Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

বাতিল ওয়ার্নার বিশ্বকাপের সেরা, ব্যর্থতা কাটিয়ে অবহেলার জবাব অস্ট্রেলিয়ার, চ্যাম্পিয়ন্স লাকে জড়িয়ে 'হলুদ'?

২০১০ সালে টি ২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেও ট্রফি জিততে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। দুবার হারতে হয়েছিল সেমিফাইনালে। কিন্তু এবার দুবাইয়ে ইতিহাস গড়ল অস্ট্রেলিয়া। টি ২০ বিশ্বকাপে এবার অস্ট্রেলিয়া যে কাপ জিততে পারে, সেটা মনে করেননি অনেকেই। কিন্তু আইসিসি ইভেন্টে যে অজিরা বিপজ্জনক বরাবর, এবার ফের সেই প্রমাণ মিলল। ক্রমাগত নিজেদের খেলাকে উন্নত জায়গায় নিয়ে গিয়ে অবশেষে কাঙ্ক্ষিত কাপ-জয়। আগামী বছর ক্যাঙারুরা নিজেদের দেশে টি ২০ বিশ্বকাপে নামবেন বিশ্বকাপ দখলে রাখার লক্ষ্য নিয়ে। শুধু তাই নয়, এই জয় অ্যাশেজের আগেও চনমনে রাখবে অজিদের।

ব্যর্থতা কাটিয়ে সাফল্য

২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের অগাস্ট অবধি টানা পাঁচটি টি ২০ সিরিজ হেরেছিল অস্ট্রেলিয়া। ইংল্যান্ডে তিন ম্যাচের সিরিজে পরাজয় ১-২ ব্য়বধানে। এরপর গত ডিসেম্বরে দেশের মাটিতে ভারতের কাছে টি ২০ সিরিজে একই ব্যবধানে পরাস্ত হয় অজিরা। চলতি বছর নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়ে পাঁচ ম্যাচের টি ২০ সিরিজে ২-৩ ব্যবধানে পরাজয়ের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও বাংলাদেশ সফরে সিরিজ হার। যদিও পূর্ণশক্তির দল নামাতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া, তারকারা টি ২০ বিশ্বকাপ ও অ্যাশেজের কথা ভেবে বিশ্রাম নেওয়ায়। ২০১৬ সালের টি ২০ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অস্ট্রেলিয়াকে টি ২০ সিরিজে হারিয়েছিল ৪-১ ব্যবধানে। একই ব্যবধানে বাংলাদেশও নিজেদের দেশে হারিয়েছিল অজিদের। কিন্তু বিশ্বকাপের আগে অজিদের মনোবল বেড়েছিল টি ২০-তে বিশ্বের ১ নম্বর দল হওয়ার সময় যাঁরা ছিলেন, সেই তারকারা দলে ফেরায়।

টার্নিং পয়েন্ট

টার্নিং পয়েন্ট

টি ২০ বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভে সেই বাংলাদেশ ম্যাচকেই টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে বেছে নিলেন অস্ট্রেলিয়াকে প্রথমবার টি ২০ বিশ্বকাপ জেতানো অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ। তিনি বলেন, দেশকে প্রথমবার টি ২০ বিশ্বকাপ এনে দিতে পারা আমাদের কাছে বিরাট ব্যাপার। গোটা টুর্নামেন্টে যেভাবে দলের সকলে খেলেছেম তাতে অত্যন্ত গর্বিত। বাংলাদেশ ম্যাচে জয়টা নিঃসন্দেহে টার্নিং পয়েন্ট। কারণ, তখন আমাদের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল। যে লড়াই দরকার ছিল সেটা আমরা করতে পেরেছিলাম। দলগত ও ব্যক্তিগতভাবে ভালো পারফরম্যান্স দেখা গিয়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগেও ডেভিড ওয়ার্নারকে বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়েছিলেন অনেকে। তাঁদের ভুল প্রমাণ করেছেন ওয়ার্নার। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট অ্যাডাম জাম্পা। যেভাবে তিনি খেলা নিয়ন্ত্রণ করেছেন, বড় উইকেটগুলি তুলে নিয়েছেন, জাম্পা সুপার প্লেয়ার। এদিনের ফাইনালে মিচেল মার্শও শুরু থেকেই অসাধারণ খেলেছেন, বিপক্ষের উপর চাপ বজায় রেখেছেন। বিশ্বকাপের আগে ম্যাথু ওয়েডের ফিটনেস নিয়ে সংশয় থাকলেও তিনিও দারুণভাবে নিজের কর্তব্য পালন করেছেন। মার্কাস স্টইনিস আর ওয়েডের জন্যই আমরা সেমিফাইনালে জিততে পেরেছি।

