CT 2025: হাইব্রিড মডেলে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রস্তাব দিচ্ছে আইসিসি, শ্রীলঙ্কাও অস্বস্তি বাড়াল পাকিস্তানের
Champions Trophy: চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয়ে যেতে পারে শুক্রবারই। সেদিনই আইসিসি বোর্ড মিটিং ডাকা হয়েছে। চাপ বাড়ছে আইসিসির উপরেও।
গ্লোবাল ইভেন্টের সূচি ১০০ দিন আগেই ঘোষণা করে দেয় আইসিসি। কিন্তু চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জটিলতার কারণে সেটা করা যায়নি। পাকিস্তানকে হাইব্রিড মডেলে রাজি করানোই সবচেয়ে কঠিন কাজ আইসিসির পক্ষে।

২০১৭ সালের পর ফিরছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। এর আগে, প্রস্তাব এসেছিল এর ফরম্যাট বদলের। বিশেষ করে টি২০-র ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার কথা মাথায় রেখে। কিন্তু ওডিআইকে অক্সিজেন দিতে সেই প্রস্তাবে রাজি হয়নি আইসিসি। ফলে টুর্নামেন্টটিকে নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হওয়াও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে সম্প্রচারকারী সংস্থার কাছে।
১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ৯ মার্চ অবধি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি চলার কথা। ৯০ দিনও হাতে নেই। সূচি বা স্থান চূড়ান্ত না হওয়া বাণিজ্যিক দিককেও প্রভাবিত করছে। বিসিসিআই সরকারিভাবে কিছু না জানালেও আইসিসিকে জানিয়েছে, ভারত খেলতে যাবে না পাকিস্তানে।
পাকিস্তানও পাল্টা কারণ জানতে চেয়েছে। এই আবহে খোলা তিনটি পথ। পাকিস্তানকে অনিচ্ছা সত্ত্বেও হাইব্রিড মডেল মানতে হবে। তা না হলে সরে দাঁড়াতে পারে টুর্নামেন্ট থেকে, পাকিস্তানকে ছাড়াই হতে পারে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে টু্নামেন্ট স্থগিত রাখা হতে পারে।
ক্রিকবাজের প্রতিবেদনে উল্লেখ, আইসিসি শুক্রবারের বৈঠকে হাইব্রিড মডেলে টু্নামেন্ট আয়োজনের প্রস্তাব দেবে। এমনও বলা হতে পারে, ভারত যদি সেমিফাইনাল বা ফাইনালে না যায় তাহলে সেগুলি পাকিস্তানের মাটিতেই আয়োজিত হবে। ভারতের ম্যাচগুলি কোথায় আয়োজন করা তাও স্পষ্ট নয়।
দুবাই বা আবু ধাবি নিশ্চিতভাবেই বিকল্প। তবে যে সময় টুর্নামেন্ট হবে সেই সময়কার আবহাওয়ার কথা ভেবে দক্ষিণ আফ্রিকাকেও বিকল্প হিসেবে ভাবছে আইসিসি। পাকিস্তান সরে দাঁড়ালে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী বা দক্ষিণ আফ্রিকায় সরতে পারে এই টুর্নামেন্ট।
বিশ্বকাপে খেলে ১০টি দেশ, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ৮টি। আইসিসি এমনও ভেবেছিল যে, ভারত ও পাকিস্তানকে আলাদা গ্রুপে রাখতে। তাতে গ্রুপ পর্বের খেলাগুলি পাকিস্তান নিজেদের দেশেই খেলতে পারবে। সেক্ষেত্রে গ্রুপ পর্বে ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ হবে না। এতে আপত্তি জানিয়েছে সম্প্রচারকারী সংস্থা।
সম্প্রচারকারী সংস্থার মতে, ৫০ ওভারের বিশ্বকাপে বাণিজ্যিকভাবেও যে লাভ হয়েছিল তার অন্যতম ফ্যাক্টর ছিল ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ। পাকিস্তান যদি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি না খেলে তার চেয়ে বড় ক্ষতি হবে ভারত না থাকলে। সেক্ষেত্রে টুর্নামেন্টের গুরুত্বই থাকবে না।
এই পরিস্থিতিতে ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ নিশ্চিত করেই টুর্নামেন্টের সূচি দ্রুত চূড়ান্ত করার চাপ আসছে আইসিসির উপরে। ইসলামাবাদে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অশান্তির জেরে সফর বাতিল করে দেশে ফিরেছে শ্রীলঙ্কা এ দল। এই বিষয়টিও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি আয়োজনের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের কাছে বড় ধাক্কা হতে পারে।
গত ৮ নভেম্বর ইসলামাবাদে গিয়েছিল শ্রীলঙ্কা এ দল। পাকিস্তান শাহিন দলের বিরুদ্ধে দুটি ৪ দিনের ও তিনটি ৫০ ওভারের ম্যাচ খেলতে। দুটি ৫০ ওভারের ম্যাচ স্থগিত রেখেই দেশে ফিরেছে শ্রীলঙ্কা এ দল। ২০৩১ অবধি ভারতে পাঁচটি আইসিসি ইভেন্ট হওয়ার কথা। ২০২৫ সালে মহিলাদের ওডিআই বিশ্বকাপ, ২০২৫ সালে এশিয়া কাপ, ২০২৬ সালে পুরুষদের টি২০ বিশ্বকাপ (শ্রীলঙ্কার সঙ্গে যৌথভাবে), ২০২৯ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ও ২০৩১ সালে ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ (বাংলাদেশের সঙ্গে)। এই ইভেন্টগুলিতে না খেলার হুমকিও দিতে পারে পিসিবি।












Click it and Unblock the Notifications