Bishan Singh Bedi: অনৈতিক বাউন্সারের প্রতিবাদে দল তুলে নেন, এক নজরে ফিরে দেখা বেদীর বর্ণময় জীবন
বিষেণ সিং বেদী। ভারতীয় ক্রিকেটের এক বর্ণময় চরিত্র। সাফল্য-খ্যাতির সঙ্গে তাঁর জীবনের সঙ্গে সর্বতভাবে জড়িয়ে ছিল বিতর্কও। অধিনায়ক হোন বা কোচ, বরাবরই স্পষ্ট বক্তা। সাদাকে সাদা, কালো বলতেই কখনও দুইবার ভাবেনি বেদী। ১৯৪৬ থেকে ২০২৩। ৭৭ বছরের বর্ণময় জীবনের পরিসমাপ্তি। সোমবার জীবনের বাইশ গজকে চির বিদায় জানালে বেদী। সেইসঙ্গে সমাপ্ত হল ভারতীয় ক্রিকেটের একটা অধ্যায়ের।
পঞ্জাবের অমৃতসরে ১৯৪৬ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জন্ম বেদীর। মাত্র ১৫ বছর বয়সে উত্তর পঞ্জাব দলে তাঁকে নেওয়া হয়। তাঁর স্পিনের মায়াজালে সহজেই নজর কাড়েন নির্বাচকদের।ঘরোয়া ক্রিকেটেও দাপটের সঙ্গে পারফরম্যান্স করেছেন বেদী। তাঁর নেতৃত্বে রঞ্জি ট্রফিতে দু'বার রানার্স হয় দিল্লি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৩৭০টি ম্যাচে ১৫৬০টি উইকেট নিয়েছেন বেদী। ঘরোয়া ক্রিকেটে সাফল্যের পর দরজা খুলে যায় জাতীয় দলেরও।

শুধু টেস্ট ক্রিকেট নয়, একইসঙ্গে একদিনেরর ম্যাচেও ভারতীয় দলে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১০টি একদিনের ম্যাচে সাতটি উইকেট তাঁর নামের পাশে।শেষ একদিনের ম্যাচ খেলেন ১৯৭৯ সালের বিশ্বকাপে, শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে।
Deeply saddened by the passing of noted cricketer Shri Bishan Singh Bedi Ji. His passion for the sport was unwavering and his exemplary bowling performances led India to numerous memorable victories. He will continue to inspire future generations of cricketers. Condolences to his…
— Narendra Modi (@narendramodi) October 23, 2023
ভারতের প্রথম একদিনের ম্যাচ জয়ে নায়ক ছিলেন তিনি। ১৯৭৫ সালের বিশ্বকাপে পূর্ব আফ্রিকার বিরুদ্ধে ১২ ওভারে আটটি মেডেন-সহ মাত্র ৬ রান দিয়ে ১ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। তাঁর দাপটেই পূর্ব আফ্রিকাকে ১২০ রানে আটকাতে পেরেছিল ভারত।
ক্রিকেটারের পাশাপাশি ভারতীয় দলের অধিনায়কও হন।মনসুর আলি খান পাটৌডির পর ১৯৭৬ সালে ভারতের অধিনায়ক হয়েছিলেন বেদী। মোট ২২টি ম্যাচে অধিনায়কত্ব করেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বই ১৯৭৬ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে রেকর্ড ৪০৬ রান তাড়া করে ম্যাচ জিতেছিল ভারত। জীবনের শেষ টেস্ট ইনিংস খেলেছিলেন ১৯৭৯ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে।
Deeply saddened to hear the loss of Bishan Paaji. He was someone who always had my back and who genuinely shared his thoughts on the game. Cricketing fraternity will miss him dearly. Heartfelt condolences to his family, friends and loved ones.
— Anil Kumble (@anilkumble1074) October 23, 2023
কিন্তু নিছক পরিসংখ্যান দিয়ে বেদীকে মাপা যাবে না। কারণ তাঁর অবদান ভারতীয় ক্রিকেটে অনেক গভীরে। বিশেষ করে বেদীর সৌজন্যেই ভারতীয় স্পিনের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়। ইরাপল্লী প্রসন্ন , বিএস চন্দ্রশেখর এবং এস ভেঙ্কটারাঘবনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বেদী স্পিন বোলিংকে ভারতের হয়ে অন্য মাত্রায় নিয়ে যান।
শুধু কী সাফল্য, বেদীর জীবনের সঙ্গে মিশে আছে বিতর্কও। ১৯৭৬ সালে রেকর্ড জয়ের পরের ম্যাচেই ক্যারিবিয়ানদের বোলিংয়ে ভারতের কয়েকজন ব্যাটসম্যান আহত হন। অধিনায়ক বেদী ৩০৬ রানে ইনিংস ডিক্লেয়ার দিয়ে দেন। পরের ইনিংসেও একই ব্যাপার। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের পেসারেরা একের পর এক বাউন্সার দিতে থাকেন। এরফলে আবারও ভারতের কিছু ক্রিকেটার চোট পান। মাত্র ২টি উইকেট হারানোর পর বেদী ভারতের দ্বিতীয় ইনিংস ডিক্লেয়ার করে দেন।

