এশিয়া কাপে অবিশ্বাস্য ইনিংস নাজিবের! বাংলাদেশকে উড়িয়ে সুপার ফোরে আফগানিস্তান
আফগানিস্তানের সামনে জয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১২৮ রানের। ১৪ ওভারের শেষে মহম্মদ নবির দল দাঁড়িয়ে ছিল ৬৫ রানে। সেখান থেকে ১৮.৩ ওভারেই আফগানদের স্কোর পৌঁছে গেল ১৩১ রানে। সাত উইকেটে বাংলাদেশকে উড়িয়ে চলতি এশিয়া কাপে প্রথম দেশ হিসেবে সুপার ফোরে পৌঁছে গেল আফগানিস্তান। শ্রীলঙ্কার পর বাংলাদেশকে হারিয়ে। ১৭ বলে ৪৩ রানে অপরাজিত থাকলেন নাজিবুল্লাহ জারদান।

মোসাদ্দেকে মানরক্ষা
বাংলাদেশ টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই অস্বস্তিতে ছিল। প্রথম পাঁচ ব্যাটার রান পাননি। মহম্মদ নঈম ৬, আনামুল হক ৫, অধিনায়ক শাকিব আল হাসান ১১, মুশফিকুর রহিম ১ ও আফিফ হোসেন ১২ রান করেন। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারের মধ্যে ৩ উইকেট পড়ার পর ৬.২ ওভারে বাংলাদশের স্কোর ছিল ৪ উইকেটে ২৮। পঞ্চম উইকেট পড়ে ৫৩ রানে ১৫.৪ ওভারে মাহমুদুল্লাহ (২৭ বলে ২৫) আউট হলে বাংলাদেশের রান দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ৮৯। এরপর মেহেদি হাসান মিরাজকে নিয়ে ঝোড়ো ইনিংস খেলে কিছুটা মানরক্ষা করেন মোসাদ্দেক হোসেন। তিনি সাতে নেমে চারটি চার ও একটি ছয়ের সাহায্যে ৩১ বলে ৪৮ রানে অপরাজিত থাকেন। রশিদ খান ৪ ওভারে ২২ ও মুজিব উর রহমান ৪ ওভারে ২৫ রান দিয়ে তিনটি করে উইকেট দখল করেন।

শারজায় নাজিব-ঝড়
শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ঝোড়ো ব্যাটিং করে দুরন্ত জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল আফগানিস্তান। তবে আজ ব্যাটারদের রান তোলা কঠিন করে দিয়েছিলেন বাংলাদেশের বোলাররা। ১৩তম ওভারে মহম্মদ নবি আউট হলে আফগানিস্তানের স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ৬২। হজরতুল্লাহ জাজাই ২৩, রহমানুল্লাহ গুরবাজ ১১ ও নবি ৮ রান করেন। সেখান থেকে ১৮.৩ ওভারেই নিশ্চিত হলো স্মরণীয় জয়। সৌজন্যে নাজিবউল্লাহ জারদানের বিস্ফোরক ইনিংস। ১৭ বলে ৪৩ রানে অপরাজিত থাকলেন, মেরেছেন ১টি চার ও ৬টি ছক্কা। ইব্রাহিম জারদান ৪১ বলে ৪২ রানে অপরাজিত থাকেন। শাকিব আল হাসান, মোসাদ্দেক হোসেন ও মহম্মদ সৈফুদ্দিন একটি করে উইকেট পেয়েছেন।

আফগানরা সুপার ফোরে
আফগানিস্তান গ্রুপ পর্বের দুটি ম্যাচ জিতে পৌঁছে গিয়েছে সুপার ফোরে। ফলে বৃহস্পতিবার শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের মধ্যে যে জিতবে সে সুপার ফোরে উঠবে বি গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে। কোনও কারণে সেই ম্যাচ ভেস্তে গেলে বাংলাদেশের সুপার ফোরে যাওয়া নিশ্চিত হয়ে যাবে। তার কারণ নেট রান রেট। বাংলাদেশের আফগানিস্তানের কাছে হারের পর নেট রান রেট মাইনাস (-) ০.৭৩১। সেখানে শ্রীলঙ্কার নেট রান রেট মাইনাস (-) ৫.১৭৬। ফলে বৃহস্পতিবারের ম্যাচ দুই দলের কাছেই ডু অর ডাই।

কে কী বললেন?
বাংলাদেশের অধিনায়ক শাকিব আল হাসান ম্য়াচের পর বলেন, শুরুর ৭-৮ ওভারের মধ্যে চার উইকেট পড়ে গেলে কাজ কঠিন হয়ে যায়। তবে বোলাররা দারুণ বোলিং করেছেন। তাঁরাই আমাদের ম্য়াচে ফিরিয়ে এনেছিলেন। আফগানিস্তানের ভালো খেলার কৃতিত্ব প্রাপ্য। জানতাম নাজিবুল্লাহ বিপজ্জনক প্লেয়ার। যে ধরনের উইকেট ছিল তাতে ভেবেছিলাম আমরাই জিতব। কিন্তু কৃতিত্ব আফগান ব্যাটারদের। নাজিবুল্লাহ জারদানের কথায়, উইকেটে বল নীচু হয়ে আসছিল। সোজা হিট করাই লক্ষ্য ছিল। স্বাভাবিক খেলাই খেলেছি। আফগানিস্তানের অধিনায়ক নবির কথায় উঠে এসেছে রশিদ ও মুজিবের মতো বিশ্বমানের স্পিনারদের কথা। প্রথম ১০ ওভারেই তাঁদের বোলিং দলের হাতে রাশ এনে দিয়েছিল। নবি বলেন, শুরুর দিকে উইকেট পাওয়ায় আমরাই এগিয়ে ছিলাম। আর রান তাড়া করার সময়ও আমাদের হাতে ডেথ ওভারের জন্য পাওয়ারহিটাররা ছিলেন। দ্রুত উইকেট না হারালে প্রয়োজনীয় রান পাওয়ারহিটাররা তুলে দেবেন বলে নিশ্চিত ছিলাম।












Click it and Unblock the Notifications