মানসিক স্বাস্থ্য! ভারতের বিরুদ্ধে নামার আগে ইংল্যান্ড বেকায়দায় বেন স্টোকসের আকস্মিক সিদ্ধান্তে
আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের বিরুদ্ধে পাঁচ টেস্টের সিরিজের প্রথম টেস্ট শুরু ৪ আগস্ট থেকে। তার আগেই ধাক্কা ইংল্যান্ড শিবিরে। সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিরতি নেওয়ায় এই সিরিজে খেলবেন না বেন স্টোকস। মানসিক স্বাস্থ্যের কারণেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত। স্টোকসের পরিবর্তে ইংল্যান্ড দলে নেওয়া হল অলরাউন্ডার ক্রেগ ওভারটনকে।

স্টোকস সরলেন
বেন স্টোকস ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডকে জানিয়েছেন, মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল হতে এবং তাঁর আঙুলে যে চোট রয়েছে তা পুরোপুরি সারানোর জন্য ক্রিকেট থেকে আপাতত অনির্দিষ্টকালের জন্য সরে দাঁড়াতে চান। নাওমি ওসাকা, সিমোন বাইলসরাও মানসিক স্বাস্থ্যের কারণেই টেনিস অথবা অলিম্পিকের আসর থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সেই পথে হাঁটলেন স্টোকসও। তাঁর নিজের অনুভূতির কথা জানিয়ে যে সিদ্ধান্ত স্টোকস নিয়েছেন তাঁকে ইসিবি স্বাগত জানিয়েছে। ইংল্যান্ডের পুরুষদের ক্রিকেটের ডিরেক্টর অ্যাশলে জাইলস বলেছেন, আমরা বরাবরই মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিই এবং ক্রিকেটার-সহ সকলে যাতে ভালো থাকেন তা নিশ্চিত করতে সব পদক্ষেপ করে থাকি। করোনার মতো কঠিন পরিস্থিতিতে ক্রিকেটারদের প্রস্তুত হয়ে লাগাতার খেলা যে সমস্যা তৈরি করছে সে কথা উল্লেখ করে জাইলস বলেন, পরিবারের থেকে দূরে স্বাধীনমতো ঘোরাফেরা করতে না পারা খুবই চ্যালেঞ্জিং। গত ১৬ মাসের অভিজ্ঞতা সকলের উপরই প্রভাব ফেলছে। ভবিষ্যতে যাতে স্বাভাবিক ছন্দে দেশের হয়ে বেন ক্রিকেটে ফিরতে পারেন সেজন্য তিনি যতটা সময় ক্রিকেট থেকে এখন দূরে থাকতে চান, তাঁকে তা-ই দেওয়া হবে।

মানসিক অবসাদ!
উল্লেখ্য, ইংল্যান্ডের হয়ে টেস্ট বা সীমিত ওভারের সিরিজই হোক বা রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে আইপিএল খেলা- গত বছর থেকে করোনা আবহে বেশিরভাগ সময়ই বাড়ির বাইরে জৈব সুরক্ষা বলয়ে থাকতে হয়েছে স্টোকসকে। গত বছরও পারিবারিক কারণে তিনি দেশের মাটিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দুটি টেস্ট খেলতে পারেননি। গত ডিসেম্বরে ব্রেন ক্যান্সারে ভুগে বেন স্টোকসের পিতা প্রয়াত হন। এরপর আইপিএল খেলতে গিয়ে আঙুলে যে চোট পান তাও প্রত্যাশিতভাবে সারেনি বলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ তিনি খেলতে পারেননি। ডারহামের হয়ে ভাইটালিটি ব্লাস্টে খেলার পর করোনা-জর্জরিত ইংল্যান্ড দলকে নেতৃত্ব দেন এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজও জেতেন দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে। দ্য হান্ড্রেডেও দুটি ম্যাচ খেলেছেন সুপারচার্জার্সের হয়ে। তবে তারপরই এক আকস্মিক সিদ্ধান্ত, যা মানসিক অবসাদের কারণেই নিলেন বলে মনে করা হচ্ছে।

চিন্তায় রাজস্থানও
ইংল্যান্ড দলের রোটেশন পদ্ধতির সাফল্য নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিল বেন স্টোকসের সিদ্ধান্ত। দীর্ঘদিন যাতে জৈব সুরক্ষা বলয়ে ক্রিকেটারদের থাকতে না হয় সে কারণে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে সকলকেই ইসিবি পরিবারের সঙ্গে কাটানোর সুযোগ করে দিয়েছে। কিন্তু ইংল্যান্ডের ভারত সফরের পর স্টোকস আইপিএলের জৈব সুরক্ষা বলয়েও ছিলেন। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে স্টোকসের না থাকা ইংল্যান্ডের দেশের মাটিতে সিরিজ হারের অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছিল। তার মধ্যে ভারতের বিরুদ্ধেও স্টোকসের না থাকা ইংল্যান্ডের সমস্যা বাড়াল। সেপ্টেম্বরে ইংল্যান্ডের বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সফর রয়েছে অক্টোবরে টি ২০ বিশ্বকাপের আগে। তারপর অ্যাশেজ। স্টোকসের এই সরে দাঁড়ানো ইংল্যান্ড তো বটেই, চিন্তায় ফেলল বিদেশিদের নিয়ে সমস্যায় জর্জরিত রাজস্থান রয়্যালসকেও।












Click it and Unblock the Notifications