টি ২০ সিরিজ খেলতে।
দ্রাবিড়ের উদ্যোগ
ভারতীয় দলে বিভিন্ন বিভাগে সাপোর্ট স্টাফ থাকলেও ক্রিকেটারদের মানসিক দিকে নজর রাখতে বিশেষজ্ঞ কাউকে রাখতে চাইছিলেন রাহুল দ্রাবিড়। করোনা অতিমারীর মধ্যে দুই বছর বায়ো বাবলে কাটানো ক্রিকেটারদের মেন্টাল কন্ডিশনিংয়ের বিষয়টিকে এবারের বিশ্বকাপের আগে গুরুত্ব দিচ্ছেন ভারতের হেড কোচ। বিশেষ করে তরুণ ক্রিকেটাররা যাতে মানসিকভাবে চাঙ্গা থেকে বিশ্বকাপে নামতে পারেন। কোনও খামতি যাতে বিশ্বকাপের আসরে না থাকে সেটাই দ্রাবিড় নিশ্চিত করে ফেলতে চাইছেন। জানা যাচ্ছে, আপটন দলের মধ্যে এমন খোলা পরিবেশ তৈরি করবেন যাতে নিজেদের মত ও ভাব প্রকাশে তরুণ ক্রিকটারদের কোনও সমস্যা না হয়। স্বাধীনভাবে তাঁরা মাঠে নেমে নিজেদের সেরাটা দিতে পারেন।
অভিজ্ঞ মনোবিদ
রাহুল দ্রাবিড়ের সঙ্গে মনোবিদ প্যাডি আপটন আইপিএলের আসরে রাজস্থান রয়্যালস ও দিল্লি ডেয়ারডেভিলসে ছিলেন। চলতি বছর রাজস্থান রয়্যালসে টিম ক্যাটালিস্টের দায়িত্ব পালন করেছেন। আপটন ২০১৫-১৬ মরশুমে বিগ ব্যাশ খেতাবজয়ী সিডনি থান্ডার দলের সঙ্গেও ছিলেন। ২০০৭ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে বিশ্বকাপে ভারতীয় দলে মেন্টাল কন্ডিশনিং বিশেষজ্ঞ হিসেবে ছিলেন রুডি ওয়েবস্টার। ২০০৩ সালের বিশ্বকাপে এই ভূমিকায় ছিলেন স্যান্ডি গর্ডন। চলতি বছর মহিলা বিশ্বকাপে ভারতীয় দলের সঙ্গে পাঠানো হয়েছিল স্পোর্টস সাইকোলজিস্ট মুগ্ধা বাভারেকে।












Click it and Unblock the Notifications