Asia Cup 2023:ভারতের ব্যাটিং বনাম পাক বোলিংয়ের লড়াই, মহারণের আগে জেনে নিন দুই দলের শক্তি-দুর্বলতা
এশিয়া কাপের সুপার ফোরে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে পাকিস্তানের প্রতিপক্ষ ভারত। গত বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হারের বদলা নিতে চাইবেন পাকিস্তান। ভারতকে হারাতে পারলে অনেকটা বাড়বে পাকিস্তানের ফাইনা লে যাওয়ার সুযোগ। অন্যদিকে জয়ের ধারা বজায় রাখতে মরিয়া ভারত। মহারণের আগে দেখে নেওয়া যাক দুই দলের শক্তি দুর্বলতা।
ভারতের শক্তিঃ
শক্তিশালী টপ অর্ডার-শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপ। রোহিত, শুভমান, শ্রেয়স, বিরাট কোহলির মতো বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যানরা রয়েছেন ভারতীয় দলে। এদের মধ্যে একজন সেট হয়ে গেলেই ম্যাচের রঙ বদল করে দিতে পারেন।নেপাল ম্যাচে ফর্মে ফিরে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নিয়েছেন রোহিত-গিল জুটি।

মিডল অর্ডারে ভরসা-পাকিস্তানের বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে সুপার ফ্লপ করেছিল ভারতের টপ অর্ডার। বিরাট-রোহিত-গিল-শ্রেয়স কেউই রান পাননি। কিন্তু সেই ব্যর্থতা ঢেকে দেয় মিডল অর্ডার। ঈশান কিষাণ এবং পাণ্ডিয়া দুই জনেই রান করে দলের স্কোরবোর্ড সচল রাখেন। এই ম্যাচেও আবার ফিরতে পারেন কেএল রাহুল। ফলে মিডল অর্ডারও আরও শক্তিশালী হবে।
ভরসাযোগ্য অলরাউন্ডার- এই বিভাগে ভারতে রয়েছেন পাণ্ডিয়া, জাদেজা, শার্দূল ঠাকুর। তিনজনই ব্যাট বল হাতে সমান দক্ষ, পাকিস্তান ম্যাচে পাণ্ডিয়ার ব্যাটিং ছিল চমকপ্রদ। বড় ম্যাচে রঙ বদলের ক্ষমতা আছে জাড্ডু-পাণ্ডিয়ার।
বোলিং বিভাগ- বুমরাহ, সিরাজ, শার্দূল আছেন পেস অ্যাটাকে সঙ্গে কুলদীপের মতো চায়নাম্যান।গ্রুপ পর্বে পাকিস্তান ম্যাচে কোনও বোলারকেই হাত ঘোরাতে হয়নি। তবে নেপাল ম্যাচে অবশ্য নিজেদের নামের প্রতি সুবিচার করেছেন ভারতীয় বোলাররা।

ভারতের দুর্বলতাঃ
বড় ম্যাচে টপ অর্ডারের ব্যর্থতা- পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে তাসের ঘরের মতোই ভেঙে পড়েছিল ভারতের টপ অর্ডার। শাহীন শাহ আফ্রিদি হ্যারিস রউফদের মোকাবিলা করতে না পারলে রবিবারও বিপদ অপেক্ষা করছে।
রান নেই বিরাটের- এখনও পর্যন্ত রান নেই বিরাট কোহলির ব্যাটে। পাকিস্তান ম্যাচে ৪ রানেই আউট হন, নেপাল ম্যাচে ব্যাট হাতে নামতেই হয়নি। ফলে বড় পরীক্ষা রবিবার বিরাটের সামনে। সেই সঙ্গে পরীক্ষার মুখ শ্রেয়স আইয়ারও।
দল নির্বাচনের রিক্স ফ্যাক্টর- শোনা যাচ্ছে ছন্দে থাকা ইশান কিষাণের জায়গায় আনা হতে পারে রাহুলকে। শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত থিঙ্ক ট্যাঙ্ক নিলে বড় রিক্স হতে পারে।
পরীক্ষিত নয় বোলিং- পাক ম্যাচে বোলিং করতেই হয়নি। এই ম্যাচে খেলবেন ভারতীয় দলের পেসার জসপ্রীত বুমরাহ। তিনি সোমবার নেপালের বিরুদ্ধে খেলতে পারেননি। প্রথম সন্তানের জন্ম উপলক্ষে দেশে ফিরে আসেন।এমকি পাক ম্যাচেও বোলিং করতে হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন পর একদিনের ম্যাচে বোলিং করতে হয়নি তাঁকে।

এবার চোখ রাখা যাক পাকিস্তান ম্যাচে শক্তি দুর্বলতার দিকে।
শক্তিঃ
শক্তিশালী বোলিং-বাঁ হাতি পেসারদের সামনে ভারতীয় ব্যাটারদের দুর্বলতা বার বার দেখা গিয়েছে। পাকিস্তানের শাহিন শাহ আফ্রিদির বিরুদ্ধে রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলিরা সমস্যায় পড়তে পারেন।
বাবর আজম- এই সময়ের বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান। নেপালের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচেই শতরান করেছেন বাবর। শুরু থেকেই ছন্দে রয়েছেন পাক অধিনায়ক। এই ফর্ম ভারতের বিরুদ্ধেও ধরে রাখতে চাইবেন বাবর।
দুর্বলতা
ধারাবাহিকতার অভাব-পাকিস্তানের ব্যাটিং আক্রমণের ধারাবাহিকতার অভাব রয়েছে। কোনও ম্যাচে ৩০০-র বেশি রান তাড়া করেছেন, তো কোনও ম্যাচে ২০০ রানে অল আউট হয়ে গিয়েছেন। তার উপর অতিরিক্ত বাবর নির্ভরতা রয়েছে ব্যাটিং বিভাগে।
স্পিনার না থাকা- প্রথম দিকে প্রতিপক্ষের উইকেট দ্রুত ফেললেও মিডল ওভারে কার্যকরী স্পিনার না থাকায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে পাকিস্তানকে।
মিডল অর্ডারের ব্যর্থতা- পাকিস্তানের মতো ভারতেরও পেস আক্রমণ ভাল। বুমরাহ, মহম্মদ সিরাজ যদি ছন্দে থাকেন তা হলে পাকিস্তানের ক্রিকেটারেরা সমস্যায় পড়তে পারেন। শুরুতে উইকেট হারালে বড় রান করতে সমস্যা হতে পারে পাকিস্তানের।কারণ মিডল অর্ডার ভরসা দিতে পারছে না।












Click it and Unblock the Notifications