টি ২০ বিশ্বকাপে ভরাডুবি নিয়ে বিরাট-রোহিত-দ্রাবিড়কে ডাকছে বিসিসিআই, ছাঁটাই-সহ কী পরিবর্তন আসতে চলেছে?
টি ২০ বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর দেশে ফিরেছেন ভারতীয় দলের অনেক ক্রিকেটার ও সাপোর্ট স্টাফরা। বাকিরা অস্ট্রেলিয়া থেকেই রওনা দিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের উদ্দেশ্যে। বিশ্বকাপের এই ব্যর্থতা অস্বস্তি বাড়িয়েছে বিসিসিআইয়েরও। আগামীর রূপরেখা ঠিক করতে দ্রুত পারফরম্যান্স রিভিউ মিটিং ডাকা হচ্ছে। বোর্ড সচিব জয় শাহ ছাড়াও ওই বৈঠকে থাকার কথা হেড কোচ রাহুল দ্রাবিড়, অধিনায়ক রোহিত শর্মা ও প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলির।

বৈঠক ডাকছে বিসিসিআই
একটি সর্বভারতীয় দৈনিককে বিসিসিআইয়ের এক কর্তা বলেছেন, ভারতের টি ২০ দলের রোডম্যাপ তৈরি করতেই এই বৈঠক ডাকা হচ্ছে। হঠকারী কোনও পদক্ষেপ করা হবে না। প্রথমে টিম ম্যানেজমেন্ট ও ক্রিকেটারদের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা নেওয়া হবে। সেই মতামতের ভিত্তিতেই কোন পথে ভারতীয় ক্রিকেট এগোবে তা ঠিক করবে বিসিসিআই।

খোলনলচে বদলাচ্ছে
২০২৪ সালের টি ২০ বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে ভারতের টি ২০ দলে বড়সড় রদবদলের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার মিশেলে এবারও ভারতীয় দল কাপ জয়ের ফেভারিট ছিল। কিন্তু ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১০ উইকেটে সেমিফাইনালে পরাজয় অনেক খামতির ইঙ্গিত দিয়েছে। এবারের টি ২০ বিশ্বকাপে ভারতীয় দলের গড় বয়স ছিল ৩০.৬। দীনেশ কার্তিকের বয়স ৩৭, রোহিত শর্মার ৩৫, বিরাট কোহলির ৩৩, রবিচন্দ্রন অশ্বিনের ৩৬, সূর্যকুমার যাদব, মহম্মদ শামি ও ভুবনেশ্বর কুমারের বয়স ৩২। এই ক্রিকেটারদের মধ্যে অনেকেই যে পরবর্তী টি ২০ বিশ্বকাপের দলে থাকবেন না সে ব্যাপারে সংশয় নেই। সেমিফাইনালে ভারতের হয়ে দারুণ লড়াই চালানো হার্দিক পাণ্ডিয়াকেই টি ২০ অধিনায়ক করার পক্ষে জনমত বাড়ছে। অনেকেই মনে করছেন হার্দিকই পারবেন তরুণ ক্রিকেটারদের গ্রুম করে নিতে।

একাধিক ক্রিকেটারকে স্পষ্ট বার্তা
শামি, কার্তিক, অশ্বিন, ভুবি টি ২০ আন্তর্জাতিকে শেষ ম্যাচ যে খেলে ফেলেছেন সেই বার্তা ইতিমধ্যেই তাঁদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম। নজর থাকছে বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মা কোন সিদ্ধান্ত নেন সেদিকেও। হেড কোচ রাহুল দ্রাবিড় ইংল্যান্ডের কাছে পরাজয়ের পর সাংবাদিক সম্মেলনে গিয়ে বলেছিলেন, ওই ম্যাচের পরই সিনিয়রদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়নি। আগামী বিশ্বকাপের আগে প্রচুর খেলা থাকবে। ধাপে ধাপেই বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত হবে দল। হেড কোচ রাহুল দ্রাবিড়কেও টি ২০ দলের দায়িত্বে রাখা হবে কিনা তা স্পষ্ট নয়। ইতিমধ্যেই হরভজন সিং বলেছেন, আইপিএল চ্যাম্পিয়ন গুজরাত টাইটান্সের হেড কোচ আশিস নেহরার মতো খুব বেশিদিন আগে অবসর নেননি, এমন প্রাক্তন ক্রিকেটারকেই কোচ করা উচিত।

ভুল শোধরানো জরুরি
এক বছর সময় পেয়েও টি ২০-র সেট দল তৈরি করতে না পারার খেসারত এবারের টি ২০ বিশ্বকাপে দিতে হয়েছে বলেই ধারণা অনেকের। দ্রাবিড় আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল ও ৫০ ওভারের বিশ্বকাপে সাফল্য এনে দেওয়ার সুযোগ পাবেন। জোর দেওয়া হবে দেশের মাটিতে আগামী বিশ্বকাপের পরিকল্পনায়। টি ২০ বিশ্বকাপের দলের যে সিনিয়ররা ৫০ ওভারের বিশ্বকাপে খেলবেন তাঁদের বেশি সংখ্যক একদিনের আন্তর্জাতিকেই খেলানো হবে। এই সিনিয়রদের টি ২০ ম্যাচে বিশ্রাম দিয়ে ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে রোহিত টেস্ট ও একদিনের আন্তর্জাতিক এবং হার্দিক টি ২০ অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

ব্যাটিং অর্ডার
রোহিত, বিরাট, কার্তিকরা টি ২০ আন্তর্জাতিক না খেলার সিদ্ধান্ত নিলে সুযোগ পেতে পারেন শ্রেয়স আইয়ার, সঞ্জু স্যামসন, শুভমান গিল। লোকেশ রাহুলকেও টিকে থাকতে চেনা ছন্দে ফিরতে হবে। রাহুল ও রোহিত না থাকলে ঈশান কিষাণকে পাকাপাকিভাবে ওপেনার হিসেবে খেলানো হতে পারে। ঋষভ পন্থকেও দেখা যেতে পারে ব্যাটিং অর্ডারে উপরের দিকে। পৃথ্বী শ-ও নিয়মিত সুযোগ পেতে পারেন। স্যামসনকে দিয়ে কার্তিকের বিকল্প হিসেবে ফিনিশারের ভূমিকা পালন করানো হতে পারে।

বোলিং বিভাগ
অস্ট্রেলিয়ায় জসপ্রীত বুমরাহর অভাব ভালোই অনুভূত হয়েছে। বোলিং ব্যর্থতাও ভারতের ভরাডুবির অন্যতম কারণ। বুমরাহকে ভারত নিশ্চিতভাবেই ৫০ ওভারের বিশ্বকাপে চাইবে। ফলে তাঁকে টি ২০-তে কম খেলানো হতে পারে ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের জন্য। বুমরাহর টি ২০ কেরিয়ার নিয়ে কোনও পদক্ষেপ জানা যেতে পারে আগামী বছরের ওডিআই বিশ্বকাপের পর। অর্শদীপ সিং, হর্ষল প্যাটেল, মহম্মদ সিরাজ, উমরান মালিকদের দিয়েই টি ২০-তে পেস আক্রমণ জোরালো করতে পারে ভারত। ভুবি একদিনের বিশ্বকাপে বিবেচিত হবেন না। ফলে তাঁকে তরুণ পেসারদের গ্রুম করাতে রাখা হতে পারে টি ২০ দলের সঙ্গে।












Click it and Unblock the Notifications