দুরন্ত ছন্দে ডিকে , পন্থ - ঈশানদের ছাপিয়ে সিলেক্টরদের ভাবাচ্ছেন কার্ত্তিক
জাতীয় ক্রিকেট দলের নজরে পন্থ , ১৬ কোটির ঈশান কিশানরা। আর খেলাটা আসলে খেলছেন অন্যজন। তিনি দীনেশ কার্ত্তিক। প্রত্যেক ম্যাচে আরসিবি'র ত্রাতা তিনি। ফিরছেন ম্যাচ জিতিয়ে না হয় আরসিবি জেতার প্লাটফর্ম তৈরি করে দিয়ে। সৈয়দ মুস্তাক আলি থেকে শুরু করে বিজয় হাজারে সবেতেই দুরন্ত ফর্মে ছিলেন তিনি। এবার আইপিএলেও দুরন্ত ভাবে খেলে যাচ্ছেন তিনি।
তিনি বললেন জাতীয় দলে ফেরার জন্য তিনি যা যা করার দরকার সব করে যাচ্ছেন। আর সত্যিই তো তাই। সমস্ত টুর্নামেন্টে দুরন্ত ছন্দে ডিকে। রাজ্য থেকে ফ্র্যাঞ্চাইজি দল সবেতে কার্তিকের ব্যাট রণ হুংকারব করছে। যেখানে নাগাড়ে ব্যর্থ রোহিত , বিরাটরা সেখানে দুরন্ত ভাবে খেলে যাচ্ছেন দীনেশ কার্ত্তিক। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা বলছেন তাঁকে আসন্ন টি-২০ বিশ্বকাপের জন্য ভাবা উচিৎ।

কার্তিকের প্রস্তুতি
গত বছর আইপিএল মাঝপথে স্থগিত হওয়ার পর, দীনেশ কার্তিক ব্রিটিশ গ্রীষ্মে তার ধারাভাষ্যের জন্য প্রস্তুতির জন্য কাটিয়েছিলেন। অনেকেই ভেবেছিল তিনি বোধ হয় আর খেলবেন না, তাই ধারাভাষ্যে মনোযোগ করছেন, কিন্তু দিনেশের প্ল্যান অন্য কিছু ছিল। তিনি জানিয়েছেন শুধু টি-২০ নয় ২০২৩ পর্যন্ত বিশ্বকাপে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করতে চাইছেন। তার জন্য যা করার তিনি করবেন।
তাঁর ফিরে আসা কঠিন কাজ ছিল যা কার্তিক করে দেখিয়েছেন। বিশেষ করে ভারতে, যেখানে ক্রিকেট ধারাভাষ্যকে পেশার চেয়ে অবসরের ইঙ্গিত হিসেবে বেশি দেখা হয়। সেখানেই সবার চোখ ঘুরিয়ে দিচ্ছেন তিনি। কার্তিককে ফিরতে হলে সত্যিই আলাদা কিছু করফে দেখাতে হতো। সেটা করে দেখাচ্ছেন তিনি। তার আইপিএলে ছয়টি ম্যাচ, স্ট্রাইক রেট ২১০, গড় ১৯৭, দুটি প্লেয়ার-অফ-দ্য-ম্যাচ পুরষ্কার তার নামে। আর কি চাই ?

দুরন্ত কার্ত্তিক
এই যেমন গতকাল , ৩৪ বলে ৬৬ রান করে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরকে ৫ উইকেটে ৯২ রান থেকে উদ্ধার করেন। আরসিবি ম্যাচ জেতে। প্লেয়ার-অফ-দ্য-ম্যাচের পুরস্কার গ্রহণের সময় হোস্ট ব্রডকাস্টার স্টার স্পোর্টসকে কার্তিক বলেন, "আমাকে অবশ্যই স্বীকার করতে হবে যে আমার একটি বড় লক্ষ্য রয়েছে। আমি কাজ করছি। কাজটা সত্যিই, সত্যিই কঠিন। কখনও কখনও লোকেরা এটা বিশ্বাস করে না কিন্তু আমার লক্ষ্য দেশের জন্য বিশেষ কিছু করা। সেটা এই যাত্রার অংশ। আমি সেই ভারতীয় দলের অংশ হওয়ার জন্য যা যা করতে পারি তা করছি।"

যেভাবে এসেছে পরিবর্তন
এর আগে তিনটি আইপিএল মরসুমে, উদাহরণস্বরূপ, কার্তিক শেষ ছয় ওভারে ব্যাট করতে এসে 37 গড় এবং ১৫৭.৪ এ স্ট্রাইক রেটে রান করেছিলেন, কিন্তু যখন তিনি শুরুতে আসেন তখন তার স্ট্রাইক রেট ১২৬ এবং তার গড় ১৭.৬-এ নেমে আসে। কার্তিক আগে ক্রিজে কিছুক্ষন সময় কাটাচ্ছেন এবং ধীরগতির শুরু হলেও চাপে পড়ছেন না। খারাপ বলের জন্য অপেক্ষা করছেন, তারপর শুরু হচ্ছে ডিকে ঝড়।
কার্তিকের অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিস বলেছেন, "এই মুহুর্তে ডিকে যেভাবে খেলছে, তাতে আমার মনে হয় ও জীবনের সেরা ফর্মে আছে। ওর খেলার পরিকল্পনা খুব স্পষ্ট। ও খুব শান্ত এবং সঠিকভাবে ইনিং সাজাচ্ছে। এই মুহূর্তে তাকে আমাদের দলে পাওয়া খুবই ভাগ্যবান।"

কী বলছেন কার্ত্তিক ?
এদিকে কার্ত্তিক বলেছেন , "সাধারণত অনেকে বলে যে আমি একটু অস্থির। কিন্তু যখন আপনি জানেন যে আপনি কীভাবে একটি ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছেন তখন এটি আপনাকে শান্ত হওয়ার সুযোগ দেয়। এটা আমার ব্যাটিংয়ের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।" কার্তিক লাল বলের ক্রিকেট ছেড়ে দিয়েছেন, নির্দিষ্ট ফিটনেস পরিকল্পনায় নেমেছেন এবং বারবার এই পরিস্থিতিতে থাকার চেষ্টা করছেন। তিনি ঘরোয়া ক্রিকেটে তা করেছিলেন এবং চেন্নাই থেকে ৫০০ কিলোমিটার দূরে একটি ক্লাব-স্তরের টুর্নামেন্টে মিডল অর্ডারে গিয়েছিলেন এবং খেলেছিলেন। অর্থাৎ ফিরে আসার জন্য যা করার তিনি সব করেছেন। ফল মিলছে হাতে নাতে।
তাকে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করতে সক্ষম হওয়ার জন্য বিভিন্ন ভূমিকা পালন করতে হয়েছিল: ইংল্যান্ড এবং দক্ষিণ আফ্রিকার কঠিন উইকেটে টেস্টে ওপেনিং থেকে শুরু করে লাইন আপের সর্বত্র ব্যাট করতে হয়েছিল। সীমিত ওভারের ক্রিকেটেও একই ঘটনা ঘটেছে। এখন, ৩৬ বছর বয়সে, কার্তিক সিলেক্টরদের নতুন করে ভাবাচ্ছেন।












Click it and Unblock the Notifications