টেস্ট ও টি২০-র মিশেলে ক্রিকেটে নয়া ফরম্যাট, টেস্ট২০ নিয়ে উচ্ছ্বসিত প্রাক্তনরা, শুরু জানুয়ারিতেই
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট হয় টেস্ট, ৫০ ওভার ও ২০ ওভারের ফরম্যাটে। এ ছাড়া টি১০ বা ১০ ওভার এবং ১০০ বলের খেলা দ্য হান্ড্রেড ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট হিসেবে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।
এবার জনসমক্ষে আনা হলো বিশ্বের প্রথম ৮০ ওভারের ফরম্যাট। যাতে একাধারে টেস্ট এবং অন্যদিকে টি২০-র মেজাজ অনুভব করা যাবে।

ওয়ান ওয়ান সিক্স নেটওয়ার্কের এগজিকিউটিভ চেয়ারম্যান তথা ক্রীড়া উদ্যোক্তা গৌরব বাহিরভানির মস্তিষ্কপ্রসূত এই ফরম্যাট। যা গোটা বিশ্বের তরুণ খেলোয়াড়দের প্রতিভা মেলে ধরার এক দারুণ মঞ্চ হবে বলে আশাবাদী তিনি। ক্রিকেট প্রতিভাদের চিহ্নিতকরণ, তাঁদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ-সহ নানা ধাপে তাঁদের প্রতিভা মেলে ধরার সুযোগ করে দেওয়া হবে।
এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন এবি ডি ভিলিয়ার্স, স্যর ক্লাইভ লয়েড, ম্যাথু হেডেন এবং হরভজন সিং। তাঁরা টেস্ট ২০ অ্যাডভাইসরি বোর্ডের মূল ভিত্তি তৈরি করেছেন। অপারেশনাল দিক থেকে গৌরবের এই দৃষ্টিভঙ্গিকে সমর্থন করছেন মাইকেল ফোর্ডহ্যাম (রাজস্থান রয়্যালস আইপিএল দলের প্রাক্তন সিইও), যিনি চিফ অপারেটিং অফিসার হিসেবে টেস্ট২০-তে যোগ দিয়েছেন।
এটি ৮০ ওভারের ফরম্যাট, যেখানে প্রতি ইনিংসে প্রতিটি দল ২০ ওভার করে দুবার ব্যাটিং করবে এবং রান সংখ্যা উভয় ইনিংসে যোগ হতে থাকবে। ঠিক টেস্ট ম্যাচের মতোই প্রতিটি দল দুবার ব্যাটিং করবে। টেস্ট এবং টি২০- উভয় ফরম্যাটের নিয়মাবলি প্রযোজ্য হবে। তবে নতুন ফরম্যাটের জন্য কিছু পরিমার্জিত সমন্বয় থাকবে। ম্যাচগুলি জয়, হার, টাই বা ড্র-তে শেষ হতে পারে, যা নিশ্চিত করে যে প্রতিটি প্রতিযোগিতা ক্রিকেটের নাটকীয়তা এবং অপ্রত্যাশিততার আমেজকে ধরে রাখে। যেখানে প্রতিটি ওভার এবং প্রতিটি সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গৌরব বাহিরভানির কথায়, "আমরা খেলার ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করছি এবং একইসঙ্গে এর ভবিষ্যৎকে রূপ দিচ্ছি। টেস্ট২০ নির্মিত হয়েছে টেস্ট ক্রিকেটের আবেগ, শৈল্পিকতা এবং সহ্য ক্ষমতাকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য; এবং তা সবই একটি একক দিনের মধ্যে।"
এই ফরম্যাট বিশ্বের প্রতিটি কোণ থেকে ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী ক্রিকেটারদের জন্য সুযোগের বড় মঞ্চ। খেলোয়াড়দের সম্পূর্ণরূপে দক্ষতা, তথ্য এবং মেধার ভিত্তিতে একটি বহুস্তরীয়, বিশ্লেষণ-ভিত্তিক নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হবে। ফ্র্যাঞ্চাইজি নির্বাচনের জন্য থাকবে নিলামের আসর। যাঁরা সুযোগ পাবেন না, তাঁরা প্রশিক্ষণ, পরামর্শ-সহ নানা সুবিধা ব্যবহার করে টেস্ট২০ ইকোসিস্টেমের মধ্যেই থাকবেন, যাতে তাঁরা পরের মরশুমে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরতে পারেন। দ্বিতীয় মরশুম থেকে মহিলা ক্রিকেটারদেরও এই ফরম্যাটে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এনসিএএ বাস্কেটবলের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যা করেছে, আমরা বিশ্ব ক্রিকেটের জন্য তারই সমতুল্য তৈরি করছি, বললেন বাহিরভানি।
