T20 World Cup: ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতেই শাপমুক্তি, সাফল্য-ব্যর্থতার পথ পেরিয়ে বিশ্বকাপজয়ী হলেন দ্রাবিড়ও
ব্যাটসম্যান হিসাবে ছিলেন বিশ্বের অন্যতম সেরা। কিন্তু ক্রিকেটার বা অধিনায়ক জীবনে কোনও দিনই আইসিসি ট্রফি জিততে পারেননি রাহুল দ্রাবিড়। ক্রিকেটার জীবনের থেকে যাওয়া অপূর্ণ স্বাদটাই এবার পূরণ করলেন হিসাবে। বিশ্বকাপজয়ী হলেন কোচ দ্রাবিড়।
কোচ দ্রাবিড় কি ছাপিয়ে গেলেন ক্রিকেটার দ্রাবিড়কেও? এনিয়ে তর্ক চলতেই পারে। ক্রিকেটার জীবনে অবিশ্বাস্য সব ইনিংস খেলেছেন তিনি। বহু ম্যাচ একার কাঁধে দায়িত্ব নিয়ে জিতিয়েছেন দলকে। কিন্তু আইসিসি ট্রফি জয় অধরাই থাকে।কিন্তু শনিবার ক্রিকেট ইশ্বর বোধহয় দ্রাবিড়ের সব আক্ষেপ পূরণ করে দিলেন। ব্যর্থতা থেকে সাফল্য, দীর্ঘ যাত্রাপথের একটা বৃত্ত সম্পূর্ণ করলেন।

২০০২ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হোক বা ২০০৩ সালের একদিনের বিশ্বকাপ ফাইনাল। দুই বারই সৌরভের দলের অন্যতম সেনানী ছিলেন দ্রাবিড়। কিন্তু আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন হতে হয়, আর ২০০৩ সালের ফাইনালে রানার্স হতে হয়।
এরপর সেই অভিশপ্ত ২০০৭ সাল। ১৭ বছর আগে ২০০৭ সালে এই ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতেই নিজের ক্রিকেটীয় জীবনের সম্ভবত সবথেকে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিলেন অধিনায়ক দ্রাবিড়। ৫০ ওভারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে হেরে গিয়েছিল দ্রাবিড়ের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দল। হেরে গিয়েছিল শ্রীলঙ্কার কাছে। প্রবল সমালোচনার মুখে পড়া দ্য ওয়াল হয়ে উঠেছিলেন ভিলেন। এবার কোচ হিসাবে সেই বদনাম ঘোচাতে সক্ষম হলেন।
এরআগে দ্রাড়িড়ের কোচিংয়ে দুটি আইসিসি ট্রফির ফাইনাল খেলেছে ভারত। কিন্তু আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল এবং একদিনের বিশ্বকাপ ফাইনালে হারতে হয়েছিল। এবার ছিল শেষ সুযোগ। অবশেষে অধরা আইসিসি ট্রফিটা ছুঁলেন। বরাবরই তিনি লাজুক কম কথা বলেন। কিন্তু ট্রফি জয়ের পরও অদ্ভুতভাবেই শান্ত ছিলেন। কিন্তু কোহলি কোচের হাতে কাপটা তুলে দিতেই নিজেকে স্থির রাখতে পারলেন না। উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়লেন। এ যেন অচেনা অজানা এক দ্রাবিড়।
২০২৩-এর ওয়ান ডে বিশ্বকাপের পরেই রাহুল দ্রাবিড়ের সঙ্গে বিসিসিআইয়ের প্রথম দফার চুক্তি শেষ হয়। বিশ্বকাপের ফাইনালে রোহিতরা হেরে গেলেও বিসিসিআই চুক্তি নবীকরণ করে দ্রাবিড়ের সঙ্গে। তাঁকে ২০২৪-এর টি-২০ বিশ্বকাপের শেষ পর্যন্ত ভারতের হেড কোচের পদে রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বোর্ড।
দ্রাবিড় হেড কোচ থাকাকালীন টিম ইন্ডিয়া ২৪টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছে। এরমধ্যে ১৪টি ম্যাচে জয়লাভ করেছে এবং সাতটিতে হেরে গিয়েছে। তিনটে ম্যাচ ড্র হয়েছে। একদিনের ক্রিকেটে ৫৩ ম্যাচের মধ্যে ৩৬টায় জয়লাভ করেছে এবং ১৬টি ম্যাচে হেরে গিয়েছে। তাঁর কোচিংয়ে আন্তর্জাতিক টি-২০ ক্রিকেটে ৭০টি ম্যাচ খেলেছেন। এরমধ্যে টিম ইন্ডিয়া ৫১টি ম্য়াচে জয়লাভ করেছে ।
স্যারের বিদায় বেলায় তাঁর ছাত্ররাও আবেগতাড়িত হয়ে পড়লেন। রোহিতের ভাগ্যেই যেন শাপমুক্তি হল দ্য ওয়ালের।












Click it and Unblock the Notifications