AUS vs IND: নীতীশের উত্থান প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে, নেপথ্যে এমএসকে প্রসাদের বড় ভূমিকা
AUS vs IND: মেলবোর্ন টেস্টে ভারত যদি পরাজয় এড়াতে পারে তা হবে নীতীশ কুমার রেড্ডির জন্যই। ওয়াশিংটন সুন্দরকে নিয়ে ফলো-অন বাঁচানো। তারপর দায়িত্বশীল শতরান হাঁকিয়ে অপরাজিত থাকা।
একাধিক নজির ভেঙেছেন নীতীশ। তাঁকে ব্যাটিং অর্ডারে উপরে আনার দাবি তুলেছেন সুনীল গাভাসকর, রবি শাস্ত্রীরা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যে মনোভাব দেখিয়েছেন নীতীশ, সেটা ধরে রাখলে তাঁর সামনে পড়ে ভারতীয় দলের সুদীর্ঘ কেরিয়ার।

নীতীশের সেঞ্চুরি হওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছিল সংশয়। ১১৩তম ওভারের শেষ বলে নীতীশ দুই রান নেন। এক রান নিলে নীতীশ স্ট্রাইক ধরে রাখতে পারতেন। পরের ওভারের তৃতীয় বলে প্যাট কামিন্স জসপ্রীত বুমরাহকে আউট করে দেন। ভারতের নবম উইকেট! এরপর বাকি তিন বল কাটিয়ে দেন মহম্মদ সিরাজ।
সিরাজের উইকেট পড়ে গেলে ওই ১ রানের জন্য আক্ষেপ থেকে যেত। ১১৫তম ওভারের তৃতীয় বল মিড অন দিয়ে দৃষ্টিনন্দন চার মারেন। শতরান দেখেন বাহুবলীর মতো সেলিব্রেশন। রবি শাস্ত্রী বলেন, এই শতরান চোখে জল এনে দেওয়ার মতো! এই শতরানে আবেগপ্রবণ এমএসকে প্রসাদ।
এমএসকে প্রসাদ বলেন, ভারতের হয়ে নীতীশের ইনিংস আবেগাচ্ছন্ন লাগছে, বর্ণনার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। জাতীয় নির্বাচক হওয়ার আগে অন্ধ্র ক্রিকেটের ডিরেক্টর ছিলাম। ২০১৩-১৪ সালে রেসিডেন্সিয়াল আকাদেমি চালু করি। প্লেয়ার বাছাই করে তাঁদের খাবার, থাকার জায়গা, পোশাক, কোচিং- সব কিছুর ব্যবস্থা ছিল।
এই আকাদেমিতে সিস্টেমের মধ্যে রেখে ক্রিকেটারদের প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্য ছিল। নীতীশকে বেছে নেওয়া হয়েছিল অনূর্ধ্ব ১৪ আকাদেমির জন্য। মাসে ১৫ হাজার টাকা করে খরচ করা হতো নীতীশের জন্য। নীতীশের বাবা এসে বলেছিলেন, কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাওয়ার কথা। তবে ছেলে যে ক্রিকেটে ভালো করবে সেই বিশ্বাস ছিল মুত্যালা রেড্ডির।
নীতিশের বাবা এমএসকে প্রসাদকে অনুরোধ করেন ছেলের প্রতি যন্ত নেওয়ার জন্য। কয়েকটি বল খেলতে দেখে প্রসাদ বুঝে যান নীতীশের যথেষ্ট প্রতিভা ও দক্ষতা রয়েছে। অনূর্ধ্ব ১৪ আকাদেমি থেকে যাত্রা শুরু করে অনূর্ধ্ব ১৬, অনূর্ধ্ব ১৯ পর্যায়ে খেলেছেন। ২১ বছর বয়সেই পেয়ে গেলেন ভারতের হয়ে প্রথম টেস্ট শতরান।
প্রসাদের মতে, নীতীশ শুধু এই ইনিংস খেলে সকলের মনে দাগ কাটলেন না, নিজের ইমেজও তৈরি করে ফেললেন। আজ স্টেডিয়ামে থাকলে নীতীশকে জড়িয়ে ধরতেন প্রসাদ। তিনি মনে করেন, অস্ট্রেলিয়া সফরের অভিজ্ঞতা নীতীশকে আরও সমৃদ্ধ করবে, আর তাতে সমৃদ্ধ হবে ভারতীয় দলও।
অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে নীতীশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলার বিপুল অভিজ্ঞতা ছিল না। তা সত্ত্বেও যেভাবে তিনি অস্ট্রেলিয়ার সেরা পেসারদের সামলাচ্ছেন, নাথান লিয়ঁর মতো কোয়ালিটি স্পিনারের বিরুদ্ধে দাপুটে ইনিংস খেলছেন তা এক কথায় অবিশ্বাস্য। অনেকে ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ সফল, কিন্তু ভারতীয় ক্রিকেটে ব্যর্থতা সঙ্গী হয়েছে। নীতীশের ক্ষেত্রে কিন্তু বিষয়টি উল্টো।












Click it and Unblock the Notifications