চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি চ্যালেঞ্জের মুখে! দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রীড়ামন্ত্রীর দাবি আফগানিস্তান ম্যাচ বয়কটের
Champions Trophy: চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি আয়োজন কি পড়তে চলেছে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে? ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সাংসদদের একই সুর এবার দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রীড়ামন্ত্রী গেটন ম্যাকেনজির গলায়।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া ও আফগানিস্তান রয়েছে একই গ্রুপে। দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রীড়ামন্ত্রী সমর্থন জানালেন আফগানিস্তান ম্যাচ বয়কটের ডাককে।

তালিবান শাসনে মহিলাদের অধিকার খর্ব, তাঁদের খেলাধুলো বন্ধ করার প্রতিবাদেই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে খেলা বয়কটের দাবি উঠেছে। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্যরা দাবি তুললেও খুব কৌশলের সঙ্গেই ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড জবাব দিয়েছে।
১৬০ জনের বেশি ব্রিটিশ রাজনীতিবিদের দাবিকে নৈতিকভাবে সমর্থন করলেও ইংল্যান্ড এককভাবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে আফগানিস্তানকে বয়কট করলে পরিস্থিতি যে বদলাবে না সেটাই বুঝিয়েছে ইসিবি। আইসিসির নেতৃত্বে সমষ্টিগতভাবে কোনও পদক্ষেপ ফলপ্রসূ হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে। অর্থাৎ আইসিসি ও অন্য দেশের দিকেও বল ঠেলেছে ইসিবি।
২০২১ সালের অগাস্টে তালিবানরা আফগানিস্তানের শাসনভার দখল করে। তারপরও মেয়েদের খেলাধুলো বন্ধ রয়েছে বিভিন্ন মহল থেকে তা চালুর দাবি জানানো সত্ত্বেও। এবার আফগানিস্তানকে বয়কটের দাবি জোরালো হলো দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রীড়ামন্ত্রী সরব হওয়ায়।
ম্যাকেনজি বলেন, ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকা, অন্যান্য দেশের ক্রিকেট সংস্থা ও আইসিসির বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত। বিশেষ করে মেয়েদের খেলাধুলোকে কেন্দ্র করে বিশ্বকে ক্রিকেট মহলের তরফে বার্তা দেওয়া উচিত। দক্ষিণ আফ্রিকা আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে খেলবে কিনা তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আমি নিতে পারি না। নিতে পারলে এই ম্যাচ হোক, সেটা চাইতাম না।
দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রীড়ামন্ত্রী আরও বলেন, আমি এমন এক দেশের মানুষ যেখানকার পুরুষদের বর্ণবাদের কারণে খেলাধুলোর সুযোগ দেওয়া হয়নি বেশ কয়েক বছর। ঠিক একই জিনিস যখন কোনও দেশের নারীদের নিয়ে হচ্ছে তখন সেই বিষয় থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখা ভণ্ডামি ও অনৈতিক।
দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রীড়ামন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে এখনও ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকা কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি। ২১ ফেব্রুয়ারি করাচিতে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচ রয়েছে আফগানিস্তানের। ২৬ তারিখ ইংল্যান্ড-আফগানিস্তান দ্বৈরথ। অস্ট্রেলিয়া ২৮ তারিখ খেলবে আফগানদের বিরুদ্ধে।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ইতিমধ্যেই গত মার্চে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে টি২০ স্থগিত রেখেছে অনির্দিষ্টকালের জন্য। তালিবানি শাসনে নারীদের অধিকার খর্ব হওয়ার কারণে এই পদক্ষেপ বলে জানানো হয়েছিল। যদিও ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ কিংবা টি২০ বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে খেলেছে অজিরা। নিজেদের অবস্থানের জন্য তিনি গর্বিত বলে মন্তব্য করেছিলেন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার চেয়ারম্যান মাইক বেয়ার্ড।
এই পরিস্থিতিতে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে কোনও এক বা একাধিক দেশ যদি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ম্যাচ বয়কটের পথে হাঁটে, তাহলে সমস্যা বাড়বে আয়োজকদের, সর্বোপরি আইসিসির।












Click it and Unblock the Notifications