Asia Cup: এশিয়া কাপে ভারতের কীর্তি ছোঁয়ার চ্য়ালেঞ্জ শ্রীলঙ্কার সামনে, কোন বছর কোন দেশ হয়েছে চ্যাম্পিয়ন?
Asia Cup: এশিয়া কাপ শুরু হচ্ছে ৩০ অগাস্ট থেকে। এবার পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় হবে এশিয়া কাপের খেলাগুলি। ভারত সব ম্যাচই খেলবে শ্রীলঙ্কায়। এশিয়া কাপ গত বছর হয়েছে টি ২০ ফরম্যাটে। তার আগে ২০ ওভারের ফরম্যাটে এশিয়া কাপ হয়েছিল ২০১৬ সালে।
টি ২০ ফরম্যাটের এশিয়া কাপে ২০১৬ সালে চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত, গত বছর হয়েছে শ্রীলঙ্কা। ৫০ ওভারের ফরম্যাটে সবচেয়ে বেশিবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত।

১৯৮৪ ও ১৯৮৬ সালে যে এশিয়া কাপ হয়েছিল তাতে অংশগ্রহণকারী দলগুলি একে অপরের বিরুদ্ধে খেলেছিল। যারা বেশি ম্যাচ জিতেছিল চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারাই। ১৯৮৪ সালে ভারত চ্যাম্পিয়ন হয়। ১৯৮৬ সালের এশিয়া কাপে ভারত খেলেনি, সেবার দেশের মাটিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল শ্রীলঙ্কা। ১৯৮৮ সালে এশিয়া কাপে বিজয়ী দল নির্ধারিত হয় ফাইনাল ম্যাচের মাধ্যমে।
১৯৮৮ সালের ৪ নভেম্বর ঢাকায় দিলীপ বেঙ্গসরকারের নেতৃত্বাধীন ভারত ৪৭ বল বাকি থাকতে অর্জুন রণতুঙ্গার শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। ফাইনাল ও সিরিজ সেরার পুরস্কার পেয়েছিলেন নভজ্যোৎ সিং সিধু।
১৯৯১ সালে ৪ জানুয়ারি ইডেনে এশিয়া কাপের ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ১৭ বল বাকি থাকতে ৭ উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত। সেবার শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক ছিলেন রণতুঙ্গা। ফাইনালের সেরার পুরস্কার পান ভারত অধিনায়ক মহম্মদ আজহারউদ্দিন, ৩৯ বলে ৫৪ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত ছিলেন। সেবারের এশিয়া কাপ হয়েছিল ভারতে, পাকিস্তানকে ছাড়াই।