ব্যাটেই জবাব

ব্যাটেই জবাব

ডেভিড ওয়ার্নারের প্রশংসা করেছেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদ দলের বিদায়ী মেন্টর ভিভিএস লক্ষ্মণ। লক্ষ্মণের দলের ওয়ার্নার যেমন দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে বিশ্বকাপের সেরা ক্রিকেটারের সম্মান পেলেন, তেমনই সানরাইজার্স অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন লক্ষ্মণের ভাষায় ক্রিকেটের অন্যতম ক্ল্যাসিক ইনিংস খেলেছেন। কিন্তু এবারের আইপিএলের প্রথমার্ধে ওয়ার্নারের হাত থেকে ক্যাপ্টেন্সি কেড়ে উইলিয়ামসনকে অধিনায়ক করে হায়দরাবাদের ফ্র্যাঞ্চাইজি। বাদ দেওয়া হয়েছিল ওয়ার্নারকে। আইপিএলের দ্বিতীয়ার্ধেও ফের ওয়ার্নারকে বাদ পড়তে হয় খারাপ ফর্মের কারণে। সেই ওয়ার্নারই যাবতীয় অপমানের জবাব দিলেন ব্যাট হাতেই বিশ্বকাপের আসরে।

সেরা ওয়ার্নার

ডেভিড ওয়ার্নারের উপর আগাগোড়া আস্থা রেখেছিল অজি টিম ম্যানেজমেন্ট। আইপিএলে ব্যর্থতার পরও ফিঞ্চ জানিয়েছিলেন, ওয়ার্নারের সঙ্গেই ওপেন করতে নামবেন। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে শূন্য ও ভারতের বিরুদ্ধে এক রান করেন ওয়ার্নার। সুপার টুয়েলভে প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে করেন ১৪। এরপর শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ৬৫, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ১৮, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে অপরাজিত ৮৯ রান করেন। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে ৪৯ রান করার পর এদিন ওয়ার্নারের ব্যাট থেকে এল ৫৩। সাত ম্যাচে ২৮৯ রান করে রইলেন সর্বাধিক রান সংগ্রহকারী বাবর আজম (৩০৩)-এর পরেই। আইপিএলের ব্যর্থতার পর এভাবে ঘুরে দাঁড়ানো প্রসঙ্গে বিশ্বকাপের সেরা ক্রিকেটার ওয়ার্নার বলেন, আমি নিজের খেলায় সন্তুষ্ট ছিলাম। বেসিকস ঠিক রাখায় জোর দিই। শক্ত, সিন্থেটিক উইকেটে বেশি সংখ্যক বল মারার অনুশীলন কাজে দিয়েছে। ২০১০ সালের ফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে টি ২০ সিরিজে পরাজিত হয়ে খুব আঘাত পেয়েছিলাম। তবে আমাদের এই দলে দারুণ ক্রিকেটাররা রয়েছেন। সাপোর্ট স্টাফরাও দারুণ। দেশে-বিদেশে সমর্থকদের সমর্থন উৎসাহ জুগিয়েছে। আমরা সকলেই কাপ জিততে মুখিয়ে ছিলাম। ফাইনালের স্নায়ুর যুদ্ধে যেভাবে জয় ছিনিয়ে এনেছেন সকলে, তা সত্যিই অসাধারণ অভিজ্ঞতা।

মার্শের স্মরণীয় দিন

মার্শের স্মরণীয় দিন

ম্যাচের সেরা মিচেল মার্শের কথায়, এই দলের সঙ্গে গত ছয় সপ্তাহ দারুণ কাটালাম। আজীবন মনে রাখব বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার অভিজ্ঞতার কথা। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরেই আমাকে বলা হয়েছিল টি ২০ বিশ্বকাপে তিনে ব্যাট করার কথা। রাজি হয়ে যাই। যেভাবে কোচিং স্টাফরা পাশে থেকেছেন তাতে তাঁদের ধন্যবাদ জানাই। এদিনের ম্যাচে বড় শট খেলার আগাম কোনও পরিকল্পনা ছিল না। নিজের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলার লক্ষ্যে মাঠে নামি। আবারও বলছি, অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতার সাক্ষী রইলাম। এদিন ৫০ বলে ৭৭ রানে অপরাজিত থাকেন মার্শ। ৬টি চার ও চারটি ছয় মেরেছেন।

হলুদেই সাফল্য

২০০৩ সালের বিশ্বকাপ, ২০০৯ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, ২০১৫ সালের বিশ্বকাপ, ২০২১ সালের টি ২০ বিশ্বকাপ। প্রতি ছয় বছর অন্তর আইসিসি ইভেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার নজির বজায় রাখল অস্ট্রেলিয়া। একইসঙ্গে জল্পনা চলছে লাকি চার্ম হলুদ রং নিয়ে। এবারের আইপিএলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে চেন্নাই সুপার কিংস। এই দুবাইয়েই। তারপর টি ২০ বিশ্বকাপ জিতল অস্ট্রেলিয়া। উল্লেখ্য, দুই দলের জার্সির রংই হলুদ। আর দুই দলেই কমন একজন, জশ হ্যাজলউড। আইপিএলের দারুণ ফর্ম অব্যাহত রেখে এদিনের ফাইনালেও তিনি অসাধারণ বোলিং করলেন। চার ওভারে মাত্র ১৬ রান দিয়ে তিনি পেলেন ড্যারিল মিচেল, গ্লেন ফিলিপস ও কেন উইলিয়ামসনের উইকেট। ফিলিপস ও উইলিয়ামসনকে ফেরালেন একই ওভারে।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+