লর্ডসে হারের পরই রুটের ইংল্যান্ডে ঝাঁকুনি, সিবলিকে বাদ দিয়ে ডাক মালানকে
লর্ডস টেস্টে হারের পরই ঝাঁকুনি প্রত্যাশিত ছিল ইংল্যান্ড দলে। দেশের মাটিতে নিউজিল্যান্ডের কাছে টেস্ট সিরিজ হারার পর ভারতের কাছেও সিরিজ হারলেও অ্যাশেজের আগে মনোবল তলানিতে চলে যাবে জো রুটের দল। ট্রেন্ট ব্রিজের পর লর্ডসেও ইংল্যান্ডের চিন্তা বাড়িয়েছে ব্যাটিং ব্যর্থতা। এই অবস্থায় টি ২০ ক্রিকেটের বিস্ফোরক ব্যাটসম্যান তথা বিশ্বের এক নম্বর টি ২০ ব্যাটসম্যান ডেভিড মালানকে দলে নেওয়া হল। তিন বছর পর ফের টেস্ট খেলার সুযোগ পেতে চলেছেন তিনি। ডম সিবলি বা জ্যাক ক্রলিদের বলা হয়েছে কাউন্টিতে খেলে আত্মবিশ্বাস বাড়াতে। তাতে ভারতের বিরুদ্ধে সিরিজে প্রত্যাবর্তনের সুযোগের সম্ভাবনা যতটা না থাকবে, তার চেয়ে বেশি কাজে লাগবে অ্যাশেজ সিরিজে।

মালানের কেরিয়ার
ডেভিড মালান এখনও অবধি ১৫টি টেস্ট খেলেছেন। শেষ টেস্ট খেলেছেন ভারতের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে বার্মিংহ্যামে। মোট ২৬টি ইনিংসে তাঁর রান ৭২৪। একটি শতরান (১৪০) ও ৬টি অর্ধশতরান রয়েছে। সীমিত ওভারের ক্রিকেট, বিশেষ করে টি ২০-তে বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান বলে পরিচিত মালানকেই ইংল্যান্ড টেস্ট দলে ফেরাতে বাধ্য হল ব্যাটিং দুর্বলতা মেরামত করতে। মালান দেশের হয়ে ৬টি একদিনের আন্তর্জাতিক ও ৩০টি টি ২০ আন্তর্জাতিক খেলেছেন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১৯২টি ম্যাচে মালানের রান ১১,৭৬০। ২৭টি শতরান ও ৬০টি অর্ধশতরান রয়েছে। সর্বাধিক স্কোর ২১৯। চলতি মরশুমে একটিই প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন ডেভিড মালান। সেটিতে ১৯৯ রান করেছিলেন।

ব্যাটিং অর্ডার কেমন হবে
খারাপ ফর্মের কারণে বাদ পড়েছেন ডম সিবলি। শেষ ১৫টি টেস্ট ইনিংসে সিবলি ৩৫ পেরিয়েছেন মাত্র একবার। চলতি বছরে টেস্টে তাঁর গড় ১৯.৭৭। প্রথম টেস্টের পর বাদ পড়েছিলেন জ্যাক ক্রলিও। ৩০ অগাস্ট অবধি কোনও কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচ না থাকায় অবশ্য ভালো খেলে দলে প্রত্যাবর্তনের দাবি জোরালো করার সুযোগ দুজনের কাছেই আপাতত নেই। মনে করা হচ্ছে, মালান ব্যাট করতে নামবেন তিনে। ওপেন করবেন ররি বার্নস ও হাসিব হামিদ। তৃতীয় টেস্টের দলে অলি পোপ রয়েছেন, মিডল অর্ডারে তাঁর উপর নির্ভর করতে হচ্ছে রুটদের।

উডের বিকল্প সাকিবই
লর্ডস টেস্টে ভারতের দ্বিতীয় ইনিংসে ইংল্যান্ড পেসারদের লক্ষ্যভ্রষ্ট বোলিংয়ের দিকেও আঙুল উঠেছে। অকারণে আগ্রাসী হয়ে টানা বাউন্সার বা শর্ট পিচ বল হওয়ায় উইকেটে থিতু হতে পেরেছেন মহম্মদ শামি ও জসপ্রীত বুমরাহ। চতুর্থ দিন ফিল্ডিংয়ের সময় মার্ক উডের কাঁধে চোট লাগাও ভুগিয়েছে রুটদের। তৃতীয় টেস্টের দলে রাখা হয়েছে উডকে। ইংল্যান্ডের মেডিক্যাল টিম আশাবাদী ২৫ অগাস্ট লিডসে তৃতীয় টেস্ট শুরুর আগে ফিট হয়ে যাবেন উড। আর তা না হলে শাকিব মাহমুদের অভিষেক হওয়া কার্যত নিশ্চিত। জ্যাক লিচ বা ডমিনিক বেসকে টেস্ট দলে রাখা হয়নি। তবে মঈনের স্ট্যান্ডবাই হিসেবে রাখা হয়েছে লিচকে।

ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে
ডেভিড মালান দলে আসায় ইংল্যান্ডের ব্যাটিং শক্তি বাড়বে বলে আত্মবিশ্বাসী ইংল্যান্ড কোচ ক্রিস সিলভারউড। হেডিংলিতেই দল সিরিজে ঘুরে দাঁড়াবে বলে বিশ্বাস তাঁর। গত জুনে হেডিংলিতেই ইয়র্কশায়ারের হয়ে সাসেক্সের বিরুদ্ধে মালান ১৯৯ রান করেছিলেন। সিলভারউডের বিশ্বাস, সব ধরনের ফরম্যাটেই মালানের যা অভিজ্ঞতা তা ভারতের বিরুদ্ধে নিজের মাঠে কাজে লাগাতে পারবেন তিনি। বিশেষ করে অল্প সময়েও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তিনি যেভাবে সাফল্য পেয়েছেন। জ্যাক ক্রলি ও ডম সিবলে যথাক্রমে কেন্ট ও ওয়ারউইকশায়ারের হয়ে খেলে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে ফের টেস্ট দলে আসতে পারবেন বলে বিশ্বাস করেন সিলভারউড। জ্যাক লিচ খেলবেন সমারসেটের হয়ে। মার্ক উডের দিকে মেডিক্যাল টিম নজর রাখছে। তবু তিনি খেলতে না পারলে সাকিব যে দলে আসবেন তা জানিয়ে দিয়েছেন ইংল্যান্ড কোচ। তৃতীয় টেস্টেই দল ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বলে আত্মবিশ্বাসী রুটদের হেডস্য়র।
ইংল্যান্ডের ঘোষিত টেস্ট দল এরকম- জো রুট (অধিনায়ক), জস বাটলার (উইকেটকিপার), ডেভিড মালান, মঈন আলি, স্যাম কারান, ক্রেগ ওভার্টন, জেমস অ্যান্ডারসন, হাসিব হামিদ, অলি পোপ, জনি বেয়ারস্টো, ড্যান লরেন্স, অলি রবিনসন, ররি বার্নস, সাকিব মাহমুদ ও মার্ক উড।












Click it and Unblock the Notifications