১৯৯৫ সালের ১৪ এপ্রিল এশিয়া কাপের ফাইনালে শারজায় রণতুঙ্গার শ্রীলঙ্কাকে ৪৯ বল বাকি থাকতে ৮ উইকেটে হারিয়েছিল ভারত। ফাইনালে ৮৯ বলে অপরাজিত ৯০ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচের সেরা হন অধিনায়ক আজহার। সিধু অপরাজিত ছিলেন ১০৬ বলে ৮৪ রান করে। সেবার এশিয়া কাপে মোট ১৯৭ রান করে সিরিজ সেরা হয়েছিলেন সিধু।
এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারত প্রথমবার পরাজিত হয় ১৯৯৭ সালে। সেবার কলম্বোয় ২৬ জুলাই অনুষ্ঠিত ফাইনালে সচিন তেন্ডুলকরের নেতৃত্বাধীন ভারত তৎকালীন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কার কাছে পরাস্ত হয়েছিল। শ্রীলঙ্কা জিতেছিল ৭৯ বল বাকি থাকতে, ৮ উইকেটে। ফাইনালে ১০১ বলে অপরাজিত ৮৪ রানের ইনিংস খেলেছিলেন মারভান আতাপাত্তু। টুর্নামেন্টে ২৭২ রান করে সেরার পুরস্কার পেয়েছিলেন অধিনায়ক রণতুঙ্গা।
২০০০ সালের এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠতে পারেনি ভারত। ৭ জুন ঢাকায় অনুষ্ঠিত ফাইনালে পাকিস্তান ৩৯ রানে হারিয়ে দিয়েছিল শ্রীলঙ্কাকে। ফাইনালের সেরা হন মঈন খান, সিরিজ সেরা মহম্মদ ইউসুফ।
২০০৪ সালের এশিয়া কাপের ফাইনালে কলম্বোয় ১ অগাস্ট আতাপাত্তুর নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কার কাছে ২৫ রানে হেরে গিয়েছিল সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ভারত। ফাইনালের সেরা হন আতাপাত্তু, সিরিজ সেরা হন সনৎ জয়সূর্য (২৯৩ রান ও ৪ উইকেট)।
২০০৮ সালের এশিয়া কাপের ফাইনালে করাচিতে ৬ জুলাই শ্রীলঙ্কার কাছে ১০০ রানে হেরে গিয়েছিল ভারত। তখন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক ছিলেন মাহেলা জয়বর্ধনে, ভারতের অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। ১টি মেডেন-সহ ৮ ওভারে ১৩ রান দিয়ে ৬ উইকেট তুলে নিয়ে ভারতকে ১৭৩ রানেই থামিয়ে দেন অজন্তা মেন্ডিস, তিনিই হয়েছিলেন ম্যাচের সেরা। সিরিজ সেরাও তিনি হয়েছিলেন ১৭টি উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতে ৪৬ রান করে।
২০১০ সালের ২৪ জুন এশিয়া কাপের ফাইনালে ডামবুলায় শ্রীলঙ্কাকে ৮১ রানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল মহেন্দ্র সিং ধোনির ভারত। শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক তখন কুমার সঙ্গকারা। দীনেশ কার্তিক ফাইনালে সেরার পুরস্কার পান ৮৪ বলে ৬৬ রানের ইনিংস খেলে। শাহিদ আফ্রিদি হয়েছিলেন সিরিজ সেরা (২৬৫ রান ও ৩ উইকেট)।
২০১২ সালের এশিয়া কাপে তৎকালীন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারত ফাইনালে উঠতে পারেনি। মীরপুরে ২২ মার্চ অনুষ্ঠিত ফাইনালে পাকিস্তান ২ রানে বাংলাদেশকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়। ২০১৪ সালের এশিয়া কাপ ফাইনালে ৮ মার্চ শ্রীলঙ্কা ২২ বল বাকি থাকতে পাকিস্তানকে ৫ উইকেটে হারিয়ে খেতাব জিতেছিল মীরপুরেই।

২০১৬ সালে টি ২০ ফরম্যাটে হওয়া এশিয়া কাপে মীরপুরে ৬ মার্চ বাংলাদেশকে ৭ বল বাকি থাকতে ৮ উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় মহেন্দ্র সিং ধোনির ভারত। শিখর ধাওয়ান ফাইনালে ৪৪ বলে ৬০ রানের ইনিংস খেলে সেরার পুরস্কার পান। বাংলাদেশের সাব্বির রহমান ১৭৬ রান করায় হয়েছিলেন সিরিজ-সেরা।
এশিয়া কাপ শেষবার ৫০ ওভারের ফরম্যাটে হয়েছিল ২০১৮ সালে। ২৮ সেপ্টেম্বর হওয়া ফাইনালে দুবাইয়ে রোহিত শর্মার ভারত শেষ বলে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ৩ উইকেটে জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল। ফাইনালের সেরার পুরস্কার পেয়েছিলেন ১১৭ বলে ১২১ রান করা লিটন দাস। সিরিজ সেরা হয়েছিলেন শিখর ধাওয়ান (৩৪২ রান)।

গত বছরের এশিয়া কাপ হয়েছিল টি ২০ ফরম্যাটে। ১১ সেপ্টেম্বর দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত ফাইনালে পাকিস্তানকে ২৩ রানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় শ্রীলঙ্কা। সবমিলিয়ে ভারত ১৪ বার এশিয়া কাপ খেলে চ্য়াম্পিয়ন হয়েছে ৭ বার, রানার-আপ ৩ বার। শ্রীলঙ্কা ১৫ বার এশিয়া কাপ খেলে ৬ বার খেতাব জিতেছে, রানার-আপ ৬ বার। পাকিস্তান ১৪ বার এশিয়া কাপ খেলে ২ বার চ্যাম্পিয়ন, তিনবার রানার-আপ। বাংলাদেশ ১৪ বার এশিয়া কাপ খেলে তিনবার রানার-আপ হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications