অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারতের নায়ক রবি কুমারের সাফল্যে আবেগাপ্লুত সিআরপিএফ বাবা
অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারতের নায়ক রবি কুমারের সাফল্যে আবেগাপ্লুত সিআরপিএফ বাবা
ওড়িশার মাও অধিষ্যুত রায়াগাদ জেলার সিআরপিএফ ক্যাম্পের রবি কুমারকে কিছু দিন আগে পর্যন্ত কেউ চিনত না। হাতেগোনা কয়েক জন চিনতেন তাঁর বাবা রাজিন্দর সিং'কে, এএসআই। চেনা এই ছবিটা বদলে গিয়েছে শনিবার রাত্রের পর। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অনূর্ধ্ব-১৯ কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে মাত্র ১৪ রান খরচ করে তিন উইকেট তুলে নেন রবি। ভারতের পাঁচ উইকেটের জয়ের নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ কারিগর ছিলেন তিনি।

ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে শেষ আটে এটা বদলার ম্যাচ ছিল, গত সংস্করণে ভারতকে পরাজিত করেছিল পদ্মাপারের এই দল। প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মধুর প্রতিশোধ নিতে যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখল তাঁকে নিয়ে আলোচনা হবে না তা কী হয়!
এখন ওড়িশার ওই সিআরপিএফ ক্যাম্পে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন রাজিন্দার এবং রবি। ছেলের সাফল্যে যেমন গর্বিত তেমনই আবেগতাড়িত তাঁর বাবা। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে তিনি বলছিলেন, "কাল পর্যন্ত তো কেউ রাজিন্দরকে এখানে চিনতও না। আজ সবাই জানে। রবির বাবা রাজিন্দর আমাদের ইউনিটে এখন আলোচ্য বিষয়। প্রত্যেক অফিসার আমায় ডেকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। আমার খুশি প্রকাশের জন্য বেশি ভাষা নেই আমার কাছে।"
এক টুকরো সাফল্যের মুখ দেখতে বাবা-ছেলেকে বহু কঠিন পথ অতিক্রম করে আসতে হয়েছে। রবির মা ছেলের ক্রিকেটের প্রতি ভালবাসা দেখে চিন্তিত ছিলেন। তিনি চাইতেন পড়াশুনার দিকে মনোযোগ দিক ছেলে, ডিগ্রি অর্জন করুক। এমনও দিন গিয়েছে যখন মাকে রবি বলেছেন, "আজ আপনি আমায় আটকাচ্ছেন, এক দিন এমন আসবে যখন আপনি আমায় টিভি'তে দেখবেন।" বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ছেলের খেলা দেখতে দেখতে লাই লাইনগুলোই মনে পড়ছিল রাজিন্দর-এর। একটা সময়ে রাজিন্দরও ছেলের কেরিয়ার নিয়ে চিন্তায় ছিলেন কারণ ক্রিকেটের জন্য যে অনেক অর্থ প্রয়োজন। তাঁর কথায়, "আমার কাছে টাকা ছিল না যে আমি ওকে ভারতীয় দলের হয়ে খেলাতে পারি।"
রাজিন্দার জানতো তাঁর সরকারী চাকরির পয়সায় এবং সঞ্চিত উপার্জনে ছেলেকে ক্রিকেটার বানিয়ে তোলা সম্ভব হবে না। কিন্তু তাঁর কাছে সুযোগ চলে আসে যখন কলকাতায় বসবাসকারী এক আত্মীয় জানায় সে কলকাতায় তাঁদের কাছে থেকে খেলা চালিয়ে যেতে পারে। সেই সময়ে ১৩ বছর বয়স ছিল রবি। দ্বিতীয়বার কিছু না ভেবে নিজের ব্যাগ গুছিয়ে কলকাতার উদ্দেশ্যে পারি জমান তিনি। প্রথম ডিভিশন ক্লাবে সুযোগ পাওয়ার আগে দ্বিতীয় ডিভিশনে কয়েক দিন খেলতে হয়েছে তাঁকে। তবুও ভাগ্যের ফেরে বারবার প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে রবিকে। প্রতিকূলতা তাঁকে বারবার তাড়া করে বেড়ালেও সেই কথা কখনও বাবা-মা'কে বলেননি। এই প্রসঙ্গে রবি বলেছেন, "অনূর্ধ্ব-১৬-এর ক্যাম্পে আমার নাম থাকলেও হাড়ের পরীক্ষা সহ কিছু পরীক্ষা করানোর পর আমায় বাদ দিয়ে দেওয়া হয়। কী কারণে বাদ দেওয়া হল তা কখনওই জানানো হয়নি আমায়।" তবে, ভাগ্য বদলাতে বেশি সময় লাগেনি। বাংলার অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে বিন মাঁকড় ট্রফিতে খেলার জন্য নির্বাচিত হন তিনি। ঘরের মাঠে এশিয়া কাপে ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টে জায়গা হয় রবির। এই সময়ে কলকাতায় কাকা'কে কোভিডে হারান রবি। প্রতিশ্রুতিবান এই বোলারের এখন একটাই ইচ্ছা। তিনি বলেন, "আমি চাই লোকে আমায় ফলো করুক এবং বলুক, 'আমি ওর মতো হতে চাই'।" রবি জানেন, স্বপ্নের পথে চলা সবে শুরু হয়েছে, এখনও অনেক রাস্তা হাঁটতে হবে।
-
প্রবল ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়া, আতঙ্কে পথে মানুষ -
কালিয়াচক কাণ্ডে উত্তেজনা চরমে! বিচারকদের ঘেরাও-ভাঙচুরে তৃণমূলকে নিশানা সুকান্তর, কী বললেন দিলীপ? -
ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে উত্তাপ চরমে, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে ভয়ের রাজনীতির অভিযোগে মনোনয়ন বাতিলের দাবি তৃণমূলের -
ইডেনে প্রথম জয়ের সন্ধানে কেকেআর-সানরাইজার্স, দুই দলের একাদশ কেমন হতে পারে? -
যুদ্ধ নয়, আলোচনায় সমাধান! হরমুজ ইস্যুতে বৈঠক ডাকল ব্রিটেন, যোগ দিচ্ছে ভারত -
কালিয়াচক কাণ্ডে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের! 'রাজনীতি নয়, বিচারকদের নিরাপত্তাই...', কী কী বলল শীর্ষ আদালত? -
ভোটার তালিকা ইস্যুতে ফের অগ্নিগর্ভ মালদহ, সকালে ফের অবরোধ -
মালদহের ঘটনার তদন্তভার নিল সিবিআই, মমতার তোপে কমিশন -
ভোটের আবহে জলপাইগুড়িতে চাঞ্চল্য, এক্সপ্রেস ট্রেনে জাল নথি সহ ১৪ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা -
'১৫ দিন বাংলায় থাকব', ভবানীপুরে মমতাকে হারানোর ডাক, শাহের চ্যালেঞ্জে তপ্ত রাজনীতি -
কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্ত! দেশের বিভিন্ন শহরে আই-প্যাকের দফতর ও ডিরেক্টরের বাসভবনে ইডি তল্লাশি -
কালিয়াচকে প্রশাসনিক গাফিলতি? জেলাশাসক, পুলিশ সুপারকে শোকজ, CBI অথবা NIA তদন্তের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট












Click it and Unblock the Notifications