Cricket Untold Story: হরভজন কীভাবে হলেন 'Turbanator'? সৌরভ সম্পর্কে কোন কথায় ভাজ্জির চোখে জল?

Cricket Untold Story On Harbhajan Singh: ওভালে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ফের কমেন্ট্রি বক্সে স্বমহিমায়। আর সেখানেই দাদাকে পেয়ে উচ্ছ্বসিত হরভজন সিং। অন্য ধারাভাষ্যকাররা থাকলেও সৌরভের সঙ্গে ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন ভাজ্জি।

সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কেই ভারতের সেরা অধিনায়ক হিসেবে মানেন দেশের হয়ে ১০৩টি টেস্ট খেলা হরভজন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে হরভজন ও সৌরভের আলাপচারিতায় উঠে এসেছিল নানা অজানা প্রসঙ্গ।

হরভজন সৌরভ

হরভজন সিংয়ের কেরিয়ার অন্য খাতে বইতে শুরু করেছিল ২০০১ সালের ভারত-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের পর। ১৯৯৮ সালে টেস্ট অভিষেক। প্রথম ৮ টেস্টে ২১ উইকেট। তারপর ভারতীয় দল থেকে বাদ পড়েন। শৃঙ্খলাপরায়ণ নন, এই অভিযোগে ন্যাশনাল ক্রিকেট আকাদেমি থেকে বের করে দেওয়া হয় ভাজ্জিকে। তারপর বাবা প্রয়াত হন।

অনিল কুম্বলের অনুপস্থিতিতে দেশের মাটিতে ভারত-অস্ট্রেলিয়া সিরিজে হরভজন সিংয়ের উপর আস্থা দেখিয়েছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি কথা বলেছিলেন কোচ জন রাইটের সঙ্গে। ভাজ্জির কথায়, সেবার রঞ্জি ট্রফিতে ৪ ম্যাচে ২৭টির মতো উইকেট নিয়েছিলাম। দাদাই আমাকে দলে নেওয়ার জন্য উদ্যোগ নেন।

সৌরভ হরভজন

নির্বাচকরা প্রথমে রাজি ছিলেন না। কিন্তু সৌরভের পদক্ষেপ যে সঠিক ছিল তা প্রমাণিত হয় কয়েকদিনের মধ্যেই। প্রায় ১৫ মাস পর টেস্ট দলে কামব্যাক। ওয়াংখেড়ে টেস্টে ৪ উইকেট নেন। সেই টেস্ট অস্ট্রেলিয়া জেতে ১০ উইকেটে। এর পরের দুটি টেস্টই হরভজনের কেরিয়ারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সৌরভকে সেবার হরভজন বলেছিলেন, অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে কী করা যায়? উইকেট নেওয়ার পরও সাতে নামেন অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। সৌরভ বলেছিলেন, গিলক্রিস্টকেও আউট করতে পারবে তুমি। ইডেন টেস্টে হরভজন নেন ১৩ উইকেট, পরের চেন্নাই টেস্টে ১৫ উইকেট। সিরিজে ৩২ উইকেট নেওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার মিডিয়া ভাজ্জিকে ডাকতে শুরু করে টার্বুনেটর (Turbanator) বলে।

হরভজন বলেন, কলকাতায় আমি এসেছিলাম জিরো হয়ে। এখানকার মাটি আর মা কালীর আশীর্বাদ আমাকে হিরো বানিয়ে দেয়। আমি আজ যেটুকু হতে পেরেছি তা সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্য। তিনি আমার জন্য যা করেছেন, কোনও অধিনায়ক করবেন না। এই কথা বলার সময় হরভজন আবেগপ্রবণ হয়ে যান। সৌরভ বলেন, আগে হরভজনের চোখে জল দেখিনি।

সৌরভ হরভজন

ভাজ্জি বলেন, সংখ্যার বিচারে অনেকে এগিয়ে গেলেও, আমার কাছে ভারতের সর্বকালের সেরা অধিনায়ক সৌরভই। তিনি এমন সময় ক্যাপ্টেন হয়েছিলেন যখন ম্যাচ গড়াপেটা কাণ্ডের সময় ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ে আগ্রহ হারিয়েছিলেন অনেকেই। সেই কঠিন সময়ে ভারতীয় দলের হাল ধরেন সৌরভ। দাদা না থাকলে হয়তো কানাডায় ট্রাক চালাতে হতো আমাকে।

সৌরভ বলেন, আমার দলে অনেক তরুণ ক্রিকেটার এসেছিলেন। আমি সব সময় তাঁদের বলতাম, যা ইচ্ছে করতো পারো। খেলার সময় নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিও। এটাই তো স্বাভাবিক, অল্প বয়সের ছেলেরা তো ড্রেসিংরুমে বসে ভাগবদ্গীতা পড়বে না! হরভজন, যুবরাজ, শেহওয়াগ, জাহির, নেহরা প্রত্যেকে সৎ ও পরিশ্রমী।

সৌরভের কথায়, আমি ক্যাপ্টেন থাকাকালীন হরভজন, নেহরার মতো ক্রিকেটাররা এসে জানতে চাইতেন কেন তাঁরা দল থেকে বাদ পড়েছেন। মনে আছে, নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে হরভজনকে একাদশে রাখিনি। সেবার ভাজ্জি সাতদিন আমার সঙ্গে কথা বলেননি। আমার কাছে জানতে চান বাদ দেওয়ার কারণ। বলি, সবুজ পিচের কারণে। হরভজন সেই কারণ শুনে খুশি হননি।

কিন্তু পারস্পরিক সম্পর্ক এতটাই দৃঢ় যে, সেই ম্যাচের পর হরভজন হাত ধরাধরি করে সৌরভের সঙ্গে ডিনার সেরেছেন। সবুজ পিচে বাদ পড়া হরভজনদের তাতিয়ে দিতো। সৌরভ বলেন, এতে পরের ম্যাচেই ভালো করার তাগিদ বেড়ে যেত। নাহলে আমি তো বলব সবুজ পিচে বাদ দিয়ে ঠিক করেছি।

হরভজন বলেন, আমার নিজের কোনও দাদা নেই। কিন্তু সৌরভই আমার দাদা। জীবনের শেষ দিন অবধি তাঁর হাত ছাড়ব না।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+