রবি শাস্ত্রীর জাতীয় সম্পদ গাড়িটি নবকলেবরে! পঁচাশিতে জেতা স্মৃতিবিজড়িত অডি কেন ছয় ছক্কার চেয়েও এগিয়ে?
রবি শাস্ত্রী উচ্ছ্বসিত। তার কারণ নিজের সবচেয়ে পছন্দের বস্তুটিকে নবকলেবরে পেয়ে। রবি শাস্ত্রী নিজের ছয় বলে ছয় ছক্কার কীর্তির চেয়েও এগিয়ে রাখেন ১৯৮৫ সালে পুরস্কার হিসেবে পাওয়া বিখ্যাত অডি গাড়িটিকে। এই গাড়ির সঙ্গে জড়িয়ে বহু সুখস্মৃতি। অবশেষে সেই অডি ১০০ লাক্সারি সেডান আট মাস ধরে সারানোর পর যেন ব্র্যান্ড নিউ। তাঁর কন্যা এই প্রথম গাড়িটিকে এই চেহারায় দেখলেন। বসার সুযোগ পেলেন। শাস্ত্রীর কথায়, বৃত্ত সম্পূর্ণ হলো।
|
ঐতিহাসিক গাড়ি
১৯৮৫ সালের ১০ মার্চ মেলবোর্নের এমসিজিতে পাকিস্তানকে ফাইনালে ১৭ বল বাকি থাকতে ৮ উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সুনীল গাভাসকরের নেতৃত্বাধীন ভারত। ফাইনালে এক উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ওপেন করতে নেমে ১৪৮ বলে অপরাজিত ৬৩ রানের ইনিংস খেলেছিলেন রবি শাস্ত্রী। সেই টুর্নামেন্টের ৫ ম্যাচে ১৮২ করেছিলেন সাড়ে ৪৫ গড় রেখে। বল হাতে নিয়েছিলেন ৮ উইকেট। টুর্নামেন্টের সেরার পুরস্কার হিসেবে শাস্ত্রী পেয়েছিলেন অডি ১০০ লাক্সারি সেডান গাড়িটি। ট্রফি জয়ের সেলিব্রেশনে এই গাড়িটির বনেটের উপর চেপে বসেছিলেন মহিন্দর অমরনাথ। কেউ গাড়ির মাথায় উঠে পড়েছিলেন। কেউ আবার গাড়িটির দু-পাশে চেপে ছবি তুলেছিলেন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই গাড়িটিকে ঘিরে রয়েছে অনেক নস্ট্যালজিয়া। এত বছর ধরে গাড়িটি খারাপ অবস্থাতেই ছিল। তবে শাস্ত্রী ঠিক করেছিলেন, এটিকে সারাবেন। আট সময় ধরে চলল পুরানো গাড়িকে নবরূপে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া। গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে গ্যারাজের তরফে শাস্ত্রীকে ফিরিয়ে দেওয়া হলো বিখ্যাত অডি গাড়িটি।
স্মৃতিপটে কত ঘটনা
ফাইনালে ভারতের যখন জিততে দরকার ১৫-২০ রান তখন জাভেদ মিয়াঁদাদ শাস্ত্রীকে বলেছিলেন, "তু বার বার উধার ক্যায়া দেখ রাহা হ্যায়? গাড়ি কো কিউ দেখ রাহা হ্যায়? ওহ নহি মিলনে ওয়ালি হ্যায় তেরে কো" অর্থাৎ "কেন তুই গাড়ির দিকে বারবার তাকাচ্ছিস? ওটা তুই পাবি না।" এরপর ফের গাড়িটির দিকে তাকিয়ে শাস্ত্রী মিয়াঁদাদকে বলেন, জাভেদ, মেরি তরফ হি আল রাহা হ্যায়। অর্থাৎ আমার কাছেই ওই গাড়িটি আসছে। রবির গাড়ির সিটে বসেছিলেন গাভাসকর। পিছনের সিটে কপিল। গাড়িতে পেট্রল বেশি ছিল না। কিন্তু তা মাঠে চক্কর মারার জন্য পর্যাপ্ত ছিল। এরপর শাস্ত্রী গাড়িটি চালাতে থাকেন। গাড়ির মাথায় চড়েছিলেন সদানন্দ বিশ্বনাথ। যাতে স্ক্র্যাচ না পড়ে সেজন্য পা শূন্যে রেখে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে গেলেও জুতোর স্পাইকের কিছু আঁচড় পড়েছিল, শ্যাম্পেন ছড়ানো হয়। পরে অবশ্য শাস্ত্রীর জন্য নতুন গাড়ি পাঠানো হয় অডির তরফে।

দেশে ফেরার পর
গাড়ি তো পেয়েছিলেন। কিন্তু তা অস্ট্রেলিয়া থেকে ভারতে আনতে চিন্তায় পড়ে যান। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী নির্দেশ দিয়েছিলেন, গাড়িটি ভারতে আনতে কোনও কর দিতে হবে না শাস্ত্রীকে। রবি শাস্ত্রী বলেন, একটি জাহাজের কন্টেনারে করে গাড়িটি আনা হয়েছিল। আট থেকে দশ হাজার মানুষ গাড়িটিকে দেখতে বন্দরে ভিড় জমান। তখনও অডি চালানোর মতো হাত পাকেনি শাস্ত্রীর। তাই পাছে কোনও দুর্ঘটনা ঘটে সেটা মাথায় রেখে গাড়ি নিজে চালাননি রবি। অডির তরফেই একজন প্রশিক্ষিত চালককে পাঠানো হয়েছিল। রবি শাস্ত্রী বলেন, গাড়ি ছুটছিল, পাশে বাইক নিয়ে ছুটছিলেন অনেকে। একটা দারুণ সেলিব্রেশন ছিল। আমি এখনও জানি না ওই উচ্ছ্বাসের মধ্যে গাড়িটিতে এতটুকু আঁচড় ছাড়াই কীভাবে বিমানবন্দর থেকে বাড়ি পৌঁছেছিলাম। একটা গাড়ি দেখতে ১০ হাজার মানুষের জমায়েত বুঝিয়ে দেয় এই গাড়িটির গুরুত্ব।

বৃত্ত সম্পূর্ণ
এই গাড়িটিকে নিজের ছয় ছক্কার চেয়েও পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রাখেন রবি শাস্ত্রী। বিদেশেও যখন গিয়েছেন এই গাড়ির বিষয়ে অনেকে খোঁজখবর নিতে এগিয়ে এসেছেন। এর সঙ্গে রবি শাস্ত্রীর বাবা, এমনকী কপিল দেবের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে। তবে শাস্ত্রী বলছেন একটা বৃত্ত সম্পূর্ণ হলো। কারণ, তাঁর কন্যা এই গাড়িটিকে পুরানো চেহারায় এই প্রথম দেখলেন। তাঁকে নিয়ে আগামী দিনে এই গাড়ি নিয়ে ঘোরার পরিকল্পনাও করছেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক ও কোচ।












Click it and Unblock the Notifications