ধোনির চেন্নাই সুপার কিংসে তিক্ত অভিজ্ঞতাই বদলে দিয়েছে পূজারাকে! কোন দিকে ইঙ্গিত?
চেতেশ্বর পূজারা কাউন্টিতে দুরন্ত ফর্মে থাকায় ইংল্যান্ড সফরের টেস্ট দলে কামব্যাক করেন। ভারতের হয়ে একটিও টি ২০ আন্তর্জাতিক খেলেননি পূজারা। পাঁচটি একদিনের আন্তর্জাতিকের শেষ ম্যাচটি খেলেছেন ২০১৪ সালে। ৯৬টি টেস্ট খেলা সৌরাষ্ট্রের এই ব্যাটার অবশ্য সাদা বলের ক্রিকেটে নিজের ব্যাটিং রণকৌশলে অনেকটাই বদল এনেছেন। জানালেন তার কারণও।

রয়্যাল লন্ডন কাপে সেমিফাইনালে হেরে যায় চেতেশ্বর পূজারার নেতৃত্বাধীন সাসেক্স। ৯টি ম্যাচে তিনি ৬২৪ রান করেন। স্ট্রাইক রেট ১১১.৬২। পূজারাকে এমন আগ্রাসী মেজাজে ব্যাট করতে দেখে যারপরনাই বিস্মিতও হন ক্রিকেটপ্রেমীরা। নটিংহ্যামশায়ারের বিরুদ্ধে ৯, গ্লস্টারশায়ারের বিরুদ্ধে ৬৩, লেস্টারশায়ারের বিরুদ্ধে অপরাজিত ১৪, ওয়ারউইকশায়ারের বিরুদ্ধে ১০৭, সারের বিরুদ্ধে ১৭৪, ডারহামের বিরুদ্ধে অপরাজিত ৪৯, সমারসেটের বিরুদ্ধে ৬৬, মিডলসেক্সের বিরুদ্ধে ১৩২ এবং সেমিফাইনালে ল্যাঙ্কাশায়ারের বিরুদ্ধে করেন ১০ রান।
পূজারা হঠাৎ কেন আগ্রাসী ব্যাটিং শুরু করলেন তা নিয়ে কৌতূহল জন্মায় ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে। দ্য ক্রিকেট পডকাস্টে সেই প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন পূজারা। তিনি বলেন, আমার পরিচিত খেলার ধরনের নিরিখে এমন ব্যাটিং নিশ্চিতভাবেই আলাদা। এ ব্যাপারে কোনও সন্দেহই নেই। পিচ ভালো ছিল। কিছুটা পাটা উইকেট, তবু এমন উইকেটেও স্ট্রাইক রেট বেশি রেখে ব্যাটিং করার ইচ্ছাশক্তি রাখতে হবে। এ ব্যাপারে আমি নিজেও নজর দিয়েছিলাম। আমাকে গত বছর চেন্নাই সুপার কিংস দলে নিয়েছিল। কিন্তু একটিও ম্যাচে সুযোগ পাইনি। সতীর্থদের অনুশীলন দেখতে দেখতে আমি নিজেকে বোঝাই যে, আমাকেও ছোট ফরম্যাটে খেলতে হবে। আমি নিজের উইকেটটির প্রতি বরাবর গুরুত্ব দিয়ে এসেছি। তারপরও উপলব্ধি করি ছোট ফরম্যাটে খেলতে গেলে বড় শট খেলার সংখ্যা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
পূজারা আরও বলেছেন, রয়্যাল লন্ডন কাপের আগে নিজের খেলার স্টাইলে বদল আনার প্রক্রিয়া শুরু করি। কোন ধরনের শট খেলা কার্যকরী হবে সে ব্যাপারে কথা বলি কোচ গ্রান্ট ফ্লাওয়ারের সঙ্গে। অনুশীলন দেখে গ্রান্ট বলেন, আমি তাঁর পরামর্শ মেনেই শটগুলি খেলতে পারছি। এটা আমার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। আমিও বুঝেছিলাম যে শটগুলি উঁচুতে খেলতে হয় সেগুলিকে আরও নিখুঁত করলে সাফল্য পাওয়া সম্ভব। সেই মতোই সাদা বলের ক্রিকেটে আগ্রাসী ব্যাটিং করে রান পেয়েছেন বলে দাবি পূজারার। ২০১৯ সালের বিশ্বকাপের পর চলতি বছর ভারতীয় দলে কামব্যাক করেছেন দীনেশ কার্তিক। সামনের বছর ভারতে হবে ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ। তাকেই পূজারা পাখির চোখ করছেন কিনা তা বলবে সময়। তবে আপাতত আগ্রাসী পূজারা মন জিতেছেন ভক্তদের।












Click it and Unblock the Notifications