শ্রীনাথের রিপোর্টে চাপে চিন্নাস্বামী! বেঙ্গালুরুতে ভারত-শ্রীলঙ্কা টেস্টের পিচে অসন্তুষ্ট আইসিসির কোন পদক্ষেপ?
দেশের মাটিতে টানা ১৫টি টেস্ট সিরিজ জয়। রোহিত শর্মার নেতৃত্বে প্রথম টেস্ট সিরিজেই ভারতের হোয়াইটওয়াশ নিশ্চিত করে জয়। পরপর দুটি দেশের বিরুদ্ধে টানা চারটি সিরিজেই ক্লিন স্যুইপ। এমন কত না রেকর্ড! কিন্তু গোলাপি বলে দিন-রাতের প্রথম টেস্ট আয়োজন করেই কালিমালিপ্ত হলো বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়াম।

শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সিরিজে ম্যাচ রেফারি ছিলেন জাভাগল শ্রীনাথ। নিজের রাজ্যের পিচ নিয়েও রিপোর্ট দিতে গিয়ে নিরপেক্ষতা বজায় রেখে নজির গড়লেন তিনি। শ্রীনাথ তাঁর রিপোর্টে উল্লেখ করেন, ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে হওয়া দ্বিতীয় টেস্টের জন্য যে পিচ তৈরি করা হয়েছিল তাতে প্রথম দিন থেকেই বল ঘুরতে থাকে। পরের সেশনগুলিতে কিছুটা উন্নতি হলেও এই পিচ ব্যাট ও বলের মধ্যে সম-লড়াইয়ের জন্য আদর্শ ছিল না। শ্রীনাথের সেই রিপোর্টের জেরে বিলো-অ্যাভারেজ (below-average) রেটিং পেল চিন্নাস্বামীর পিচ।

আইসিসির নিয়ম বলছে, ম্যাচ রেফারির মতে যে স্টেডিয়ামের পিচ বিলো-অ্যাভারেজ (below-average), সেই স্টেডিয়াম একটি ডিমেরিট পয়েন্ট পাবে। যে পিচ খারাপ (poor) এবং একেবারেই খেলার অনুপযুক্ত (unfit) সেখানে যথাক্রনে তিন ও পাঁচ ডিমেরিট পয়েন্ট দেওয়া হবে। এই ডিমেরিট পয়েন্টের মেয়াদ পাঁচ বছর। যদি কোনও স্টেডিয়ামে এভাবে পাঁচ বা তার বেশি ডিমেরিট পয়েন্ট যোগ হয়, তবে সেখানে এক বছরের জন্য কোনও আন্তর্জাতিক ম্যাচ দেবে না আইসিসি।

উল্লেখ্য, বেঙ্গালুরুতে ভারত-শ্রীলঙ্কা টেস্টে প্রথম সেশন থেকেই বল ঘুরতে থাকে। ক্রিকেটার থেকে ধারাভাষ্যকার সকলেই বলছিলেন, চিন্নাস্বামীর পিচ চ্যালেঞ্জিং। প্রথম দিনেই পড়ে ১৬ উইকেট, দিন-রাতের টেস্টে যা সর্বকালীন রেকর্ড। ভারত ২৫২ রানে অল আউট হওয়ার পর শ্রীলঙ্কা প্রথম দিনের শেষে দাঁড়িয়ে ছিল ৬ উইকেটে ৮৬ রানে। পরের দিন তারা ১০৯ রানে গুটিয়ে যায় এবং শেষ সেশনে ভারত শ্রীলঙ্কার সামনে ৪৪৭ রানের লক্ষ্যমাত্রা দেয়। তৃতীয় দিনে দিমুথ করুণারত্নের অধিনায়কোচিত শতরান সত্ত্বেও শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় ইনিংস থেমে যায় ২০৮ রানে। ২৩৮ রানে টেস্ট জিতে ভারত সিরিজ হোয়াইটওয়াশ নিশ্চিত করে আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকার চতুর্থ স্থানে উঠে আসে। ভারতে এসে শ্রীলঙ্কা একটি টেস্টেও জিততে পারেনি। বেঙ্গালুরুতে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার ভারতের কাছে টেস্টে হারল শ্রীলঙ্কা। উল্লেখ্য, ইডেনে তিনদিনে এবং আমেদাবাদে দুই দিনে গোলাপি বলের টেস্ট শেষ হয়েছিল। বেঙ্গালুরুতে প্রথম তথা ভারতের মাটিতে এই নিয়ে তৃতীয় গোলাপি বলের টেস্টটি হলো, সেটিতেই লাগল কালি।












Click it and Unblock the Notifications