চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি : কোন মোক্ষম স্ট্র্যাটেজিতে লঙ্কা বাহিনীকে বধ করবেন কোহলিরা
শ্রীলঙ্কার সঙ্গেও ঠিক একই কাজ ভারতকে করতে হবে যা তারা করেছে পাকিস্তানের সঙ্গে। যদি টিম কোহলি প্রথম পাওয়ার প্লে-তে ব্যাটে ঝড় তুলতে পারে, তাহলে বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচ হলে দারুণ সুবিধা পাবে ভারত।
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ১২৪ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় দিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির অভিযান শুরু করেছে ভারত। বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে বার্মিংহামে প্রথমে ব্যাট করে ৩১৯ রান বোর্ডে তোলে ভারত। তারপর পাকিস্তানকে দুশো রানেরও কমে গুটিয়ে দিয়ে ম্যাচ পকেটে পুরে নেয় টিম কোহলি।
পাকিস্তান ম্যাচের দ্বিতীয় ওভার থেকেই স্পিনারকে দিয়ে বল করাতে শুরু করে। তা দেখে অনেকেই বিস্মিত হয়ে যান। বৃষ্টিভেজা আবহাওয়ায় ইংল্যান্ডের মতো জায়গায় ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারে স্পিনারকে দিয়ে বল করানো অনেকেরই বোধগম্য হয়নি।

তবে ঘটনা হল, সুইং বোলিংয়ের আদর্শ ইংল্যান্ডের পরিবেশে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির উইকেট একেবারে পাটা তৈরি হয়েছে। ফলে স্থানীয় সময়ে সকালে খেলা শুরু হলেও প্রথম এক ঘণ্টায় জোরে বোলাররা যে মুভমেন্ট পায়, তার কিছুই পাচ্ছে না। মহম্মদ আমিরের মতো জোরে বোলার, যিনি দুদিকেই অসাধারণ বল সুইং করাতে পারেন, কোনওভাবেই বল মুভ করাতে পারেননি।
ভারতের ওপেনিং জুটি শিখর ধাওয়ান ও রোহিত শর্মা সন্তর্পণে শুরু করেন। প্রথমবার যখন ম্যাচে বৃষ্টি নামে সেইসময় ভারত কোনও উইকেট না খুইয়ে ৪৬ রান করেছিল।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রায় সব ম্যাচেই দেখা যাচ্ছে, প্রথমে ব্যাট করে দলগুলি সতর্ক হয়ে শুরু করছে, এবং শেষদিকের পাওয়ার প্লেতে ব্যাটিংয়ে ঝড় তোলার চেষ্টা করছে। বৃষ্টি বিঘ্নিত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করা দলগুলি বেশি লাভবান হচ্ছে সন্দেহ নেই।
শ্রীলঙ্কার সঙ্গেও ঠিক একই কাজ ভারতকে করতে হবে যা তারা করেছে পাকিস্তানের সঙ্গে। তবে এক্ষেত্রে বৃষ্টির কথা মাথায় রেখে উইকেট না খুইয়েও যদি টিম কোহলি প্রথম পাওয়ার প্লে-তে ব্যাটে ঝড় তুলতে পারে, তাহলে বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচ হলে দারুণ সুবিধা পাবে ভারত।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে আইপিএল ও তারও আগে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সিরিজে কোহলি সেরকম ফর্মে ছ্িলেন না। তবে পাকিস্তানকে পেয়েই জ্বলে উঠেছে তাঁর ব্যাট। ঠিক একইভাবে যুবরাজ সিংও আইসিসি টুর্নামেন্টে নিজের রান করার অভ্যাস থেকে বিচ্যুত হননি।
পাকিস্তান ম্যাচে কোহলির কয়েকটি সিদ্ধান্তই ম্যাচের রঙ বদলে দিয়েছে। রবিচন্দ্রণ অশ্বিনকে বসিয়ে অতিরিক্ত পেসার হিসাবে হার্দিক পাণ্ড্যকে খেলানো। মহেন্দ্র সিং ধোনির আগে হার্দিককে ব্যাটিং করানো, এবং যুবরাজ সিংকে দলে নেওয়া।
শ্রীলঙ্কা ম্যাচেও এই প্রথম একাদশই খেলাক কোহলি। ব্যাটিং পিচ হলেও উপমহাদেশের ব্যাটসম্যানদের টানা পেস বোলিং খেলার অভ্যাস নেই। সেক্ষেত্রে দলে শুধুমাত্র রবীন্দ্র জাদেজার স্পিন অপশন হাতে থাকলেই যথেষ্ট।
মনে রাখতে হবে, শ্রীলঙ্কা দলেও এখন সেরকম ঝাঁঝ নেই। সেমিফাইনালে সেক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়া বা ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলতে হবে। তার আগে গ্রুপ লিগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলতে হবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে। সেই ম্যাচ থেকেই বলা যায় আসল শক্তি পরীক্ষা হবে টিম কোহলির।












Click it and Unblock the Notifications