রঞ্জি ফাইনালে উঠেও ফোকাস স্থির লক্ষ্মী-মনোজের! সৌরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বাংলার ট্র্যাক রেকর্ড কেমন?
রঞ্জি ট্রফির ফাইনালে ইডেনে বৃহস্পতিবার থেকে বাংলা বনাম সৌরাষ্ট্র দ্বৈরথ। বাংলা দল ফাইনালে উঠে খুশি, তবে ফোকাসড সকলেই। একনজরে পরিসংখ্যান।
রঞ্জি ট্রফির ফাইনালে বৃহস্পতিবার থেকে ইডেনে মুখোমুখি হবে বাংলা ও সৌরাষ্ট্র। গতবারের চ্যাম্পিয়ন মধ্যপ্রদেশকে ইন্দোরে তাদের ঘরের মাঠেই পরাস্ত করেছে বাংলা। চন্দ্রকান্ত পণ্ডিতের প্রশিক্ষণাধীন দলকে ৩০৬ রানে চূর্ণ করেছে লক্ষ্মীরতন শুক্লার প্রশিক্ষণাধীন দল। অন্যদিকে, কর্নাটকের বিরুদ্ধে ৪ উইকেটে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে সৌরাষ্ট্র।

ফাইনালে ফোকাসড বাংলা
ফাইনালে ওঠার পরও বাংলা শিবির নিরুত্তাপ। এতেই বোঝা যাচ্ছে লক্ষ্মী-মনোজের জুটিতে কীভাবে বদলে গিয়েছে বাংলা দলের ছবিটাই। ১৯৮৯-৯০ মরশুমের পর বাংলা আর রঞ্জি ট্রফি জিততে পারেনি। এবার ট্রফি আর এক কদম দূরে। ২০২০ সালে এই সৌরাষ্ট্রের কাছেই ফাইনালে প্রথম ইনিংসে পিছিয়ে পড়ায় বাংলার রঞ্জি জয়ের আশা চুরমার হয়ে গিয়েছিল। মধ্যপ্রদেশ ম্যাচের পর বাংলার হেড কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লা বলেন, এখনও অনেকটা পথ যেতে হবে। আমরা এখনও এমন কিছু অর্জন করিনি যাতে সেলিব্রেশনে মাততে হবে। একটা কথাই বলতে পারি, ছেলেরা সকলেই ভালো খেলছেন। মনোজ তিওয়ারি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
|
ট্রফিই মোটিভেশন
বাংলার অধিনায়ক মনোজ তিওয়ারি আগেই ঘোষণা করেছেন, বাংলাকে রঞ্জি জিতিয়েই ক্রিকেটকে পাকাপাকিভাবে গুডবাই জানাবেন। রঞ্জিট্রফি ফাইনালে ওঠার পর বাংলার অধিনায়ক বলেন, আমাদের ড্রেসিংরুমে পরিবেশ খুবই ভালো। সকলেই একে অপরের পাশে থেকে নিজেদের উজাড় করে দিচ্ছেন। অবশ্যই দল ফাইনালে উঠতে পেরে খুশি। কিন্তু সকলেই ফোকাসড রয়েছেন। রঞ্জি ট্রফি জেতাই আমাদের সবচেয়ে মোটিভেশন। সিএবির পতাকাকে উঁচুতে তুলে ধরার চেষ্টা আমরা সকলেই করব।
ইডেনে রঞ্জি জয়ের খরা মেটানোর হাতছানি
সহকারী কোচ সৌরাশিস লাহিড়ীও সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তা দিয়েছেন, লক্ষ্যে পৌঁছনো না অবধি থামছি না। আমরা ফাইনালে পৌঁছে গিয়েছিল। দলের সকলের প্রতি ভালোবাসা। ইতিমধ্যেই সৌরাশিসের আবেদনে সাড়া দিয়ে ইডেনে বাংলার হয়ে গলা ফাটাতে সুরকার জয় সরকার হাজির থাকবেন বলে জানিয়েছেন। সিএবি সভাপতি স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, কাপ ঘরে আনার সময় এসেছে। বাংলা খুবই ভালো খেলছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে চ্যাম্পিয়ন হতে অসুবিধা হবে না। আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য অভিষেক ডালমিয়াও বলেন, বাংলার ঘরে রঞ্জি ট্রফি আসবেই, আর একটা ধাপ পেরিয়ে যাওয়া বাকি। বাংলার এই অসাধারণ পারফরম্যান্সের পিছনে হেড কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লার ক্রিকেটারদের অনুপ্রাণিত করার দক্ষতা যে বড় ফ্যাক্টর সেটাও মনে করিয়ে দেন অভিষেক।

বাংলা বনাম সৌরাষ্ট্র শেষ ৫ সাক্ষাৎ
২০২০ সালে রঞ্জি ফাইনালে সৌরাষ্ট্র প্রথম ইনিংসে তুলেছিল ৪২৫, বাংলা করে ৩৮১। এরপর সৌরাষ্ট্র ৪ উইকেটে ১০৫ তোলার পর ম্যাচ ড্র হয়। কিন্তু প্রথম ইনিংসে এগিয়ে থাকায় চ্যাম্পিয়ন হয় সৌরাষ্ট্র। শেষ ৫টি সাক্ষাতে দুটি জিতেছে সৌরাষ্ট্র, তিনটি ড্র। ২০০৯ সালে ইডেনে গ্রুপ বি-র ম্যাচে সৌরাষ্ট্র ৯ উইকেটে ৬৫০ তুলে ডিক্লেয়ার করেছিল, বাংলা ৪৫৬ রান করায় ফলো অনে বাধ্য হয়, ১ উইকেট হারিয়ে ১৩৫ তোলে দ্বিতীয় ইনিংসে। ২০১০ সালে গ্রুপ এ-র ম্যাচে সৌরাষ্ট্র ৪২৩ করার পর বাংলা প্রথম ইনিংসে লিড নিয়ে ৭ উইকেটে ৫৬৯ রান করে। ২০১২ সালে রাজকোটেই সৌরাষ্ট্র ২৭০ রানে হারায় বাংলাকে। প্রথম ইনিংসে তোলে ২০৯, বাংলা করে ১১২, ৮ উইকেটে ৩৩৩ রানে সৌরাষ্ট্র দ্বিতীয় ইনিংস ডিক্লেয়ার করে, বাংলা অল আউট হয় ১৬০ রানে। ২০১৩ সালে ইডেনে বাংলার ৩০৩ রানের জবাবে সৌরাষ্ট্র গুটিয়ে যায় ২২৫ রানে। এরপর বাংলা তোলে ১৯৪, জয়ের জন্য ২৭৩ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে সৌরাষ্ট্র ৪ উইকেটে ১৮৯ তোলার পর খেলা ড্র ঘোষিত হয়।












Click it and Unblock the Notifications