টেস্ট২০-র প্রথম পূর্ণ মরশুম শুরু হবে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে, যেখানে ছয়টি হাই প্রোফাইল ফ্র্যাঞ্চাইজি থাকবে। তিনটি আন্তর্জাতিক (দুবাই, লন্ডন এবং একটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শহরের ) এবং তিনটি ভারতীয় ফ্র্যাঞ্চাইজি, শহরভিত্তিক। তবে এটি কোনও লিগ নয়, দাবি উদ্যোক্তাদের।
খেলোয়াড় রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে গতকাল ভারতীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা থেকে। www.testtwenty.com-এ অফিসিয়াল রেজিস্ট্রেশন ফর্ম পূরণ করার মাধ্যমে। যাঁরা কোনও নিবন্ধিত ক্রিকেট আকাদেমির কোচ, একজন স্বীকৃত ক্রিকেট প্রশাসক (প্রাক্তন বা বর্তমান) বা একজন উল্লেখযোগ্য ভারতীয় ক্রিকেটারের (প্রাক্তন বা বর্তমান) কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক সুপারিশ পাবেন, তাঁরা সরাসরি এন্ট্রি রুট-এর জন্য বিবেচিত হবেন। যা জাতীয় ও বৈশ্বিক ট্যালেন্ট পুলে দ্রুত মূল্যায়নের পথ। এই রুটের জন্য যোগ্যতা সম্পূর্ণরূপে টেস্ট২০ সিলেকশন কমিটি-র উপর নির্ভর করবে, যা নিশ্চিত করবে যে মেধা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা এই প্রক্রিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে।
অন্যান্য আবেদনকারীদের জন্য, স্ট্যান্ডার্ড এন্ট্রি রুট শুরু হবে এআই ডিসকভারি ইঞ্জিন দ্বারা পরিচালিত এবং কোর সিলেকশন কমিটি দ্বারা পর্যালোচিত লেভেল ১ মূল্যায়নের মাধ্যমে। এই পর্যায় থেকে নির্বাচিত খেলোয়াড়রা ভারত এবং বিশ্বের অনুমোদিত টেস্ট২০ কেন্দ্রগুলিতে সিটি ট্রায়ালস-এ উন্নীত হবেন, যা শেষ পর্যন্ত মোট ১০০০ খেলোয়াড়কে জাতীয় এবং বিশ্ব পুলে নির্বাচনের দিকে নিয়ে যাবে।
সেরা ৩০০ জন খেলোয়াড় গ্লোবাল অকশন পুলে উন্নীত হবেন, যেখানে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলি প্রথম মরশুমের জন্য প্রতিভা বাছাই করবে। এটি নিশ্চিত করবে যে, প্রতিটি নির্বাচন ডেটা, পারফরম্যান্স এবং সম্ভাবনার দ্বারা সমানভাবে সমর্থিত। প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজি ১৬ জন খেলোয়াড়ের একটি স্কোয়াড তৈরি করবে, যার মধ্যে আটজন ভারতীয় এবং আটজন আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় থাকবেন। যা ক্রিকেট বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিভাদের একত্রিত করবে। নিলামের সময় মোট ৯৬ জন খেলোয়াড়কে ড্রাফ্ট করা হবে, বাকি ২০৪ জন ওয়াইল্ড কার্ড পুল গঠন করবে।
এবি ডি ভিলিয়ার্স বলেন, "টেস্ট২০ হলো খেলার ঐতিহ্যকে সম্মান করে এবং একই সঙ্গে ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকে আলিঙ্গন করে। এটি তরুণ খেলোয়াড়দের স্বপ্ন তাড়া করতে এবং ক্রিকেট ভক্তদের উৎসাহিত করবে নতুনভাবে"। স্যর ক্লাইভ লয়েড বলেন, "ক্রিকেট সব সময় সময়ের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছে। টেস্ট২০ খেলাটির শিল্প ও ছন্দ ধরে রেখে এটিকে আধুনিক প্রাণশক্তি দিয়ে সজীব রাখতে চলেছে। ম্যাথু হেডেন বলেন, "একজন খেলোয়াড় এবং অভিভাবক হিসাবে, আমি এটিকে ক্রিকেটের বিভিন্ন যুগের মধ্যেকার সেতু হিসাবে দেখছি - এমন একটি ফরম্যাট যা পুরাতন বিশ্বের প্রজ্ঞাকে নতুনের উদ্দীপনায় বহন করে নিয়ে আসে। তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য, এটি কেবল ক্রীড়াবিদ হিসাবে নয়, মানুষ হিসাবেও বেড়ে ওঠার একটি সুযোগ।" হরভজন সিং বলেন, "ক্রিকেটের একটি নতুন হৃদস্পন্দনের প্রয়োজন ছিল - এমন কিছু যা আজকের যুব সমাজকে খেলার মূল চেতনার সাথে সংযুক্ত করে। টেস্ট২০ ঠিক তাই করে।"












Click it and Unblock the Notifications