আরও একটি বিতর্ক আছে ক্রিকেটার বেদীর নামের সঙ্গে। ১৯৭৬-৭৭ সালে ইংল্যান্ড সিরিজ়ের সময়। মাদ্রাজ় (বর্তমানে চেন্নাই) টেস্টে ইংরেজ বোলার জন লিভারের বিরুদ্ধে বলে অবৈধ ভাবে ভেসলিন লাগানোর অভিযোগ এনেছিলেন বেদী, পরে সেটি খারিজ হয়ে যায়।
Saddened at the demise of the legendary Indian cricketer Bishan Singh Bedi. The iconic left-arm spin bowler had brought home many spectacular victories for us and his name is etched in the memory of millions of his fans. A great captain and a strong personality, he is a beacon…
— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) October 23, 2023
ক্রিকেট জীবন থেকে অবসর নেওয়ার পরও বিতর্ক থেকে সরে আসেনি বেদী। ১৯৯০ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সিরিজে খারাপ ফলের জন্য ক্রিকেটারদের সাগরে ফেলে দেওয়ার হূমকিও দিয়েছিলেন বেদী। সাম্প্রতিককালে দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলা স্টেডিয়ামের নাম প্রয়াত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অরুণ জেটলির নাম করার জন্য বিতর্কিত মন্তব্য করেন বেদী।
The BCCI mourns the sad demise of former India Test Captain and legendary spinner, Bishan Singh Bedi.
— BCCI (@BCCI) October 23, 2023
Our thoughts and prayers are with his family and fans in these tough times.
May his soul rest in peace 🙏 pic.twitter.com/oYdJU0cBCV
পদ্মশ্রী পুরস্কার যেমন পেয়েছেন তেমনই ২০০৪ সালে বোর্ডের পক্ষ থেকে জীবনকৃতি সম্মান পান। তবে সোমবারের দুপুরের পর এই সব কিছুই ইতিহাসের পাতায় চলে গেল। সাফল্য-ব্যর্থতা-বিতর্ককে পিছনে সরিয়ে চির ঘুমের দেশে চলে গেলেন বেদী।তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে বিসিসিআই জয় শাহ। অনিল কুম্বলের মতো কিংবদন্তিরাও তাঁকে শ্রদ্ধ জানিয়েছেন। পাকিস্তান-আফগানিস্তান ম্যাচ চলাকালীন টিভিতে তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বিশেষ ভিডিও সম্প্রচারিত হয়।ভারতীয় ক্রিকেটে নক্ষত্র পতন হল বিশ্বকাপের মাঝেই।












Click it and Unblock the Notifications