লজ্জা!কী করল গর্বের ক্রিকেট দল জানলে চোখের জল আটকে রাখতে পারবেন না
এ কী করল ভারত। আইসিসি ফাইনালের ইতিহাসে লজ্জার নজির গড়ল ভারতের ছেলেরা। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের টিম গেমের কাছে নতিস্বীকার কোহলি এন্ড কোংয়ের
বিশ্বের সামনে ভারতকে একরাশ লজ্জা এনে দিল টিম ইন্ডিয়া। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করল টিম ইন্ডিয়া। ১৮১ রানে জিতল সরফরাজ আহমেদের ছেলেরা। এত বড় ব্যবধানে হেরে আইসিসি টুর্নামেন্টে সবচেয়ে লজ্জার হারের নজির গড়লেন কোহলি এন্ড কোং।
যে যে ভুল চালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি পাকিস্তানের হাতে তুলে দিল কোহলির ভারত
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ফাইনালে হারা ম্যাচে অনবদ্য রেকর্ড 'বাজিগর' হার্দিকের
দক্ষিণ আফ্রিকা, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া কোহলি এদিনও সেই একই রাস্তায় হাঁটেন। প্ল্যানিং ছিল পাকিস্তানের দেওয়া টার্গেট দেখে নিয়ে সেভাবে গেমপ্ল্যান ছকে নেবেন তাঁরা। ৩৩৯ রানের লক্ষ্যমাত্র দেখে এমন প্ল্যান ছকলেন যে তা আর বর্ণনা করার জায়গায় রইল না।

পাকিস্তানের বিরাট রান তাড়া করতে শুরু থেকেই তথৈবচ পারফরমেন্স শুরু করে ভারত। মাত্র ৩ বলের মাথায় দলের শূন্য রানে প্যাভিলিয়নে ফেরত যান রোহিত শর্মা। সেটাই যেন শেষের শুরু। মহম্মদ আমেরের দুরন্ত বোলিংয়ে ভারতের টপ অর্ডার নড়ে যায়। ক্যাপ্টেন কোহলিও ফিরে যান মাত্র ৫ রানে। শিখর ধাওয়ান কিছুটা ছন্দে থাকার লক্ষণ যখন দেখাচ্ছিলেন ঠিক তখনই তিনিও খতম। ফের আঘাত হানেন দুরন্ত পাক পেসার।
এরপর ভাবা হয়েছিল অভিজ্ঞ যুবরাজ সিং ও মহেন্দ্র সিং ধোনি যদি জ্বলে ওঠেন তাহলে হয়ত অঘটন ঘটবে। কিন্তু সে আশাতেও বালি থুড়ি সিমেন্ট। ৩১ বলে ২২ রান করা যুবরাজ শাদাব আলির বলে লেগ বিফোর উইকেটের শিকার হন। তখন দলের স্কোর ৪ উইকেটে ৫৪। দলের স্কোরলাইন একই রেখে ফের একটি উইকেট পাকিস্তানের হাতে তুলে দেন সদ্য প্রাক্তন অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। এদিন ভারতের স্কোরশিটে তাঁর অবদান ৪।
এদিনের ম্যাচে যেন কোনও সময়েই ভারতীয় আগ্রাসনের চিরাচরিত ছবিটা দেখা গেল না। বিশ্ববন্দিত ভারতীয় ব্যাটিং লাইন আপ নিজেরাই একে অপরের সমাধিতে কাঁদতে বেশি ব্যস্ত ছিলেন। তরুণ হার্দিক পান্ডিয়া ব্যাট হাতে দলের সিনিয়র ও তারকাদের লজ্জা কিছুটা ঢাকার চেষ্টা করেন, কিন্তু ম্যাচে ফিরে আসার জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। ৪৬ বলে ৭৬ করে রানআউট হন তিনি। রবীন্দ্র জাদেজার সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির জের উইকেট দিতে হয় তাঁকে। এরপর একে একে ফিরে যান রবীন্দ্র জাদেজা, রবিচন্দ্র অশ্বিনরাও। মাত্র ৩০.২ ওভারেই শেষ হয়ে যায় ভারতীয়দের সব লড়াই।
রবিবাসরীয় ওভালে শুরু থেকেই দুরন্ত ফর্মে ছিল পাকিস্তান। টসে জিতে ভারত অধিনায়কের ফিল্ডিং নেওয়ার সিদ্ধান্তকে কার্যত ভুল প্রমাণিত করেন পাক ওপেনাররা। যশপ্রীত বুমরাহের নো বলে ফকর জামান লাইফলাইন পাওয়ার পরই যেন চাঙ্গা হয়ে ওঠে পাকিস্তান। দুরন্ত দাপট দেখানো শুরু করে তরুণ ফকর জামান। যোগ্য সঙ্গত দেন আজহার আলি। ভারতীয় বোলিং লাইনআপকে ক্লাব স্তরে নামিয়ে এনে ওপেনিং জুটিতে ওঠে ১২৮ রান। আজহার আলি ৫৯ করে রান আউট হন। এরপরও বাব্বর আজমকে সঙ্গে নিয়েও ধামাকা জারি রাখেন ফকর। ১১৪ রানে তাঁকে প্যাভিলিয়নে ফেরান হার্দিক পান্ডিয়া। যদিও অভিজ্ঞ শোয়েব মালিক এদিনও ব্যর্থ। মাত্র ১২ রান করে ভুবনেশ্বর কুমারের বলে আউট হন তিনি। মহম্মদ হাফিজ দলের স্কোরকে আরও বড় রানের দিকে নিয়ে যান। তাঁর ৩৭ বলে ৫৭ রানের ঝোড়ো ইনিংস পাকিস্তানকে বাড়তি আরামের জায়গায় পৌঁছে দেয়। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ৩৩৮ রানের ম্যামথ টোটাল খাড়া করে পাকিস্তান।
সোশ্যাল মিডিয়া, কূটনৈতিক কচকচি সব কিছুকে এদিন হারিয়ে দেয় পাকিস্তান। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে পাকিস্তানের লড়াই নিঃসন্দেহে ঐতিহাসিক। বিভিন্ন রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিশ্বের তাবড় শক্তি তাদের দেশে খেলতে যায়না। সেখান থেকে এভাবে বিশ্ব মঞ্চে নিজেদের মেলে ধরা নিঃসন্দেহ বিশেষ প্রশংসার দাবি রাখে। বিতর্ক দূর করে রবিবাসরীয় ওভাল দেখল আনপ্রেডিক্টেবল তকমা থেকে কী করে একটা দল হিসেবে চ্যাম্পিয়নশিপের শিখরে পৌঁছন যায়।












Click it and Unblock the Notifications