ইংল্যান্ডে দলগত অনুশীলনে নেমে পড়া টিম ইন্ডিয়ার বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে পৌঁছানোর রাস্তা
ইংল্যান্ডে দলগত অনুশীলনে নেমে পড়া টিম ইন্ডিয়ার বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে পৌঁছানোর রাস্তা
ইংল্যান্ডে অবশেষ দলগত অনুশীলনে নেমে পড়ল ভারতীয় ক্রিকেট দল। বিসিসিআইয়ের পোস্ট করা এক ভি়ডিওতে বিরাট কোহলি, ঋষভ পন্থ, জসপ্রীত বুমরাহদের একসঙ্গে নেট প্র্যাকটিসে অংশ নিতে দেখা গিয়েছে। তারই আবহে ভারতীয় ক্রিকেট দলের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের জয়যাত্রা দেখে নেওয়া যাক।

বিসিসিআইয়ের ভিডিও ভাইরাল
কোয়ারেন্টাইনের ধাক্কা সামলে ইংল্যান্ডে বুধবারই পুনর্মিলন হয়েছিল টিম ইন্ডিয়ার ক্রিকেটারদের। সেই ছবি নিজেই সোশ্যল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিলেন বিরাট কোহলি। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালের এবার টিম ইন্ডিয়ার দলগত অনুশীলনের ভিডিও পোস্ট করেছে বিসিসিআই। যেখানে বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, চেতেশ্বর পূজারা, অজিঙ্ক রাহানে, ঋষভ পন্থ, শুভমান গিলদের নেটে ব্যাটিং করতে দেখা গিয়েছে। বল হতে আগুন ঝরানোর প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন মহম্মদ শামি, জসপ্রীত বুমরাহ, ইশান্ত শর্মা, মহম্মদ সিরাজ, রবিচন্দ্রণ অশ্বিনরা। সেই আবহে টিম ইন্ডিয়ার বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছানোর রাস্তা দেখে নেওয়া যাক।

২০১৯ সালের লড়াই
১) ২০১৯ সালের অগাস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে তাদেরই মাটিতে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলেছিল টিম ইন্ডিয়া। দুটি ম্যাচই জিতেছিলেন বিরাট কোহলিরা। ভারতের তৃতীয় বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিক করেছিলেন জসপ্রীত বুমরাহ। দুর্দান্ত বোলিং করেছিলেন ইশান্ত শর্মা। শতরান করে ক্যারিবিয়ান মাটিতে ভারতের টেস্ট জয় নিশ্চিত করেছিলেন অজিঙ্ক রাহানে ও হনুমা বিহারী।
২) ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে মুখোমুখি হয়েছিল ভারত। ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল বিরাট কোহলির দল। সিরিজে একটি দ্বিশতরান ও একটি শতরান এসেছিল ময়াঙ্ক আগরওয়ালের ব্যাট থেকে। দ্বিশতরান ও শতরান করেছিলেন রোহিত শর্মা। ২৫৪ রানের অপারজিত ইনিংস খেলেছিলেন বিরাট কোহলি। একটি শতরান করেছিলেন অজিঙ্ক রাহানেও। সিরিজে দুর্দান্ত বোলিং করেছিলেন রবিচন্দ্রণ অশ্বিন ও মহম্মদ শামি।
৩) দেশের প্রথম গোলাপী বলের ম্যাচ সহ ২০১৯ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দুটি টেস্ট ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ভারত। দুটি ম্যাচই জিতেছিল টিম ইন্ডিয়া। মায়াঙ্ক আগরওয়ালের দ্বিশতরান ও বিরাট কোহলির শতরান এই সিরিজের চর্চিত বিষয়। তিন সিরিজ থেকে ৩৬০ পয়েন্ট হাসিল করেছিল টিম ইন্ডিয়া।

২০২০ সালের বিপর্যয়
২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তাদেরই মাটিতে টেস্ট সিরিজে হোয়াইট ওয়াশ হতে হয়েছিল ভারতকে। টিম সাউদি ও কাইল জেমিসনের বিষাক্ত বোলিংয়ের জবাব দিতে পারেননি বিরাট কোহলি, অজিঙ্ক রাহানেরা। বল হাতে ইশান্ত শর্মা এবং মহম্মদ শামি খানিকটা চেষ্টা করলেও তা ভারতের বিপর্যয় ঠেকাতে পারেনি।
|
২০২০-২১ মরসুমে ফিরে আসা
১) ২০২০ সালের ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে অ্যাডিলেড ওভালে চার ম্যাচের সিরিজের প্রথম টেস্টে মুখোমুখি হয়েছিল ভারতীয় দল। দিন-রাতের ওই ম্যাচে শোচনীয় পরাজয়ের মুখ দেখতে হয়েছিল বিরাট কোহলি শিবিরকে। এই ম্যাচের পর পিতৃত্বকালীন ছুটি নিয়ে দেশে ফিরে এসেছিলেন অধিনায়ক বিরাট কোহলি। পরিবর্তে অজিঙ্ক রাহানের নেতৃত্বে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল দল। জিঙ্কসের (১১২) চওড়া ব্যাটে ভর করে মেলবোর্ন টেস্ট জিতেছিল ভারত। সিডনিতে হারা ম্যাচ ড্র করতে সক্ষম হয়েছিল ভারত। সৌজন্যে ঋষভ পন্থ (৯৭), চেতেশ্বর পূজারা, রবিচন্দ্রণ অশ্বিন ও হনুমা বিহারীর নাছোড় ব্যাটিং। ঋষভ, ওয়াশিংটন সুন্দর, শার্দুল ঠাকুরদের ব্যাটে ভর করে ঐতিহসিক ব্রিসবন টেস্ট জিতে বর্ডার-গাভাসকর ট্রফি নিজেদের কাছে রাখতে সক্ষম হয়েছিল ভারত। সিরিজ জুড়ে চোট-আঘাতে জর্জরিত ভারতকে ভরসা জুগিয়েছিলেন মহম্মদ সিরাজ, শার্দুল ঠাকুরের মতো তরুণ তারকারা।
২) ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে চার ম্য়াচের টেস্ট সিরিজে মুখোমুখি হয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট দল। চেন্নাইয়ে প্রথম টেস্ট জিতে গিয়েছিলেন ব্রিটিশ দল। একই মাঠে দ্বিতীয় টেস্ট জিতেছিল ভারত। পরের দুটি টেস্ট জিতে সিরিজ দখল করার পাশাপাশি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে পৌঁছেছিল বিরাট কোহলির দল। একটি শতরানের পাশাপাশি বল হাতে চমকপ্রদ পারফরম্যান্স করে সিরিজ সেরা হয়েছিলেন রবিচন্দ্রণ অশ্বিন। ভারতের হয়ে অভিষেকেই বল হতে কামাল করেছিলেন অক্ষর প্যাটেল। শতরান করেছিলেন রোহিত শর্মা (১৬১)।












Click it and Unblock the Notifications