CT 2025, IND vs NZ: ২৫ বছর আগের কথা! চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ফাইনালে এগিয়ে থেকেও কীভাবে হেরেছিল ভারত?
CT 2025, IND vs NZ: চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে রবিবার দুবাইয়ে ভারতের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড। ২০০০ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালেও এই দুই দেশ পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছিল।
তখন এই টুর্নামেন্টের নাম ছিল আইসিসি নকআউট। ভারতকে ২ বল বাকি থাকতে ৪ উইকেটে হারিয়েছিল নিউজিল্যান্ড।

নাইরোবিতে ১৫ অক্টোবর টস জিতে ভারতকে ব্যাট করতে পাঠান নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক স্টিফেন ফ্লেমিং। ওপেনিং জুটিতে ভারত ২৬.৩ ওভারে তোলে ১৪১। ৩৯ ওভারে দ্বিতীয় উইকেট পড়েছিল ২০২ রানে। তারপরও ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৬৪ রানের বেশি তুলতে পারেনি ভারত।
অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ৯টি চার ও চারটি ছয়ের সাহায্যে অপরাজিত ১১৭ রান করেন, ১৩০ বল খেলে। সচিন তেন্ডুলকর ১০টি চার ও একটি ছয়ের সাহায্যে ৮৩ বলে ৬৯ রান করেন। রাহুল দ্রাবিড় ২২, যুবরাজ সিং ১৮, বিনোদ কাম্বলি ১, রবিন সিং ১৩, অজিত আগরকর অপরাজিত ১৫ ও বিজয় দাহিয়া অপরাজিত ১ রান করেন।
স্কট স্টাইরিস ১০ ওভারে ৫৩ রানে ২টি এবং জিওফ অ্যালট ও নাথান অ্যাসলে একটি করে উইকেট পেয়েছিলেন। শেষের দিকে ওভারগুলিতে সৌরভের ভাষায় 'বোকার মতো ব্যাটিং' করাতেই ভারত তিনশো পার করতে পারেনি।
ম্যাচ বিশ্লেষণ করতে গেলে দেখা যাচ্ছে ভারত ম্যাচের দুই ইনিংসের ২৫ ওভার পর্যন্ত ফেভারিট ছিল। কিন্তু শেষ হাসি হাসতে পারেনি। কেন না, ২৩.২ ওভারে নিউজিল্যান্ডের অর্ধেক ব্যাটিং লাইন আপকে সাজঘরে পাঠিয়ে দিয়েছিল ভারত।
ক্রেগ স্পিয়ারম্যান ৩, স্টিফেন ফ্লেমিং ৫, নাথান অ্যাসলে ৩৭, রজার টুজ ৩১ ও ক্রেগ ম্যাকমিলান ১৫ রান করে আউট হন। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে ১২২ রান যোগ করে ম্যাচ নিউজিল্যান্ডের দিকে ঝোঁকান ক্রিস হ্যারিস ও ক্রিস কেয়ার্নস।
ক্রিস হ্যারিস ৪৬ রান করেন। ক্রিস কেয়ার্নস ১১৩ বলে ১০২ রান করে অপরাজিত থাকেন। আটটি চার ও ২টি ছয় মারেন। অ্যাডাম পারোরে ৩ রানে অপরাজিত ছিলেন। জাহির খান নিজের প্রথম তিন ওভারে ৩০ রান দিয়ে ফেলায় সমস্যা বেড়েছিল ভারতের।
তবে প্রাথমিকভাবে জোড়া ধাক্কা দিয়ে কিউয়িদের ব্যাকফুটে ঠেলেছিলেন বেঙ্কটেশ প্রসাদ। ২৫ ওভারের শেষে নিউজিল্যান্ডের স্কোর ছিল ৫ উইকেটে ১৩৫। ক্রিস কেয়ার্নসের এই ম্যাচটি খেলার কথাই ছিল না। তাঁকে ভোগাচ্ছিল ডান হাঁটুর চোট।
কিন্তু ম্যাচের আগের দিন ফিটনেস টেস্টে উত্তীর্ণ হন কেয়ার্নস। তিনি ফিট না হলে নিউজিল্যান্ড খেলাত পল ওয়াইজম্যানকে। প্রথমবার নিউজিল্যান্ডকে আইসিসি ইভেন্টের ফাইনাল জিতিয়ে তৃপ্ত কেয়ার্নস বলেছিলেন, তাঁর প্রথম থেকেই বিশ্বাস ছিল নাইরোবি জিমখানা মাঠের বাউন্ডারি ছোট বলে ২৬৪ রান খুব বড় স্কোর নয়।
বেঙ্কটেশ প্রসাদ ৭ ওভারে ২৭ রান দিয়ে তিন উইকেট নেন। অনিল কুম্বলে ২টি ও সচিন তেন্ডুলকর ১টি উইকেট পেয়েছিলেন। জাহির ৭ ওভারে ৫৪ ও অজিত আগরকর ৬.৪ ওভারে ৪৪ রান দেওয়ায় ভারতের কাজ কঠিন হয়ে যায়। কুম্বলে ৯ ওভারে দেন ৫৫।
ফাইনালে হেরে গেলেও বিতর্কে জর্জরিত ভারতীয় দলকে যেভাবে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এককাট্টা ও সঙ্ঘবদ্ধ করেছিলেন তাতে এই টিমকে ঘিরে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন বিশেষজ্ঞরা। পরে সেটাই মিলেছিল। ২০০২ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, ২০০৩ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালেও যায় সৌরভের ভারত।












Click it and Unblock the Notifications