ভারত-অস্ট্রেলিয়া তৃতীয় টেস্ট ধরমশালা থেকে সরল ইন্দোরে, হোলকার স্টেডিয়ামে ভারতের ট্র্যাক রেকর্ড কেমন?
ভারত-অস্ট্রেলিয়া তৃতীয় টেস্ট ধরমশালার এইচপিসিএ স্টেডিয়ামের পরিবর্তে হবে ইন্দোরের হোলকার স্টেডিয়ামে। মার্চের ১ তারিখ থেকে শুরু এই টেস্ট। একনজরে হোলকার স্টেডিয়ামে ভারতের পরিসংখ্যান।
ভারত-অস্ট্রেলিয়া তৃতীয় টেস্ট ধরমশালা থেকে সরানো হলো ইন্দোরের হোলকার স্টেডিয়ামে। সংস্কার কাজের পর আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের জন্য এখনও প্রস্তুত নয় ধরমশালার এইচপিসিএ স্টেডিয়াম। বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়েছিল বিসিসিআই। তার রিপোর্টের ভিত্তিতেই টেস্ট সরানোর পথে হাঁটল বোর্ড।

ধরমশালা থেকে ইন্দোরে সরল তৃতীয় টেস্ট
বিসিসিআইয়ের তরফে এদিন বিবৃতিতে তৃতীয় টেস্ট স্থানান্তরিত করার কথা জানানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, আউটফিল্ডে যে পরিমাণ ঘাস থাকার কথা শীতকালীন পরিস্থিতিতে এইচপিসিএ স্টেডিয়ামে তা নেই। ঘন ঘাসের আস্তরণ-সমৃদ্ধ আউটফিল্ড প্রস্তুতিতে যে আরও কিছুটা সময় সেখানে লাগবে তা বোর্ডের তরফে জানানো হয়েছে। ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে দিল্লি টেস্ট। তারপর মার্চের ১ তারিখ থেকে শুরু ভারত-অস্ট্রেলিয়া তৃতীয় টেস্ট। আমেদাবাদে সিরিজের চতুর্থ তথা শেষ টেস্টটি হবে মার্চের ৯ তারিখ থেকে।

টেস্ট সিরিজের ফয়সালা হোলকার স্টেডিয়ামেই?
গত মাসেই নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তৃতীয় একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ ইন্দোরের হোলকার স্টেডিয়ামে খেলেছে ভারত। সেখানেই সিরিজ জয়ের ট্রফিও ওঠে রোহিত শর্মার দলের হাতে। এবার সেখানে টেস্ট সিরিজ পকেটে পুরে ফেলার সুযোগ থাকছে। গতকালই হোলকার স্টেডিয়ামে শেষ হয়েছে বাংলা বনাম মধ্যপ্রদেশ রঞ্জি ট্রফি সেমিফাইনাল। বাংলা ৩০৬ রানে মধ্যপ্রদেশকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে। প্রথম ইনিংসে পেসাররা এবং দ্বিতীয় ইনিংসে স্পিনাররা দাপট দেখিয়েছেন। ভারত-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট সিরিজের ধারা মেনে ইন্দোরেও স্পিন সহায়ক উইকেট তৈরি করা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ইন্দোরের হোলকার স্টেডিয়ামে ২০১৬ ও ২০১৯ সালে দুটি টেস্ট হয়েছে। দুটিতেই জিতেছে ভারত। ২০১৬ সালের অক্টোবরে এখানে নিউজিল্যান্ডকে ৩২১ রানে ভারত পরাস্ত করেছিল। ২০১৯ সালে বাংলাদেশকে হারিয়েছিল ইনিংস ও ১৩০ রানে।

দুটি টেস্টেই জিতেছে ভারত
২০১৬ সালের ভারত-নিউজিল্যান্ড সিরিজের তৃতীয় টেস্টটি শেষ হয়েছিল চার দিনেই। প্রথম ইনিংসে বিরাট কোহলি ২১১ ও অজিঙ্ক রাহানে ১৮৮ রান করেছিলেন। রোহিত শর্মা ৫১ রানে অপরাজিত ছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে অপরাজিত শতরান করেছিলেন চেতেশ্বর পূজারা। রবিচন্দ্রন অশ্বিন প্রথম ইনিংসে ৮১ রানে ৬টি এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৯ রানে ৭ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের সেরা হয়েছিলেন। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে টেস্ট ম্যাচ শেষ হয়ে গিয়েছিল তিন দিনেই। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে দেড়শো রানে অল আউট হয়ে যায়। মহম্মদ শামি তিনটি এবং ইশান্ত শর্মা, উমেশ যাদব ও রবিচন্দ্রন অশ্বিন ২টি করে উইকেট নেন। ময়াঙ্ক আগরওয়ালের ২৪৩ রানের সুবাদে ভারত ৬ উইকেটে ৪৯৩ রান তুলে ইনিংস ডিক্লেয়ার করে। চেতেশ্বর পূজারা ৫৪, অজিঙ্ক রাহানে ৮৬ ও রবীন্দ্র জাদেজা অপরাজিত ৬০ রান করেন। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ শেষ হয়ে যায় ২১৩ রানে। শামি চারটি, অশ্বিন তিনটি, উমেশ ২ উইকেট নিয়েছিলেন।

ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স
ইন্দোরের হোলকার স্টেডিয়ামে অজিঙ্ক রাহানে ২টি টেস্টে ২৯৭ রান করেছেন। ময়াঙ্ক আগরওয়াল ১টি টেস্ট খেলে করেছেন ২৪৩। বিরাট কোহলি ২টি টেস্টে এখানে ২২৮ রান করেছেন। চেতেশ্বর পূজারার রান ১৯৬। এই স্টেডিয়ামে ঈর্ষণীয় বোলিং পারফরম্যান্স রবিচন্দ্রন অশ্বিনের। তিনি ২টি টেস্টে ১৮টি উইকেট দখল করেছেন এখানে। মহম্মদ শামির রয়েছে ৭টি উইকেট। হোলকার স্টেডিয়ামে একটি টি ২০ আন্তর্জাতিক (গত অক্টোবরে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৪৯ রানে পরাজয়) ছাড়া সমস্ত আন্তর্জাতিক ম্যাচই জিতেছে ভারত।












Click it and Unblock the Notifications